নারীর নেতৃত্ব কোরআনের পরিপন্থী: জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি
- Update Time : ০৮:৫১:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১৪০ Time View

জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নেসা সিদ্দীকা বলেছেন, নারীরা জামায়াতের শীর্ষ পদে যেতে পারবেন না—এই নীতির ভিত্তিতেই তারা রাজনীতি করেন। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
কোরআনের ব্যাখ্যা তুলে ধরে নুরুন্নেসা সিদ্দীকা বলেন, নারীর নেতৃত্ব কোরআনের পরিপন্থী। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে পুরুষই নারীর পরিচালক। যেহেতু জামায়াতে ইসলামী একটি ইসলামী সংগঠন, তাই এখানে নারীরা পরিচালক বা শীর্ষ পদে যেতে পারবেন না। এ বিষয়টি মেনেই তারা রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
তিনি আরও বলেন, শীর্ষ পদে নারী আসা জামায়াতের কাছে মুখ্য বিষয় নয়। মূল বিষয় হলো নারীদের অধিকার সঠিকভাবে আদায় হচ্ছে কি না। গত ৫৪ বছরে দেশে দুইজন নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, কিন্তু তাতে কি নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি। তার ভাষায়, জামায়াত এমন নেতৃত্ব চায়, যারা মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক হবে।
নুরুন্নেসা সিদ্দীকা জানান, জামায়াতে ইসলামীর মজলিসে শুরার উপদেষ্টা কমিটিতে প্রায় ৪৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধি রয়েছেন এবং স্থানীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কার্যক্রমে নারীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন।
এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান নির্বাচন কমিশনে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে, কেবল তারাই যেন নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করে। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে শান্তি কমিটি গঠন করা হচ্ছে, যদিও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে—এ বিষয়ে তারা অবগত নয়।
বিএনপির এই অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় নুরুন্নেসা সিদ্দীকা বলেন, সুস্থ কোনো দল কিংবা সুস্থ চিন্তার মানুষ শান্তি কমিটি নিয়ে কথা বলতে পারে না।
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেত্রী ও মহিলা বিভাগের প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে ছিলেন মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি জেনারেল নেসা সিদ্দীকা, সহকারী সেক্রেটারি সাইদা রহমান এবং রাজনৈতিক বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত ডা. হাবিবা চৌধুরী।
বৈঠক শেষে ডা. হাবিবা চৌধুরী বলেন, দেশের মোট ভোটারের প্রায় ৫০ শতাংশ নারী। তারা একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে চান। গত ১৫-১৬ বছর ধরে দেশের অনেক মা-বোন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। এবার সেই সুযোগ নষ্ট করতে একটি মহল গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি জানান, দেশের অন্তত ১৫টি স্থানে নারীদের ওপর হামলার সচিত্র নথিপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। হাবিবা চৌধুরী বলেন, ভয় দেখিয়ে নারীদের দমিয়ে রাখা যাবে না। নারীরা অবলা নয়, তারা সাহসী। যেখানে বাধা আসবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে—ইনশাআল্লাহ।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জামায়াতের নারী কর্মীরা ভোটের প্রচারণায় অংশ নিতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকির মুখে পড়ছেন। এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একাউন্ট হ্যাক হওয়ার বিষয়টিও নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে এবং বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “জামায়াত আমির যখন নারীদের শিক্ষা ও অধিকার নিয়ে কথা বলছেন, তখনই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার একাউন্ট হ্যাক করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া নির্বাচন কমিশন ও সরকারের দায়িত্ব।”
উল্লেখ্য, গত শনিবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) একাউন্ট থেকে নারীদের নিয়ে একটি অবমাননাকর পোস্ট করা হয়। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, একাউন্ট হ্যাক করে ওই পোস্টটি দেওয়া হয়েছিল।
এ ঘটনায় শনিবার ভোররাতে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন দলটির নির্বাচন প্রচারণা টিমের সদস্য ও ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম।
















