‘ভারতের সিগন্যালে দেশে ফিরেছেন তারেক রহমান’— ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবিরের মন্তব্যে নেটদুনিয়ায় তীব্র বিতর্ক
- Update Time : ১০:২২:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৩০ Time View

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্য ঘিরে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবিরের মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। চ্যানেল আই-এর একটি টকশোতে দেওয়া বক্তব্যে শাহরিয়ার কবির দাবি করেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা কোনো স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ফল নয়; বরং এটি ভারতের সরাসরি ‘সিগন্যালে’ বা সবুজ সংকেতে সংঘটিত হয়েছে।
৫ আগস্টের পর প্রকাশ্যে আসা ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির বলেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ছিল সুপরিকল্পিত এবং ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন। তাঁর ভাষায়, “দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট—ভারতের সিগন্যালেই তিনি দেশে ফিরে এসেছেন।” পাশাপাশি, জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে তারেক রহমানের ‘গুপ্ত’ বা ‘সুপ্ত’ বেশ সংক্রান্ত মন্তব্যকে বিভাজনমূলক রাজনীতি বলে আখ্যা দেন তিনি। শাহরিয়ার কবিরের মতে, এ ধরনের বক্তব্য জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং পরোক্ষভাবে আওয়ামী লীগ ও ভারতের অবস্থানকে শক্তিশালী করছে।
আলোচনায় তিনি তারেক রহমানের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, তারেক রহমানের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণের পর্যাপ্ত প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে, যা হলফনামায় দেওয়া তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একই সঙ্গে ২০০৭ সালে রাজনীতি না করার মুচলেকা দিয়ে প্যারলে দেশত্যাগের বিষয়টিও তিনি পুনরায় সামনে আনেন।
নেটিজেনদের তীব্র প্রতিক্রিয়া
এই মন্তব্য প্রচারিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনরা স্পষ্টভাবে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। সাধারণ মানুষ ও অনলাইন ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ শাহরিয়ার কবিরের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। অনেকেই মন্তব্য করেন, দীর্ঘ ১৬ বছর শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে শাহরিয়ার কবির নিজেই ‘গুপ্ত’ ছিলেন। তাদের দাবি, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের আগে এসব তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের রাজপথে কিংবা টকশোতে দেখা যায়নি। পরিস্থিতি বদলানোর পর এখন তারা সামনে এসে নিজেদের ‘হিরো’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন।
তারেক রহমান ভারতের সিগন্যালে দেশে ফিরেছেন—এমন দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারায় শাহরিয়ার কবিরের বক্তব্যকে প্রশ্নবিদ্ধ বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে। ভারতবিরোধী রাজনীতির ধারক হিসেবে পরিচিত জিয়া পরিবারের উত্তরাধিকারীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগকে অনেকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন।
ফেসবুকে একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে শাহরিয়ার কবিরকে তাঁর ভারত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের প্রমাণ দিতে হবে। হাসিনা না পালালে মানুষ বুঝতেই পারত না—কারা সত্যিকার অর্থে দেশের জন্য কাজ করছে আর কারা সুযোগসন্ধানী।”
















