সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫ লাখ স্নাতক বেকারকে সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার ঘোষণা জামায়াতের

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১২:৫০:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৪৩ Time View

ক্ষমতায় গেলে ৫ লাখ স্নাতকধারী বেকার তরুণ–তরুণীকে সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির ঘোষণায় বলা হয়েছে, শিক্ষাজীবন শেষ করার পর চাকরি পাওয়ার আগ পর্যন্ত সর্বোচ্চ দুই বছর সময়ের জন্য মাসে ১০ হাজার টাকা করে এই ঋণ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে মেধা ও আর্থিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে ১ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা করে সুদবিহীন শিক্ষাঋণ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘পলিসি সামিট ২০২৬’-এ এসব প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে জামায়াত। দিনব্যাপী এই নীতি সম্মেলনে “নতুন বাংলাদেশ” গড়ার লক্ষ্য নিয়ে অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তি খাতে বিস্তৃত নীতিপ্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সম্পাদক ও বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে জানানো হয়, প্রতি বছর বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার জন্য ১০০ শিক্ষার্থীকে সুদমুক্ত শিক্ষাঋণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি জামায়াত ক্ষমতায় এলে রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ এবং বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজকে একীভূত করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বড় কলেজগুলোকে পর্যায়ক্রমে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়।

শিল্প ও বিনিয়োগ খাত নিয়ে জামায়াত জানায়, আগামী তিন বছরে শিল্পে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির মূল্য বাড়ানো হবে না। বন্ধ কলকারখানাগুলো সরকারি–বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) পুনরায় চালু করা হবে এবং এতে শ্রমিকদের ১০ শতাংশ মালিকানা নিশ্চিত করা হবে। ব্যবসাবান্ধব নীতি, সহজ লাইসেন্সিং ব্যবস্থা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ সুবিধার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।

দলটি আরও জানায়, ক্ষমতায় গেলে সব ধরনের নিয়োগে মেধাভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। ৬০ বছরের বেশি বয়সী নাগরিক ও ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে এবং দেশের ৬৪ জেলায় ৬৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন করা হবে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের ঘোষণাও দিয়েছে জামায়াত। কর ও ভ্যাটের হার ধাপে ধাপে কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে কর ১৯ শতাংশ এবং ভ্যাট ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র, টিআইএন, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা একত্রিত করে ‘স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

‘ফার্স্ট থাউজেন্ড ডেজ প্রোগ্রাম’-এর আওতায় গর্ভধারণ থেকে শিশুর দুই বছর বয়স পর্যন্ত মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তাকে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করার কথাও তুলে ধরে দলটি।

তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে জামায়াতের পরিকল্পনায় রয়েছে—দক্ষ জনশক্তি ও জব প্লেসমেন্টের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন, পাঁচ বছরে ১ কোটি তরুণকে বাজারভিত্তিক দক্ষতার প্রশিক্ষণ, প্রতিটি উপজেলায় গ্র্যাজুয়েটদের জন্য ‘ইয়ুথ টেক ল্যাব’ স্থাপন, প্রতিটি জেলায় ‘জেলা জব ইয়ুথ ব্যাংক’ গঠন করে পাঁচ বছরে ৫০ লাখ কর্মসংস্থানে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি। পাশাপাশি নারী, তরুণ ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিয়ে ৫ লাখ উদ্যোক্তা তৈরি, ১৫ লাখ ফ্রিল্যান্সার গড়ে তোলা এবং স্বল্পশিক্ষিত যুবকদের জন্য উপযোগী দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালুর কথাও বলা হয়।

তথ্যপ্রযুক্তি খাত উন্নয়নে জামায়াত ‘ভিশন ২০৪০’ ঘোষণা করেছে। লক্ষ্য হিসেবে ধরা হয়েছে—২০৩০ সালের মধ্যে ২০ লাখ আইসিটি-সম্পৃক্ত কর্মসংস্থান, ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল রপ্তানির জন্য জাতীয় পেমেন্ট গেটওয়ে স্থাপন, আইসিটি খাত থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়, সরকারি ব্যয় ১৫০ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় এবং শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর।

এ ছাড়া দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে রেমিট্যান্স আয় দুই থেকে তিন গুণ বাড়ানো এবং ‘ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্স’-এর অংশ হিসেবে প্রবাসী বাংলাদেশি পেশাজীবী, গবেষক ও শিক্ষকদের দেশে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

৫ লাখ স্নাতক বেকারকে সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার ঘোষণা জামায়াতের

Update Time : ১২:৫০:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

ক্ষমতায় গেলে ৫ লাখ স্নাতকধারী বেকার তরুণ–তরুণীকে সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির ঘোষণায় বলা হয়েছে, শিক্ষাজীবন শেষ করার পর চাকরি পাওয়ার আগ পর্যন্ত সর্বোচ্চ দুই বছর সময়ের জন্য মাসে ১০ হাজার টাকা করে এই ঋণ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে মেধা ও আর্থিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে ১ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা করে সুদবিহীন শিক্ষাঋণ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘পলিসি সামিট ২০২৬’-এ এসব প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে জামায়াত। দিনব্যাপী এই নীতি সম্মেলনে “নতুন বাংলাদেশ” গড়ার লক্ষ্য নিয়ে অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তি খাতে বিস্তৃত নীতিপ্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সম্পাদক ও বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে জানানো হয়, প্রতি বছর বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার জন্য ১০০ শিক্ষার্থীকে সুদমুক্ত শিক্ষাঋণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি জামায়াত ক্ষমতায় এলে রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ এবং বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজকে একীভূত করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বড় কলেজগুলোকে পর্যায়ক্রমে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়।

শিল্প ও বিনিয়োগ খাত নিয়ে জামায়াত জানায়, আগামী তিন বছরে শিল্পে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির মূল্য বাড়ানো হবে না। বন্ধ কলকারখানাগুলো সরকারি–বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) পুনরায় চালু করা হবে এবং এতে শ্রমিকদের ১০ শতাংশ মালিকানা নিশ্চিত করা হবে। ব্যবসাবান্ধব নীতি, সহজ লাইসেন্সিং ব্যবস্থা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ সুবিধার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।

দলটি আরও জানায়, ক্ষমতায় গেলে সব ধরনের নিয়োগে মেধাভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। ৬০ বছরের বেশি বয়সী নাগরিক ও ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে এবং দেশের ৬৪ জেলায় ৬৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন করা হবে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের ঘোষণাও দিয়েছে জামায়াত। কর ও ভ্যাটের হার ধাপে ধাপে কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে কর ১৯ শতাংশ এবং ভ্যাট ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র, টিআইএন, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা একত্রিত করে ‘স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

‘ফার্স্ট থাউজেন্ড ডেজ প্রোগ্রাম’-এর আওতায় গর্ভধারণ থেকে শিশুর দুই বছর বয়স পর্যন্ত মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তাকে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করার কথাও তুলে ধরে দলটি।

তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে জামায়াতের পরিকল্পনায় রয়েছে—দক্ষ জনশক্তি ও জব প্লেসমেন্টের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন, পাঁচ বছরে ১ কোটি তরুণকে বাজারভিত্তিক দক্ষতার প্রশিক্ষণ, প্রতিটি উপজেলায় গ্র্যাজুয়েটদের জন্য ‘ইয়ুথ টেক ল্যাব’ স্থাপন, প্রতিটি জেলায় ‘জেলা জব ইয়ুথ ব্যাংক’ গঠন করে পাঁচ বছরে ৫০ লাখ কর্মসংস্থানে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি। পাশাপাশি নারী, তরুণ ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিয়ে ৫ লাখ উদ্যোক্তা তৈরি, ১৫ লাখ ফ্রিল্যান্সার গড়ে তোলা এবং স্বল্পশিক্ষিত যুবকদের জন্য উপযোগী দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালুর কথাও বলা হয়।

তথ্যপ্রযুক্তি খাত উন্নয়নে জামায়াত ‘ভিশন ২০৪০’ ঘোষণা করেছে। লক্ষ্য হিসেবে ধরা হয়েছে—২০৩০ সালের মধ্যে ২০ লাখ আইসিটি-সম্পৃক্ত কর্মসংস্থান, ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল রপ্তানির জন্য জাতীয় পেমেন্ট গেটওয়ে স্থাপন, আইসিটি খাত থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়, সরকারি ব্যয় ১৫০ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় এবং শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর।

এ ছাড়া দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে রেমিট্যান্স আয় দুই থেকে তিন গুণ বাড়ানো এবং ‘ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্স’-এর অংশ হিসেবে প্রবাসী বাংলাদেশি পেশাজীবী, গবেষক ও শিক্ষকদের দেশে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।