সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিড়ি খাওয়া নিয়ে বক্তব্যে জামায়াতের ভোট বেড়েছে দুই কোটি: ফয়জুল হক

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৮:৩৮:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৩৫ Time View

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি বক্তব্যকে নেতিবাচক নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে লাভজনক হিসেবেই দেখছেন ঝালকাঠি-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ফয়জুল হক। তার দাবি, ওই বক্তব্য ঘিরে সৃষ্ট আলোচনার ফলে জামায়াতের পক্ষে নতুন করে বিপুল ভোট সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর প্রধান কার্যালয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম-মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতুকে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

ফয়জুল হক বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আমাদের সব সময় সতর্ক থাকতে হয়। কারণ আমরা যা বলি বা করি, তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। সেদিন দেওয়া একটি বক্তব্য নিয়ে এত আলোচনা হয়েছে যে, এর প্রভাব পড়েছে ভোটের মাঠে। তিনি দাবি করেন, ওই বক্তব্যের কারণেই জামায়াতের ভোট বেড়েছে প্রায় দুই কোটি।

তিনি আরও বলেন, চায়ের দোকান কিংবা সাধারণ মানুষের আড্ডাস্থলে গিয়ে কর্মীদের দাওয়াতি কাজ করার প্রসঙ্গেই তার বক্তব্য ছিল। কিন্তু সেটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

ফয়জুল হকের ভাষ্য, তিনি বলেছেন—তার কর্মীরা চায়ের দোকানে গেলে চা খাওয়ার মাঝেও দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দেবে। কেউ যদি বিড়ি খেয়েও থাকে, সেখানেও দাওয়াত পৌঁছাবে। এতে কোনো সমস্যা নেই। বিড়ি খাওয়া মানুষ কি ভোট দেবে না? দাড়ি না থাকলে কি কেউ ভোটার হতে পারে না—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তার মতে, মানুষের ভুল অভ্যাস পরিবর্তনের সুযোগ আল্লাহই দিয়ে থাকেন। আল্লাহ চাইলে যে কাউকে ভুল পথ থেকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারেন। জান্নাত ও জাহান্নাম মানুষের সংশোধনের জন্যই সৃষ্টি—এ কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

ভাইরাল হওয়ার বিষয়টিকে নেতিবাচক না দেখে ফয়জুল হক এটিকে রাজনৈতিক ‘শক্তি মার্কেটিং’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, এতে জামায়াতের জন্য প্রায় দুই কোটি টাকার সমপরিমাণ মার্কেটিং হয়ে গেছে। মাত্র দুই মিনিটের একটি বক্তব্য দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, যা তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া এক ধরনের উপহার হিসেবেই দেখছেন।

নির্বাচন নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে ফয়জুল হক বলেন, কাঁঠালিয়া ও রাজাপুর এলাকায় ঘুরে মানুষের আগ্রহ দেখে তিনি নিশ্চিত—ভোটাররা পরিবর্তন চায়। তার ভাষায়, মানুষ বলছে—সবকিছু দেখা হয়েছে, এবার দাঁড়িপাল্লা দেখতে চাই। বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফেরার প্রশ্ন নেই, ইনশাআল্লাহ।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বিড়ি খাওয়া নিয়ে বক্তব্যে জামায়াতের ভোট বেড়েছে দুই কোটি: ফয়জুল হক

Update Time : ০৮:৩৮:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি বক্তব্যকে নেতিবাচক নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে লাভজনক হিসেবেই দেখছেন ঝালকাঠি-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ফয়জুল হক। তার দাবি, ওই বক্তব্য ঘিরে সৃষ্ট আলোচনার ফলে জামায়াতের পক্ষে নতুন করে বিপুল ভোট সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর প্রধান কার্যালয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম-মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতুকে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

ফয়জুল হক বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আমাদের সব সময় সতর্ক থাকতে হয়। কারণ আমরা যা বলি বা করি, তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। সেদিন দেওয়া একটি বক্তব্য নিয়ে এত আলোচনা হয়েছে যে, এর প্রভাব পড়েছে ভোটের মাঠে। তিনি দাবি করেন, ওই বক্তব্যের কারণেই জামায়াতের ভোট বেড়েছে প্রায় দুই কোটি।

তিনি আরও বলেন, চায়ের দোকান কিংবা সাধারণ মানুষের আড্ডাস্থলে গিয়ে কর্মীদের দাওয়াতি কাজ করার প্রসঙ্গেই তার বক্তব্য ছিল। কিন্তু সেটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

ফয়জুল হকের ভাষ্য, তিনি বলেছেন—তার কর্মীরা চায়ের দোকানে গেলে চা খাওয়ার মাঝেও দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দেবে। কেউ যদি বিড়ি খেয়েও থাকে, সেখানেও দাওয়াত পৌঁছাবে। এতে কোনো সমস্যা নেই। বিড়ি খাওয়া মানুষ কি ভোট দেবে না? দাড়ি না থাকলে কি কেউ ভোটার হতে পারে না—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তার মতে, মানুষের ভুল অভ্যাস পরিবর্তনের সুযোগ আল্লাহই দিয়ে থাকেন। আল্লাহ চাইলে যে কাউকে ভুল পথ থেকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারেন। জান্নাত ও জাহান্নাম মানুষের সংশোধনের জন্যই সৃষ্টি—এ কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

ভাইরাল হওয়ার বিষয়টিকে নেতিবাচক না দেখে ফয়জুল হক এটিকে রাজনৈতিক ‘শক্তি মার্কেটিং’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, এতে জামায়াতের জন্য প্রায় দুই কোটি টাকার সমপরিমাণ মার্কেটিং হয়ে গেছে। মাত্র দুই মিনিটের একটি বক্তব্য দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, যা তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া এক ধরনের উপহার হিসেবেই দেখছেন।

নির্বাচন নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে ফয়জুল হক বলেন, কাঁঠালিয়া ও রাজাপুর এলাকায় ঘুরে মানুষের আগ্রহ দেখে তিনি নিশ্চিত—ভোটাররা পরিবর্তন চায়। তার ভাষায়, মানুষ বলছে—সবকিছু দেখা হয়েছে, এবার দাঁড়িপাল্লা দেখতে চাই। বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফেরার প্রশ্ন নেই, ইনশাআল্লাহ।