‘নতুন বাংলাদেশ’-এর নীতিগত রূপরেখা তুলে ধরল জামায়াতে ইসলামী
- Update Time : ০৩:০২:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৩৮ Time View

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গঠনের লক্ষ্যে নীতিগত রূপরেখা ও ভবিষ্যৎ ভাবনা উপস্থাপন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত পলিসি সামিট–২০২৬-এ দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান এই রূপরেখা তুলে ধরেন।
সম্মেলনে জামায়াত আমির বলেন, দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের পর বাংলাদেশ বর্তমানে একটি সংবেদনশীল গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন নির্বাচন কেবল একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং ১৮ কোটির বেশি মানুষের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার দিকনির্দেশনা নির্ধারণের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ টিকে থাকা নয়, বরং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। শিক্ষিত তরুণরা যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান পাচ্ছে না, নারীরা এখনও নানা কাঠামোগত বাধার মুখোমুখি হচ্ছেন এবং কোটি কোটি মানুষ কঠোর পরিশ্রমের পরও সামান্য অর্থনৈতিক ধাক্কায় দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়ে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে উন্নয়নের একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে দেখলে চলবে না। এমন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মানুষ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে পারবে, মর্যাদার সঙ্গে পরিবার পরিচালনা করতে পারবে এবং সমাজে অর্থবহভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, বিদেশে কর্মরত লাখো শ্রমিক তাঁদের শ্রম ও ত্যাগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখছেন। রেমিট্যান্স শুধু অর্থনৈতিক অবদান নয়, বরং তাঁদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও বৈশ্বিক সংযোগ বাংলাদেশের উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে। একইভাবে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও উদ্যোক্তারাও দেশের সংস্কার ও প্রতিষ্ঠান গঠনে অবদান রাখতে আগ্রহী।
অর্থনৈতিক নীতিতে পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, কর্মসংস্থানকে আর বিনিয়োগের পার্শ্বফল হিসেবে নয়, বরং একটি রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। ধাপে ধাপে অনানুষ্ঠানিক শ্রমখাতকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে রাষ্ট্র ও নাগরিক, সরকারি ও বেসরকারি খাত এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও যৌথ দায়িত্ববোধের ওপর।
নারীর অংশগ্রহণ ও কাঠামোগত সংস্কার
সম্মেলনে নারীর ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি কেবল ন্যায়ের প্রশ্ন নয়, এটি অর্থনৈতিক প্রয়োজন। জনসংখ্যার অর্ধেককে সম্পূর্ণভাবে অন্তর্ভুক্ত না করে কোনো দেশ টেকসই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে না।
আয়োজকদের মতে, এই পলিসি সামিটে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তানসহ প্রায় ৩০টি দেশের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেছেন।
















