সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ, দুদকের তদন্ত ও বিচার দাবি ছাত্রদলের

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০২:৫৬:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৩৬ Time View

সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তার বিচার নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই অভিযোগ উত্থাপন করেন।

সোমবার (১৯ জুলাই) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সামনে পোস্টাল ব্যালটে অনিয়মসহ তিন দফা দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, “আসিফ মাহমুদ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে হাজার কোটি টাকা দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দুদকের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অথচ তিনি এখন নির্বাচন কমিশনে এসে চোখ রাঙানি দেখাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান—এভাবে হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ছাত্রদল এসব হুমকিতে ভয় পায় না।”

তিনি জানান, তিনটি পৃথক ইস্যুতে ছাত্রদল শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছে। আগের দিন তারা নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজেদের দাবি তুলে ধরেছেন।

পোস্টাল ব্যালট নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলে নাছির বলেন, “২০১৮ সালের নিশিরাতের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বাসায় ব্যালট রাখার ঘটনা দেশবাসী দেখেছে। দুঃখজনকভাবে ২০২৬ সালে এসে আমরা জামায়াতের বাসাবাড়িতে ব্যালট দেখতে পাচ্ছি। এটি আবারও ২০১৮ সালের অন্ধকার নির্বাচনকে স্মরণ করিয়ে দেয়।”

তিনি দাবি করেন, বৈঠকে নির্বাচন কমিশন পোস্টাল ব্যালটে অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং তা নিরসনের আশ্বাসও দিয়েছে। তবে ব্যালট কীভাবে বাসাবাড়িতে পৌঁছাল, সে বিষয়ে কমিশন কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।

নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, “আমরা নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছি—নতুন রাজনৈতিক দল গঠনকারীদের চোখ রাঙানিতে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। আপনারা হৃদপিণ্ড শক্ত রাখুন এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করুন।”

এদিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্যের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন ছাত্রদল নেতা। তিনি বলেন, “ভিসি কীভাবে এত নির্দ্বিধায় মিথ্যা কথা বলেন, তা দেখে আমরা বিস্মিত। গত ৫ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠিতে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শাবিপ্রবির ছাত্র সংসদ নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই চিঠির বিষয়টি তিনি গোপন রেখেছেন।”

নাছির অভিযোগ করেন, ওই চিঠির বিষয়টি গোপনে ছাত্রশিবিরকে জানানো হয়। পরে উপাচার্য ঢাকায় এসে তদবির করে নতুন করে চিঠি রি-ইস্যু করান এবং ২০ তারিখে নির্বাচনের ঘোষণা দেন। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছয় দিন কোনো প্যানেলই কার্যকর প্রচারণা চালাতে পারেনি।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “প্রচার-প্রচারণা ছাড়া কীভাবে একটি সুষ্ঠু ও প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন সম্ভব?”

এ ছাড়া শাবিপ্রবির ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য গঠিত ১৫ সদস্যের কমিটির মধ্যে ইতোমধ্যে ৮ জন পদত্যাগ করেছেন বলেও জানান নাছির উদ্দীন নাছির। এ অবস্থায় বিতর্কিত উপাচার্যের পক্ষে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সবশেষে তিনি বলেন, “আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার এবং শাবিপ্রবির ভিসির পদত্যাগ—এই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাব।”

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ, দুদকের তদন্ত ও বিচার দাবি ছাত্রদলের

Update Time : ০২:৫৬:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তার বিচার নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই অভিযোগ উত্থাপন করেন।

সোমবার (১৯ জুলাই) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সামনে পোস্টাল ব্যালটে অনিয়মসহ তিন দফা দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, “আসিফ মাহমুদ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে হাজার কোটি টাকা দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দুদকের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অথচ তিনি এখন নির্বাচন কমিশনে এসে চোখ রাঙানি দেখাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান—এভাবে হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ছাত্রদল এসব হুমকিতে ভয় পায় না।”

তিনি জানান, তিনটি পৃথক ইস্যুতে ছাত্রদল শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছে। আগের দিন তারা নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজেদের দাবি তুলে ধরেছেন।

পোস্টাল ব্যালট নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলে নাছির বলেন, “২০১৮ সালের নিশিরাতের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বাসায় ব্যালট রাখার ঘটনা দেশবাসী দেখেছে। দুঃখজনকভাবে ২০২৬ সালে এসে আমরা জামায়াতের বাসাবাড়িতে ব্যালট দেখতে পাচ্ছি। এটি আবারও ২০১৮ সালের অন্ধকার নির্বাচনকে স্মরণ করিয়ে দেয়।”

তিনি দাবি করেন, বৈঠকে নির্বাচন কমিশন পোস্টাল ব্যালটে অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং তা নিরসনের আশ্বাসও দিয়েছে। তবে ব্যালট কীভাবে বাসাবাড়িতে পৌঁছাল, সে বিষয়ে কমিশন কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।

নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, “আমরা নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছি—নতুন রাজনৈতিক দল গঠনকারীদের চোখ রাঙানিতে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। আপনারা হৃদপিণ্ড শক্ত রাখুন এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করুন।”

এদিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্যের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন ছাত্রদল নেতা। তিনি বলেন, “ভিসি কীভাবে এত নির্দ্বিধায় মিথ্যা কথা বলেন, তা দেখে আমরা বিস্মিত। গত ৫ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠিতে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শাবিপ্রবির ছাত্র সংসদ নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই চিঠির বিষয়টি তিনি গোপন রেখেছেন।”

নাছির অভিযোগ করেন, ওই চিঠির বিষয়টি গোপনে ছাত্রশিবিরকে জানানো হয়। পরে উপাচার্য ঢাকায় এসে তদবির করে নতুন করে চিঠি রি-ইস্যু করান এবং ২০ তারিখে নির্বাচনের ঘোষণা দেন। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছয় দিন কোনো প্যানেলই কার্যকর প্রচারণা চালাতে পারেনি।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “প্রচার-প্রচারণা ছাড়া কীভাবে একটি সুষ্ঠু ও প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন সম্ভব?”

এ ছাড়া শাবিপ্রবির ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য গঠিত ১৫ সদস্যের কমিটির মধ্যে ইতোমধ্যে ৮ জন পদত্যাগ করেছেন বলেও জানান নাছির উদ্দীন নাছির। এ অবস্থায় বিতর্কিত উপাচার্যের পক্ষে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সবশেষে তিনি বলেন, “আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার এবং শাবিপ্রবির ভিসির পদত্যাগ—এই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাব।”