সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারাই গুপ্ত যারা ১৯ বছর বিদেশে পালিয়ে ছিল: জামায়াত নেত্রী

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৩:০১:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১২৮ Time View

 

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতাকর্মী কখনো বিদেশে পালিয়ে ছিলেন না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন। তিনি বলেন, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের মধ্য দিয়েই জামায়াত জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়ে গেছে। বরং যারা দীর্ঘ ১৯ বছর বিদেশে অবস্থান করে রাজনৈতিক বাস্তবতা থেকে দূরে ছিল এবং ফ্যাসিবাদের পতনের পর লন্ডন থেকে দেশে ফিরেছে, তারাই প্রকৃত অর্থে ‘গুপ্ত’ ছিল।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে মহিলা জামায়াত আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা-৪ আসনে নির্বাচনী প্রচারণাকালে এক নারী নেত্রীর ওপর হামলাসহ সারাদেশে নারীদের ওপর সহিংসতার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা নির্যাতনের মুখেও দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়নি। আন্দোলনের পথে থেকে তারা ত্যাগ স্বীকার করেছে। এই সংগ্রামে জামায়াতের শীর্ষ ১১ জন নেতাসহ অসংখ্য নেতাকর্মী শাহাদাত বরণ করেছেন। হাজারো মানুষের জীবন ও রক্তের বিনিময়ে স্বৈরশাসনের পতন ঘটেছে। এ দেশের জনগণ দেখেছে—কারা মাঠে ছিল, আর কারা বিদেশে বসে রাজনীতি করেছে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি দমন করার চেষ্টা করা হয়েছে, সামনে আসতে দেওয়া হয়নি। তবুও দলটি থেমে থাকেনি। সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে জামায়াত। জনগণ নিজেরাই বিচার করেছে, কে জনগণের পাশে ছিল এবং কে নিরাপদ আশ্রয়ে বিদেশে অবস্থান করেছিল।

নারী নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা বলে জামায়াতের নারী কর্মী নেই, তারা বাস্তবতা জানে না। জামায়াতের নারী সংগঠন আজ সুসংগঠিত, শক্তিশালী ও ব্যাপক। জামায়াতের নারী কর্মীদের সামনে পেলে অনেকেই পালানোর পথ খুঁজবে।

সমাবেশে তিনি নারীদের ওপর হামলা ও হিজাব খুলে দেওয়ার ঘটনাকে বর্বরতা হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এসব ঘটনা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির কর্মীরা নারীদের সঙ্গে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় কথা বলছে, যা প্রকাশ করাও দুঃখজনক। অথচ দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে তৃণমূল পর্যন্ত এসব ঘটনার বিরুদ্ধে কার্যকর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে প্রতীয়মান হয়, একটি দল সংগঠিতভাবে নারীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করার পথে হাঁটছে।

তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না। নারীর নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষায় দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় নারী সমাজকে রাজপথে নামতে বাধ্য হতে হবে।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-৪ আসনের পরিচালিকা রাবেয়া খানমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ডা. শিরিন আক্তার রুনা এবং মহানগরীর মহিলা বিভাগের কর্মপরিষদ সদস্য তানহা আজমি। আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৪ আসনের সদস্য সচিব নার্গিস খান, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য কানিজ ফাতেমা, সেলিনা আক্তারসহ বিভিন্ন থানার নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, যে দলের নেতাকর্মীদের কাছে ক্ষমতার আগেই মা-বোন নিরাপদ নয়, তারা ক্ষমতায় গেলে দেশের জানমালের নিরাপত্তা থাকবে না। নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিপক্ষের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হলেও কমিশন ও প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কমিশন ও প্রশাসন পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা পালন করে, তবে জামায়াতে ইসলামী জনগণের পক্ষে অবস্থান নিতে বাধ্য হবে। নারীদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান নেতৃবৃন্দ।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

তারাই গুপ্ত যারা ১৯ বছর বিদেশে পালিয়ে ছিল: জামায়াত নেত্রী

Update Time : ০৩:০১:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতাকর্মী কখনো বিদেশে পালিয়ে ছিলেন না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন। তিনি বলেন, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের মধ্য দিয়েই জামায়াত জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়ে গেছে। বরং যারা দীর্ঘ ১৯ বছর বিদেশে অবস্থান করে রাজনৈতিক বাস্তবতা থেকে দূরে ছিল এবং ফ্যাসিবাদের পতনের পর লন্ডন থেকে দেশে ফিরেছে, তারাই প্রকৃত অর্থে ‘গুপ্ত’ ছিল।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে মহিলা জামায়াত আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা-৪ আসনে নির্বাচনী প্রচারণাকালে এক নারী নেত্রীর ওপর হামলাসহ সারাদেশে নারীদের ওপর সহিংসতার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা নির্যাতনের মুখেও দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়নি। আন্দোলনের পথে থেকে তারা ত্যাগ স্বীকার করেছে। এই সংগ্রামে জামায়াতের শীর্ষ ১১ জন নেতাসহ অসংখ্য নেতাকর্মী শাহাদাত বরণ করেছেন। হাজারো মানুষের জীবন ও রক্তের বিনিময়ে স্বৈরশাসনের পতন ঘটেছে। এ দেশের জনগণ দেখেছে—কারা মাঠে ছিল, আর কারা বিদেশে বসে রাজনীতি করেছে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি দমন করার চেষ্টা করা হয়েছে, সামনে আসতে দেওয়া হয়নি। তবুও দলটি থেমে থাকেনি। সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে জামায়াত। জনগণ নিজেরাই বিচার করেছে, কে জনগণের পাশে ছিল এবং কে নিরাপদ আশ্রয়ে বিদেশে অবস্থান করেছিল।

নারী নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা বলে জামায়াতের নারী কর্মী নেই, তারা বাস্তবতা জানে না। জামায়াতের নারী সংগঠন আজ সুসংগঠিত, শক্তিশালী ও ব্যাপক। জামায়াতের নারী কর্মীদের সামনে পেলে অনেকেই পালানোর পথ খুঁজবে।

সমাবেশে তিনি নারীদের ওপর হামলা ও হিজাব খুলে দেওয়ার ঘটনাকে বর্বরতা হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এসব ঘটনা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির কর্মীরা নারীদের সঙ্গে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় কথা বলছে, যা প্রকাশ করাও দুঃখজনক। অথচ দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে তৃণমূল পর্যন্ত এসব ঘটনার বিরুদ্ধে কার্যকর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে প্রতীয়মান হয়, একটি দল সংগঠিতভাবে নারীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করার পথে হাঁটছে।

তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না। নারীর নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষায় দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় নারী সমাজকে রাজপথে নামতে বাধ্য হতে হবে।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-৪ আসনের পরিচালিকা রাবেয়া খানমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ডা. শিরিন আক্তার রুনা এবং মহানগরীর মহিলা বিভাগের কর্মপরিষদ সদস্য তানহা আজমি। আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৪ আসনের সদস্য সচিব নার্গিস খান, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য কানিজ ফাতেমা, সেলিনা আক্তারসহ বিভিন্ন থানার নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, যে দলের নেতাকর্মীদের কাছে ক্ষমতার আগেই মা-বোন নিরাপদ নয়, তারা ক্ষমতায় গেলে দেশের জানমালের নিরাপত্তা থাকবে না। নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিপক্ষের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হলেও কমিশন ও প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কমিশন ও প্রশাসন পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা পালন করে, তবে জামায়াতে ইসলামী জনগণের পক্ষে অবস্থান নিতে বাধ্য হবে। নারীদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান নেতৃবৃন্দ।