অনুমোদনহীন ডিগ্রি ব্যবহারের অভিযোগে জামায়াত প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামানকে রাজনৈতিক হয়রানির অভিযোগ
- Update Time : ০২:২৪:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৪৮ Time View

অনুমোদনহীন ডিগ্রি ব্যবহার করে চিকিৎসাসেবা পরিচালনার অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম মনোনীত ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও বাংলাদেশ ফার্টিলিটি হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. এস এম খালিদুজ্জামানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিএমডিসির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. মো. লিয়াকত হোসেনের স্বাক্ষরিত শোকজ নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়। নোটিশে অভিযোগের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে ডা. খালিদুজ্জামানকে ১৫ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে ডা. খালিদুজ্জামান বলেছেন, তাকে হেয় করতেই পরিকল্পিতভাবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিএমডিসির নোটিশে বলা হয়, ডা. এস এম খালিদুজ্জামান তার প্রচারপত্রে নামের পাশে ‘এমএসসি ইন ক্লিনিক্যাল এমব্রায়োলোজি অ্যান্ড প্রি-ইমপ্ল্যানটেশন জেনেটিক্স (ভারত)’ ডিগ্রি উল্লেখ করে চিকিৎসাকার্য পরিচালনা করছেন—এমন অভিযোগ কাউন্সিলের কাছে আসে। অভিযোগকারী আবদুল কাদের নামের এক ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট প্রচারপত্রের কপি সংযুক্ত করে বিষয়টি অবহিত করেন।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, বিএমডিসি কর্তৃক স্বীকৃত নয়—এমন কোনো ডিগ্রি ব্যবহার করা রোগীর সঙ্গে প্রতারণার শামিল। এটি বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইনের পরিপন্থি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইনের বিধান অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে। একই অপরাধ পুনরাবৃত্তি হলে প্রতিবার ৫০ হাজার টাকা অতিরিক্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
এ বিষয়ে বিএমডিসি রেজিস্ট্রার ডা. মো. লিয়াকত হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, কাউন্সিলে একটি লিখিত অভিযোগ আসার পর যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, এমবিবিএস ডিগ্রির বাইরে ডা. খালিদুজ্জামানের কোনো অতিরিক্ত ডিগ্রি বিএমডিসিতে নিবন্ধিত নেই। সে কারণেই তাকে শোকজ করা হয়েছে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। লিখিত ব্যাখ্যা পাওয়ার পর আইন ও বিধি অনুযায়ী বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।
শোকজ নোটিশ প্রসঙ্গে ডা. এস এম খালিদুজ্জামান বলেন, একজন এমবিবিএস পাস চিকিৎসক যদি নিজেকে যোগ্য মনে করেন, তাহলে তিনি চিকিৎসাসেবা দিতে পারেন। তিনি দাবি করেন, ক্লিনিক্যাল এমব্রায়োলোজি বিষয়টি বাংলাদেশে নেই; এটি বিদেশে সীমিত কিছু দেশে রয়েছে। বাংলাদেশে এ সংক্রান্ত কাজের প্রায় ৮০ শতাংশ তার হাসপাতালেই হয় এবং তিনি নিজেই তা সম্পন্ন করেন বলে দাবি করেন। এ কাজের সাফল্যের হার নিয়েও তিনি প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।
ডিগ্রি ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার কোনো পরিচয়পত্র বা হাসপাতালের অফিসিয়াল নথিতে ওই ডিগ্রি ব্যবহার করা হয়নি। তবে একটি প্রমোশনাল ভিডিওতে ডিগ্রিটির উল্লেখ ছিল, যা বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানের ভুলে হয়েছে বলে তার দাবি। বিষয়টিকে গুরুতর নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেহেতু ডিগ্রিটি বাংলাদেশে চালু নেই, তাই অনুমোদনের জন্য বিএমডিসিতে আবেদন করা হবে।
পুরো বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে জামায়াত প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান বলেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলছে। শাকসু নির্বাচন স্থগিতসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ব্যর্থ হয়ে প্রতিপক্ষ এখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
















