সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘হ্যাঁ’ ভোটে বাংলাদেশ জিতবে, ‘না’ ভোটে পরাজিত হবে: ডা. শফিকুর রহমান

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:১৮:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৩৭ Time View

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কিছু রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ ভোট’-এর কথা বললেও বাস্তবে তারা এতে আন্তরিক নয়। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং পুরো জাতিকে বিজয়ী করতেই রাজনীতি করছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষায়, ‘হ্যাঁ ভোটে বাংলাদেশ জিতবে, না ভোটে বাংলাদেশ পরাজিত হবে।’ এ জন্য তিনি সবাইকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী নির্বাচনে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, যেখানে মা-বোনদের ইজ্জত ও সম্মানের ওপর আঘাত আসবে, সেখানে সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, যেসব রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে নারীদের কল্যাণের কথা বলে নানা প্রতিশ্রুতি দেয়, বাস্তবে তারাই নির্বাচনী মাঠে নারী কর্মীদের লাঞ্ছিত করছে। তাঁর মতে, একদিকে ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলা, অন্যদিকে মা-বোনদের গায়ে হাত তোলা—এই দ্বিচারিতা গ্রহণযোগ্য নয়। যারা নারীদের সম্মান দিতে পারে না, তারা ক্ষমতায় গেলে কী করবে, তা সহজেই অনুমেয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে বেকারত্ব দূরীকরণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, দেশের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করা হবে। নারীদের হাতে শুধু ফ্যামিলি কার্ড তুলে না দিয়ে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও যোদ্ধাদের যথাযথ মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় সম্মান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।

চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, লুটপাট ও দখলবাজির বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী অতীতের মতো ভবিষ্যতেও আপসহীন থাকবে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা সংস্কারের পক্ষে ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। তাঁর দাবি, জামায়াতের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় কোনো কম-বেশি হবে না; ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে প্রত্যেককে তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

যশোর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমলে প্রথম জেলা ও মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রথম হানাদারমুক্ত জেলা হিসেবে যশোরের মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে জামায়াতে ইসলামী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনো দলের নয়, জনগণের পক্ষে থেকে নির্ভয়ে দায়িত্ব পালনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

জুলাই বিপ্লবের চেতনায় দেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে তরুণদের বাংলাদেশ।

জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। এ ছাড়া জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘হ্যাঁ’ ভোটে বাংলাদেশ জিতবে, ‘না’ ভোটে পরাজিত হবে: ডা. শফিকুর রহমান

Update Time : ০৫:১৮:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কিছু রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ ভোট’-এর কথা বললেও বাস্তবে তারা এতে আন্তরিক নয়। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং পুরো জাতিকে বিজয়ী করতেই রাজনীতি করছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষায়, ‘হ্যাঁ ভোটে বাংলাদেশ জিতবে, না ভোটে বাংলাদেশ পরাজিত হবে।’ এ জন্য তিনি সবাইকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী নির্বাচনে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, যেখানে মা-বোনদের ইজ্জত ও সম্মানের ওপর আঘাত আসবে, সেখানে সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, যেসব রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে নারীদের কল্যাণের কথা বলে নানা প্রতিশ্রুতি দেয়, বাস্তবে তারাই নির্বাচনী মাঠে নারী কর্মীদের লাঞ্ছিত করছে। তাঁর মতে, একদিকে ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলা, অন্যদিকে মা-বোনদের গায়ে হাত তোলা—এই দ্বিচারিতা গ্রহণযোগ্য নয়। যারা নারীদের সম্মান দিতে পারে না, তারা ক্ষমতায় গেলে কী করবে, তা সহজেই অনুমেয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে বেকারত্ব দূরীকরণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, দেশের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করা হবে। নারীদের হাতে শুধু ফ্যামিলি কার্ড তুলে না দিয়ে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও যোদ্ধাদের যথাযথ মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় সম্মান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।

চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, লুটপাট ও দখলবাজির বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী অতীতের মতো ভবিষ্যতেও আপসহীন থাকবে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা সংস্কারের পক্ষে ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। তাঁর দাবি, জামায়াতের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় কোনো কম-বেশি হবে না; ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে প্রত্যেককে তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

যশোর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমলে প্রথম জেলা ও মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রথম হানাদারমুক্ত জেলা হিসেবে যশোরের মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে জামায়াতে ইসলামী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনো দলের নয়, জনগণের পক্ষে থেকে নির্ভয়ে দায়িত্ব পালনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

জুলাই বিপ্লবের চেতনায় দেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে তরুণদের বাংলাদেশ।

জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। এ ছাড়া জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।