নারায়ণগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থীর স্ত্রীকে হুমকি: ‘একেবারে খাইয়া লামু’ বলা যুবদল নেতার বাসায় যৌথবাহিনীর অভিযান
- Update Time : ০৯:৫৭:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৪৫ Time View

নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর–বন্দর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর স্ত্রী ও নির্বাচনী এজেন্টকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় আলোচনায় আসা যুবদল নেতা হুমায়ূন কবিরের বাসায় যৌথবাহিনীর অভিযান চালানো হয়েছে। তবে অভিযানে কাউকে আটক করা হয়নি।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে বন্দরের আমিন আবাসিক এলাকায় হুমায়ূন কবিরের বাসভবন এবং বন্দর খেয়াঘাট এলাকায় অবস্থিত রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পুলিশ ও যৌথবাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন।
এর আগে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদের স্ত্রী ও নির্বাচনী এজেন্ট মোসা. নার্গিস আক্তারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বন্দর থানা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ূন কবির এবং যুবদলকর্মী হিসেবে পরিচিত সজিব নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগে নার্গিস আক্তার উল্লেখ করেন, গত শুক্রবার সকালে বন্দর খেয়াঘাট এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে বিলবোর্ড স্থাপন করতে গেলে প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী আবুল কালামের লোকজন বাধা দেয় এবং মারমুখী আচরণ করে। এতে সেখানে বিলবোর্ড স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের আমিন আবাসিক এলাকায় গণসংযোগ চালানোর সময়ও একই প্রার্থীর সমর্থকদের বাধার মুখে পড়েন তিনি।
নার্গিস আক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী, পথচারীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে গণসংযোগকালে প্রতিপক্ষ বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালামের লোকজন সন্ত্রাসী কায়দায় কর্মসূচিতে বাধা দেয় এবং ভবিষ্যতে ওই এলাকায় গণসংযোগ করতে না দেওয়ার হুমকি দেয়। এ সময় হুমায়ূন কবির নামের এক যুবক তাকে উদ্দেশ করে বলেন,
“এই এরিয়াতে ঢুকছেন কেন? এদিকে আর ঢুকবেন না। একেবারে খাইয়া লামু শালারা, যাহ!”
অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন, হুমায়ূন কবির বন্দর থানা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সজিব যুবদলের কর্মী। তারা দুজনই বিএনপি প্রার্থী আবুল কালামের অনুসারী।
এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
















