১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ঋণ থাকা সত্ত্বেও বৈধ ঘোষণা করা হলো বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র
- Update Time : ১০:২৯:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৩৯ Time View
চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আপিল শুনানি শেষে রোববার (১৮ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে এই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। শুনানিতে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
এ সময় নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ মন্তব্য করেন, “মনোনয়নপত্র বৈধ করলাম। ব্যাংকের টাকাটা (ঋণটা) দিয়ে দিয়েন। টাকাটা না দিলে কিন্তু জনরোষ তৈরি হবে। মানুষ হিসেবে এটা আপনাকে বললাম।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে শুনানি কক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

আপিল শুনানির শেষ দিনে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রাখা হয়। শুনানিতে উভয় পক্ষের আইনজীবীরা দীর্ঘ সময় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে দাঁড়ান বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি যুক্তি দেন, আসলাম চৌধুরী নিজে কোনো ঋণ নেননি; তিনি কেবল বিভিন্ন ঋণের জামিনদার।
এর আগে ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে আপিল করেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. আনোয়ার ছিদ্দিক। দুই পক্ষের শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন জামায়াত প্রার্থীর আপিল নামঞ্জুর করে, ফলে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকে।
তবে সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরপরই শুনানি কক্ষে হট্টগোল শুরু হয়। একজন উপস্থিত ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলেন, “হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণখেলাপি প্রমাণিত হওয়ার পরও মনোনয়নপত্র বৈধ হতে পারে না।”
জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. আনোয়ার ছিদ্দিকের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির। তিনি অভিযোগ করেন, আসলাম চৌধুরী কনভিক্টেড ব্যক্তি এবং কোনো অবস্থাতেই নির্বাচন কমিশনের তাঁর প্রার্থিতা বহাল রাখার এখতিয়ার নেই। তিনি বলেন, “আমরা ইসিতে ন্যায়বিচার পাইনি, উচ্চ আদালতে রিট করবো।”
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা লায়ন আসলাম চৌধুরীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪৫৬ কোটি ৯৫ লাখ ৭ হাজার টাকা। তবে একই সঙ্গে তাঁর ঋণের পরিমাণ চট্টগ্রামের অন্যান্য প্রার্থীদের তুলনায় সবচেয়ে বেশি।
বর্তমানে তাঁর মোট ঋণ প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে পাঁচটি ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরাসরি ঋণ রয়েছে ৩৫৪ কোটি ৪১ লাখ ৬৩ হাজার ২৬৯ টাকা। এছাড়া জামিনদার হিসেবে ঋণ রয়েছে ১ হাজার ৫৯ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হওয়ার সুবাদে ঋণের পরিমাণ ২৮৫ কোটি টাকা।
হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তাঁর ঋণের পরিমাণ তাঁর সম্পদের তুলনায় প্রায় ২৪ দশমিক ২৫ গুণ বেশি। যদিও তিনি উল্লেখ করেছেন, এসব ঋণের বড় অংশই তিনি জামিনদার ও পরিচালক হিসেবে যুক্ত থাকার কারণে বহন করছেন। একই সঙ্গে নগদ অর্থের দিক থেকেও তিনি এগিয়ে আছেন—বর্তমানে তাঁর হাতে নগদ রয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকা।
এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন আলোচনা চলছে, তেমনি ঋণখেলাপি ও প্রার্থিতা সংক্রান্ত আইন ও নৈতিকতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
















