সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৬টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে জামায়াতের ৪১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:৫৭:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৩১ Time View

রাষ্ট্র পরিচালনায় যুব সমাজকে অগ্রাধিকার, নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিতকরণ, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সমাজ গঠন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান—এই মূল লক্ষ্য সামনে রেখে ২৬টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর প্রাধান্য দিয়ে ৪১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, এই ইশতেহার একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনের রূপরেখা।

ইশতেহারে বলা হয়েছে, ‘জাতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে ভিত্তি করে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না। একই সঙ্গে ইনসাফভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার করা হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যুবকদের ক্ষমতায়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর। পাশাপাশি নারীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন করে মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও স্মার্ট সমাজ গঠনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিশেষ করে প্রযুক্তি, কৃষি, শিল্প ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। সরকারি চাকরিতে বিনামূল্যে আবেদন, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ এবং সব ধরনের বৈষম্য দূর করার অঙ্গীকারও রয়েছে।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাংকিংসহ সার্বিক আর্থিক খাত সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগবান্ধব ও স্বচ্ছ টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিসহ সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার রয়েছে।

৪১ দফা ইশতেহারের খাতভিত্তিক অগ্রাধিকার

ইশতেহারে রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালনার প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ খাত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—শাসনব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার, রাজনৈতিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন, কার্যকর জাতীয় সংসদ, নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার এবং জবাবদিহিতামূলক জনপ্রশাসনের মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিতকরণ। স্থানীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করা, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া এবং স্বরাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলার মৌলিক উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আইন ও বিচারব্যবস্থা, তথ্য ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষানীতিতে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও খনিজ সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা, আত্মমর্যাদাশীল অর্থনীতি, বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটখাত উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাও ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সংস্কার, সংস্কৃতি, ধর্ম ও নৈতিকতার বিকাশ, যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নয়ন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, গৃহায়ণ, ভূমিব্যবস্থাপনা, যুব ও ক্রীড়া, তথ্যপ্রযুক্তি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ, সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের উন্নয়ন, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই বিপ্লবের চেতনা সংরক্ষণ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর নেতারা বলছেন, এই ৪১ দফা ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি জবাবদিহিমূলক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

২৬টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে জামায়াতের ৪১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

Update Time : ০৬:৫৭:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাষ্ট্র পরিচালনায় যুব সমাজকে অগ্রাধিকার, নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিতকরণ, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সমাজ গঠন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান—এই মূল লক্ষ্য সামনে রেখে ২৬টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর প্রাধান্য দিয়ে ৪১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, এই ইশতেহার একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনের রূপরেখা।

ইশতেহারে বলা হয়েছে, ‘জাতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে ভিত্তি করে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না। একই সঙ্গে ইনসাফভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার করা হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যুবকদের ক্ষমতায়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর। পাশাপাশি নারীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন করে মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও স্মার্ট সমাজ গঠনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিশেষ করে প্রযুক্তি, কৃষি, শিল্প ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। সরকারি চাকরিতে বিনামূল্যে আবেদন, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ এবং সব ধরনের বৈষম্য দূর করার অঙ্গীকারও রয়েছে।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাংকিংসহ সার্বিক আর্থিক খাত সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগবান্ধব ও স্বচ্ছ টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিসহ সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার রয়েছে।

৪১ দফা ইশতেহারের খাতভিত্তিক অগ্রাধিকার

ইশতেহারে রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালনার প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ খাত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—শাসনব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার, রাজনৈতিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন, কার্যকর জাতীয় সংসদ, নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার এবং জবাবদিহিতামূলক জনপ্রশাসনের মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিতকরণ। স্থানীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করা, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া এবং স্বরাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলার মৌলিক উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আইন ও বিচারব্যবস্থা, তথ্য ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষানীতিতে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও খনিজ সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা, আত্মমর্যাদাশীল অর্থনীতি, বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটখাত উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাও ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সংস্কার, সংস্কৃতি, ধর্ম ও নৈতিকতার বিকাশ, যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নয়ন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, গৃহায়ণ, ভূমিব্যবস্থাপনা, যুব ও ক্রীড়া, তথ্যপ্রযুক্তি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ, সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের উন্নয়ন, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই বিপ্লবের চেতনা সংরক্ষণ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর নেতারা বলছেন, এই ৪১ দফা ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি জবাবদিহিমূলক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।