যারা নিজেরাই বছর বছর আড়ালে ছিল, তারাই আজ মজলুমদের ‘গুপ্ত’ বলছে: জামায়াত আমির
- Update Time : ১০:১৪:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৫০ Time View

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা দীর্ঘদিন নিজেদের অবস্থান গোপন রেখে চলেছে, তারাই এখন নির্যাতিত ও মজলুম মানুষদের উদ্দেশ করে নানা মন্তব্য করছে। অন্যের দিকে অভিযোগ তোলার আগে নিজেদের অতীত ও অবস্থান পর্যালোচনা করা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, অন্যের মুখের দিকে না তাকিয়ে আগে নিজের মুখ আয়নায় দেখা প্রয়োজন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ঢাকার কেরানীগঞ্জে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, অতীত নিয়ে বিতর্কের কোনো শেষ নেই। কে কখন কী করেছে— তা নিয়ে ‘গুপ্ত’, ‘সুপ্ত’সহ নানান বিশেষণ ব্যবহার করা হচ্ছে, যা রাজনীতির সুস্থ পরিবেশের জন্য ইতিবাচক নয়।
জামায়াত আমির অভিযোগ করে বলেন, তারা যে পথ ধরে এগোতে চায়, কিছু রাজনৈতিক দল সেখানে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি ১২ তারিখের গণভোট প্রসঙ্গ টেনে বলেন, জুলাই সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে গণভোট ঘোষণার পর প্রথমে প্রশ্ন তোলা হয়— গণভোটের প্রয়োজন কী। পরে ধাক্কা খেয়ে মেনে নিলেও আবার বলা হয় এটি নির্বাচনের সঙ্গে একসঙ্গে হতে হবে। তাদের দল চেয়েছিল গণভোট আগে হলে সেটি স্বচ্ছ হবে এবং পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনও গ্রহণযোগ্য হবে। কিন্তু দাবি মেনে নেওয়ার পরও কেউ কেউ গণভোট অস্বীকার করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এতদিন উচ্চস্বরে বিরোধিতা করার পর এখন যখন জনগণ জবাব চাইছে— তারা নতুন বাংলাদেশ চায় নাকি পুরোনো ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থায় ফিরতে চায়— তখন ধীরে ধীরে অবস্থান বদলাতে শুরু করেছে। তিনি মন্তব্য করেন, জাতির চাপ এলে শেষ পর্যন্ত কেউই তা এড়াতে পারে না।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ না হলে ২০২৬ সালের নির্বাচন নিয়ে আলোচনাই হতো না; বরং নির্বাচন হতো আরও পরে। একদিকে দ্রুত নির্বাচন চাওয়া, অন্যদিকে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা অস্বীকার করা— এই দ্বৈত অবস্থান গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও আর্থিক লুটপাটমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই তারা কাজ করছে। নারীর মর্যাদা রক্ষা, শিশু ও প্রবীণদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংক ও শেয়ারবাজারে অনিয়ম বন্ধ করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
















