সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আপনারা কোনো রাজনৈতিক দলের গোলাম হবেন না: কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে হাসনাত

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০২:৫৯:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১২২ Time View

প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তিকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়—এমন মন্তব্য করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, আপনারা মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে দেশের মানুষের সেবা করার জন্য চাকরিতে এসেছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের দাস হতে নয়। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকুন, কোনো রাজনৈতিক দলের গোলাম হবেন না।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাত ৭টায় কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে তিতাস উপজেলার গাজীপুর খান মডেল সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, প্রশাসনের সহায়তা, এমনকি কামান-গোলাবারুদ দিয়েও কাউকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখা যায় না। জনগণ যখন জাগে, তখন অন্যায় ও জুলুম আল্লাহর জমিনে ধুলিসাৎ হয়ে যায়। গত ১৭ বছরে প্রশাসনের ওপর মানুষের যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন সেই আস্থা পুনরুদ্ধারের বড় পরীক্ষা।

সেনাবাহিনীর ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীর সদস্যরা জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, দেশের সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের হারানো সম্মান ও গৌরব আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে পুনরুদ্ধার করবেন। তিনি আরও দাবি করেন, ২০০৯ সালে পিলখানায় দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাদের হত্যার যথাযথ জবাবও জনগণ সেই নির্বাচনের মাধ্যমে দেবে।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের সদস্যরা কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব করবেন না এবং জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়ে সুষ্ঠু ভোট পরিচালনায় ভূমিকা রাখবেন। তা না হলে দেশ দীর্ঘ সময়ের জন্য পিছিয়ে পড়বে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

মিডিয়ার ভূমিকা নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের কিছু গণমাধ্যম এখনো একটি বিশেষ দলকে সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা নারী সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ, তাদের হাতে বাংলাদেশ নিরাপদ নয়। ক্ষমতায় গেলে তারা পুরো দেশকে বিপন্ন করে তুলবে।

স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, হোমনা-তিতাস এলাকায় বালুখেকো, ভণ্ড শিক্ষক ও কমিটি বাণিজ্যের কারণে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। স্থানীয় তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীরাই এসব অভিযোগ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। মেঘনায় অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের রাজনীতি থেকে উৎখাত করার আহ্বান জানান তিনি।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এখন সময় এসেছে জবাব দেওয়ার। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা-২ আসনে ১১ দলীয় জোট ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মো. নাজিম উদ্দীন মোল্লা। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। এতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপনারা কোনো রাজনৈতিক দলের গোলাম হবেন না: কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে হাসনাত

Update Time : ০২:৫৯:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তিকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়—এমন মন্তব্য করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, আপনারা মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে দেশের মানুষের সেবা করার জন্য চাকরিতে এসেছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের দাস হতে নয়। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকুন, কোনো রাজনৈতিক দলের গোলাম হবেন না।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাত ৭টায় কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে তিতাস উপজেলার গাজীপুর খান মডেল সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, প্রশাসনের সহায়তা, এমনকি কামান-গোলাবারুদ দিয়েও কাউকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখা যায় না। জনগণ যখন জাগে, তখন অন্যায় ও জুলুম আল্লাহর জমিনে ধুলিসাৎ হয়ে যায়। গত ১৭ বছরে প্রশাসনের ওপর মানুষের যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন সেই আস্থা পুনরুদ্ধারের বড় পরীক্ষা।

সেনাবাহিনীর ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীর সদস্যরা জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, দেশের সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের হারানো সম্মান ও গৌরব আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে পুনরুদ্ধার করবেন। তিনি আরও দাবি করেন, ২০০৯ সালে পিলখানায় দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাদের হত্যার যথাযথ জবাবও জনগণ সেই নির্বাচনের মাধ্যমে দেবে।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের সদস্যরা কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব করবেন না এবং জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়ে সুষ্ঠু ভোট পরিচালনায় ভূমিকা রাখবেন। তা না হলে দেশ দীর্ঘ সময়ের জন্য পিছিয়ে পড়বে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

মিডিয়ার ভূমিকা নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের কিছু গণমাধ্যম এখনো একটি বিশেষ দলকে সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা নারী সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ, তাদের হাতে বাংলাদেশ নিরাপদ নয়। ক্ষমতায় গেলে তারা পুরো দেশকে বিপন্ন করে তুলবে।

স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, হোমনা-তিতাস এলাকায় বালুখেকো, ভণ্ড শিক্ষক ও কমিটি বাণিজ্যের কারণে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। স্থানীয় তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীরাই এসব অভিযোগ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। মেঘনায় অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের রাজনীতি থেকে উৎখাত করার আহ্বান জানান তিনি।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এখন সময় এসেছে জবাব দেওয়ার। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা-২ আসনে ১১ দলীয় জোট ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মো. নাজিম উদ্দীন মোল্লা। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। এতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।