সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারেকের শোডাউন ও নিরাপত্তার অর্থের উৎস কী? প্রশ্ন তুললেন হাসনাত আবদুল্লাহ

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১২:১১:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৩১ Time View

 

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আয়ের উৎস, ব্যক্তিগত ব্যয় এবং নির্বাচনি প্রচারণার অর্থায়ন নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক দীর্ঘ ভিডিও-বার্তায় তিনি এসব বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন।

ভিডিওতে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ১৭ বছর পর দেশে ফিরে তারেক রহমান বর্তমানে কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করছেন এবং তার বিশাল শোডাউন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিপুল ব্যয় কোন উৎস থেকে আসছে—এ প্রশ্ন তোলার অধিকার জনগণের রয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এ নিয়ে দৃশ্যমানভাবে কেউ প্রশ্ন তুলছে না।

তিনি আরও বলেন, অতীতে ছাত্রনেতাদের নিরাপত্তা ও ব্যয় নিয়ে টকশোতে ব্যাপক আলোচনা ও একপক্ষীয় সমালোচনা দেখা গেছে। অথচ এখন তারেক রহমানের বড় গাড়িবহর, জ্বালানি ব্যয় ও সার্বিক নিরাপত্তা খরচের উৎস নিয়ে কেন নীরবতা—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের নির্বাচনি মিডিয়া কমিটিতে ৪৯ জন পেশাদার সাংবাদিক অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্যাডে সাংবাদিকদের নাম থাকলে তাদের নিরপেক্ষতা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়। ওই সাংবাদিকরা বিএনপির কর্মী হিসেবে কাজ করবেন নাকি নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক হিসেবে—তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি। তারা নির্বাচন কমিশনের কার্ড নেবেন, নাকি বিএনপির কার্ড নিয়ে মাঠে নামবেন—এ বিষয়েও পরিষ্কার ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

এই ঘটনাকে সাংবাদিকতার জন্য একটি নেতিবাচক ও ঝুঁকিপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে পেশাদার সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

একই সঙ্গে তিনি বিগত সরকারের সুবিধাভোগী কিছু সংবাদমাধ্যমের ভূমিকারও কঠোর সমালোচনা করেন। হাসনাতের অভিযোগ, যেসব গণমাধ্যম দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানকে ‘ভারতের চর’ বা ‘পলাতক ষড়যন্ত্রকারী’ হিসেবে উপস্থাপন করেছে, তারাই এখন আবার তার ঘনিষ্ঠ হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের কর্মীদের বিরুদ্ধে যারা পরিকল্পিতভাবে চরিত্রহননের চেষ্টা চালিয়েছে, তারাই এখন নতুন করে সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র বানানোর উদ্যোগ নিচ্ছে—যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

ভিডিও বার্তার শেষাংশে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, গত দেড় বছর ধরে যেভাবে আমাদের আয়, ব্যয় ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ঠিক একই মানদণ্ডে তারেক রহমানের অর্থের উৎস ও ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন করা হোক। প্রশ্ন তোলার ক্ষেত্রে যদি বাছাই বা পক্ষপাত থাকে, তবে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের মুখে পড়বে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

তারেকের শোডাউন ও নিরাপত্তার অর্থের উৎস কী? প্রশ্ন তুললেন হাসনাত আবদুল্লাহ

Update Time : ১২:১১:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

 

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আয়ের উৎস, ব্যক্তিগত ব্যয় এবং নির্বাচনি প্রচারণার অর্থায়ন নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক দীর্ঘ ভিডিও-বার্তায় তিনি এসব বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন।

ভিডিওতে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ১৭ বছর পর দেশে ফিরে তারেক রহমান বর্তমানে কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করছেন এবং তার বিশাল শোডাউন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিপুল ব্যয় কোন উৎস থেকে আসছে—এ প্রশ্ন তোলার অধিকার জনগণের রয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এ নিয়ে দৃশ্যমানভাবে কেউ প্রশ্ন তুলছে না।

তিনি আরও বলেন, অতীতে ছাত্রনেতাদের নিরাপত্তা ও ব্যয় নিয়ে টকশোতে ব্যাপক আলোচনা ও একপক্ষীয় সমালোচনা দেখা গেছে। অথচ এখন তারেক রহমানের বড় গাড়িবহর, জ্বালানি ব্যয় ও সার্বিক নিরাপত্তা খরচের উৎস নিয়ে কেন নীরবতা—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের নির্বাচনি মিডিয়া কমিটিতে ৪৯ জন পেশাদার সাংবাদিক অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্যাডে সাংবাদিকদের নাম থাকলে তাদের নিরপেক্ষতা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়। ওই সাংবাদিকরা বিএনপির কর্মী হিসেবে কাজ করবেন নাকি নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক হিসেবে—তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি। তারা নির্বাচন কমিশনের কার্ড নেবেন, নাকি বিএনপির কার্ড নিয়ে মাঠে নামবেন—এ বিষয়েও পরিষ্কার ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

এই ঘটনাকে সাংবাদিকতার জন্য একটি নেতিবাচক ও ঝুঁকিপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে পেশাদার সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

একই সঙ্গে তিনি বিগত সরকারের সুবিধাভোগী কিছু সংবাদমাধ্যমের ভূমিকারও কঠোর সমালোচনা করেন। হাসনাতের অভিযোগ, যেসব গণমাধ্যম দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানকে ‘ভারতের চর’ বা ‘পলাতক ষড়যন্ত্রকারী’ হিসেবে উপস্থাপন করেছে, তারাই এখন আবার তার ঘনিষ্ঠ হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের কর্মীদের বিরুদ্ধে যারা পরিকল্পিতভাবে চরিত্রহননের চেষ্টা চালিয়েছে, তারাই এখন নতুন করে সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র বানানোর উদ্যোগ নিচ্ছে—যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

ভিডিও বার্তার শেষাংশে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, গত দেড় বছর ধরে যেভাবে আমাদের আয়, ব্যয় ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ঠিক একই মানদণ্ডে তারেক রহমানের অর্থের উৎস ও ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন করা হোক। প্রশ্ন তোলার ক্ষেত্রে যদি বাছাই বা পক্ষপাত থাকে, তবে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের মুখে পড়বে।