নির্বাচনী হলফনামায় শিশির মনিরের আয়-সম্পদের বিস্তারিত চিত্র
- Update Time : ১২:৪৪:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২২২ Time View

সুনামগঞ্জ-২ আসন (দিরাই–শাল্লা) থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির তার নির্বাচনী হলফনামায় আয়, সম্পদ ও ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা যায়, তার বার্ষিক আয় প্রায় ৫১ লাখ টাকা হলেও তার স্ত্রীর আয় ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।
হলফনামা অনুযায়ী, ৪৪ বছর বয়সী মোহাম্মদ শিশির মনির ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি। তিনি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
আইন পেশা থেকে শিশির মনিরের বার্ষিক আয় ৫১ লাখ ৬৩ হাজার ৪০৭ টাকা। এছাড়া ব্যাংক লভ্যাংশসহ অন্যান্য উৎস থেকে তার আয় রয়েছে ৯৬ হাজার ৫৯৩ টাকা।
তার স্ত্রী সুমাইয়া সাদিয়া রায়হান একজন বেসরকারি চাকরিজীবী। হলফনামা অনুযায়ী, তার মোট বার্ষিক আয় ৮৯ লাখ ২৭ হাজার ৫১৫ টাকা। এর মধ্যে পেশাগত আয় ৬৪ লাখ ৬২ হাজার ৪৩২ টাকা, শেয়ার ও ব্যাংক আমানত থেকে আয় ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮৩৮ টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে আয় ২০ লাখ ৮৭ হাজার ২৪৫ টাকা।
শিশির মনিরের অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ৫১ লাখ ৪ হাজার ৩০৪ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ ৯ লাখ ৫২ হাজার ৪ টাকা, ব্যাংকে জমা ২ হাজার ৩০০ টাকা, ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের যানবাহন, ৪ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং উপহার হিসেবে পাওয়া ২৫ ভরি স্বর্ণ। এছাড়া তার নামে ১ কোটি ৮১ লাখ ৮৭ হাজার ৪২০ টাকা মূল্যের অকৃষি জমি রয়েছে।
অন্যদিকে তার স্ত্রী সুমাইয়া সাদিয়া রায়হানের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৯৫ লাখ ৬০ হাজার ৮৪৩ টাকা। এতে নগদ অর্থ, ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র, যানবাহন, ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং ২৫ ভরি স্বর্ণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে তার নামে কোনো স্থাবর সম্পদ নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বিবরণীতে দেখা যায়, মোহাম্মদ শিশির মনিরের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে দায়ের করা হলেও হাইকোর্টের আদেশে তা বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। অপর মামলাটি তদন্তাধীন।
নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবে শিশির মনির মোট ৩০ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয় করার কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে ২০ লাখ টাকা তার নিজস্ব আয় থেকে এবং বাকি ১০ লাখ ৬০ হাজার টাকা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের অনুদান থেকে সংগ্রহ করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে একই আসনের অন্যান্য প্রার্থীরাও তাদের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করেছেন। নাছির চৌধুরী নির্বাচনী ব্যয় দেখিয়েছেন ৩৪ লাখ টাকা, যার মধ্যে ২৩ লাখ টাকা নিজস্ব এবং অবশিষ্ট অর্থ বিদেশে অবস্থানরত ভাইদের অনুদান। অপর প্রার্থী তাহির রায়হান চৌধুরী নির্বাচনে ব্যয় দেখিয়েছেন ২৫ লাখ টাকা, যার একটি অংশ তার নিজস্ব আয় এবং বাকিটা যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ভাইদের অনুদান থেকে পাওয়া হবে।
















