এমন ‘বায়াসড’ প্রশাসনের অধীনে কীভাবে নির্বাচন করবো—প্রশ্ন রুমিন ফারহানার
- Update Time : ০৯:১২:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১২৫ Time View

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ–বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলেও, এবার তিনি উল্টো প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন। পাশাপাশি নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ না থাকার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি কাউকে উদ্দেশ্য করে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাননি। আশুগঞ্জ বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দেখানো বৃদ্ধাঙ্গুলির প্রসঙ্গ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি ওই ভঙ্গি করেছিলেন। তার ভাষায়, “আমার একটি ঘটনার জন্য—যদি সেটিকে অপরাধ ধরা হয়—তিনবার শাস্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এমন প্রশাসনের অধীনে আমি কীভাবে নির্বাচন করবো, যারা অলরেডি বায়াসড?”
তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শোকসভা ও দোয়া মাহফিলের নামে সমাবেশ করছেন, স্টেজ বানিয়ে মাইক ব্যবহার করছেন, গরু জবাই করে আপ্যায়ন করছেন এবং তার বিরুদ্ধে অশালীন বক্তব্য দিচ্ছেন। অথচ এসব ঘটনায় প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
রুমিন ফারহানা জানান, সোমবার সকালে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে গিয়ে তিনি জানতে চেয়েছিলেন—কার বিরুদ্ধে কত টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট উত্তর পাননি।
এদিকে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক রুমিন ফারহানাকে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন। রোববার রাতে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহানের স্বাক্ষরিত চিঠিতে আগামী ২২ জানুয়ারি সকাল ১১টায় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না হলে তার অনুপস্থিতিতেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
শোকজ নোটিশ প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে পেয়েছেন। নির্ধারিত সময়ে তার আইনজীবী গিয়ে জবাব দেবেন। তার দাবি, নির্বাচনী প্রচার শুরুর আগেই রিটার্নিং অফিসার এ ধরনের নোটিশ দিতে পারেন না—এ বিষয়ে আচরণবিধির বিভিন্ন ধারার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
অন্যদিকে, রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ এনে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুবকর সরকার স্বাক্ষরিত একটি চিঠি নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি এবং সিনিয়র সিভিল জজ আশরাফুল ইসলামের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, গত শনিবার সরাইল উপজেলার ইসলামাবাদ গ্রামে প্যান্ডেল করে বড় ধরনের জনসমাবেশ আয়োজন করা হয়, যা নির্বাচন আচরণবিধির লঙ্ঘন। পরে তাৎক্ষণিকভাবে সমাবেশ ভেঙে দেওয়া হয় এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জুয়েল মিয়া নামে একজনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ওই সময় রুমিন ফারহানা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতি আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন ও আঙুল উঁচিয়ে হুমকি দেন। তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন কর্মীও মারমুখী আচরণ করেন, যা বিচারিক কাজে বাধা ও কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি দেওয়ার শামিল। অভিযোগের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও লিংকের কথাও উল্লেখ করা হয়।
রিটার্নিং অফিসারের কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়েছে, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রুমিন ফারহানা ৪০০ থেকে ৫০০ মানুষের উপস্থিতিতে বৃহৎ স্টেজ নির্মাণ করে রাজনৈতিক বক্তব্য দেন। জনসভা বন্ধ করতে বললে তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন। এ সময় তার কর্মীরাও মারমুখী আচরণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এর আগে রোববার বিকেলে সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ এলাকায় মতবিনিময়কালে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে ‘৫ আগস্ট’-এর কথা স্মরণ করিয়ে দেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও সরকার যেন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে—কারও প্রতি পক্ষপাত দেখানো হলে যেকোনো আসনেই অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
















