ওসমান হাদির হত্যার বিচারসহ নাসীরুদ্দীনের ৮ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা
- Update Time : ০৫:২৩:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১৭২ Time View

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক এবং ঢাকা–৮ আসনে ১১–দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যালয়ের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ৮ দফার এই ইশতেহার উন্মোচন করেন।
‘পাটোয়ারীর অঙ্গীকার, ঢাকা–০৮ হবে জনতার—তোমার-আমার সুরক্ষার’ শিরোনামে ঘোষিত ইশতেহারে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নাগরিক সেবা ও পরিবেশ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইশতেহারের প্রথম দফাতেই ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
ইশতেহারের প্রথম দফায় তিনি বলেন, ঢাকা–৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত সংসদে ও সংসদের বাইরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাপ সৃষ্টি অব্যাহত রাখবেন। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে এটিকেই তিনি প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করবেন।
দ্বিতীয় দফায় ঢাকা–৮ আসনকে চাঁদাবাজি, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত নিরাপদ এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তিনি। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি নাগরিকদের গোপন অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা, মাদকবিরোধী অভিযান, সিসিটিভি নজরদারি, স্ট্রিট লাইট স্থাপন এবং নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অবৈধ দখলদারিত্ব উচ্ছেদ ও প্রাণীদের প্রতি নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি।
তৃতীয় দফায় সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন এনসিপি প্রার্থী। সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোকে দালাল ও সিন্ডিকেটমুক্ত করা, বেসরকারি হাসপাতালের সেবার মান ও ফি কাঠামো নিয়ন্ত্রণ, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন, মানসিক স্বাস্থ্য ও মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সমন্বিত কর্মসূচির কথা ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।
চতুর্থ দফায় বৈষম্যহীন, মানসম্মত ও নিরাপদ শিক্ষা ব্যবস্থার অঙ্গীকার করা হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ, র্যাগিং ও সহিংসতা বিলোপ, আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা, এআই ও কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন এবং খেলাধুলার মাঠ উদ্ধার করে শিক্ষার্থীদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
পঞ্চম দফায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার কথা বলা হয়। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা তৈরি, স্টার্টআপ ফান্ড গঠন, স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার স্থাপন, ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল দক্ষতা প্রশিক্ষণ এবং নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
ষষ্ঠ দফায় নাগরিকবান্ধব ও জনদুর্ভোগমুক্ত ঢাকা–৮ গড়ার লক্ষ্য তুলে ধরা হয়। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংকট নিরসন, যানজট কমাতে আলাদা সময়সূচি, ভিআইপি প্রটোকলের নামে অযথা জনভোগান্তি বন্ধ, দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি এবং নাগরিক সেবা সহজীকরণের অঙ্গীকার করা হয়।
সপ্তম দফায় আগামী প্রজন্মের জন্য পরিবেশবান্ধব ঢাকা–৮ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, জলাবদ্ধতা নিরসন, বিল্ডিং কোড বাস্তবায়ন এবং তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সম্পৃক্ত করে পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগের কথা বলা হয়।
অষ্টম ও শেষ দফায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজেকে ‘জনতার এমপি, জনতার সেবক’ হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ক্ষমতাকে এলিট ও জমিদার গোষ্ঠীর হাত থেকে সাধারণ মানুষের কাতারে ফিরিয়ে আনাই তাঁর লক্ষ্য। নির্বাচিত হলে হটলাইন ও ওয়ার্ডভিত্তিক ওয়ান-স্টপ সেবা কেন্দ্র চালুর মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখার অঙ্গীকার করেন তিনি।
















