সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা কেন—ব্যাখ্যা দিলেন এনসিপির আখতার হোসেন

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:২৯:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১৩৩ Time View

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্ভাব্য জোট বা নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে যখন রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা চলছে, তখন বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আখতার হোসেন জানান, সংস্কার ও রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠনের প্রশ্নে জামায়াতসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এনসিপির মতের মিল তৈরি হয়েছে।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ঐকমত্য কমিশনে সংস্কার ইস্যুতে বিএনপির সঙ্গে একাধিক রাজনৈতিক দলের মতপার্থক্য ছিল। সেখানে সংস্কারের বিভিন্ন পয়েন্টে স্বাভাবিকভাবেই এনসিপি, জামায়াতে ইসলামী এবং কয়েকটি দল একমত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

আখতার হোসেন আরও বলেন, নতুনভাবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলা এবং রাষ্ট্র কাঠামোর পুনর্গঠনের রাজনীতির প্রতি যে অঙ্গীকার—সেটিকেই নির্বাচনী জোট বা সমঝোতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে জোট গঠনের বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। যেকোনো সময় এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

তবে জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার খবরে এনসিপির ভেতরে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। শনিবার দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্তত ৩০ জন নেতা এই সমঝোতার বিরোধিতা করে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন।

এরই মধ্যে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন। এছাড়া দলের আরও কয়েকজন নেত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট দিয়েছেন, যা দলীয় অস্বস্তির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে দলীয় সূত্র দাবি করছে, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির মোট ২১৪ জন সদস্যের মধ্যে ১৮৪ জনই জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের পক্ষে মত দিয়েছেন।

অন্যদিকে, জামায়াতের সঙ্গে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক জোট বা সমঝোতার তীব্র বিরোধিতা করে কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন শীর্ষ নেতা এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে একটি পৃথক চিঠি দিয়েছেন। ওই চিঠিতে এই উদ্যোগকে ‘জাতির সঙ্গে প্রতারণা’ এবং ‘দলের আদর্শিক আত্মহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

জোটবিরোধী স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন, এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, ফরিদুল হক, মো. ফারহাদ আলম ভূঁইয়া ও ইমন সৈয়দ; কেন্দ্রীয় সংগঠক আরমান হোসাইন; যুগ্ম আহ্বায়ক অর্পিতা শ্যামা দেব; নুসরাত তাবাসসুম; খালেদ সাইফুল্লাহসহ কেন্দ্র ও অঞ্চলভিত্তিক একাধিক দায়িত্বশীল নেতা।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা কেন—ব্যাখ্যা দিলেন এনসিপির আখতার হোসেন

Update Time : ১০:২৯:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্ভাব্য জোট বা নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে যখন রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা চলছে, তখন বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আখতার হোসেন জানান, সংস্কার ও রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠনের প্রশ্নে জামায়াতসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এনসিপির মতের মিল তৈরি হয়েছে।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ঐকমত্য কমিশনে সংস্কার ইস্যুতে বিএনপির সঙ্গে একাধিক রাজনৈতিক দলের মতপার্থক্য ছিল। সেখানে সংস্কারের বিভিন্ন পয়েন্টে স্বাভাবিকভাবেই এনসিপি, জামায়াতে ইসলামী এবং কয়েকটি দল একমত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

আখতার হোসেন আরও বলেন, নতুনভাবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলা এবং রাষ্ট্র কাঠামোর পুনর্গঠনের রাজনীতির প্রতি যে অঙ্গীকার—সেটিকেই নির্বাচনী জোট বা সমঝোতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে জোট গঠনের বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। যেকোনো সময় এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

তবে জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার খবরে এনসিপির ভেতরে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। শনিবার দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্তত ৩০ জন নেতা এই সমঝোতার বিরোধিতা করে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন।

এরই মধ্যে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন। এছাড়া দলের আরও কয়েকজন নেত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট দিয়েছেন, যা দলীয় অস্বস্তির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে দলীয় সূত্র দাবি করছে, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির মোট ২১৪ জন সদস্যের মধ্যে ১৮৪ জনই জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের পক্ষে মত দিয়েছেন।

অন্যদিকে, জামায়াতের সঙ্গে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক জোট বা সমঝোতার তীব্র বিরোধিতা করে কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন শীর্ষ নেতা এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে একটি পৃথক চিঠি দিয়েছেন। ওই চিঠিতে এই উদ্যোগকে ‘জাতির সঙ্গে প্রতারণা’ এবং ‘দলের আদর্শিক আত্মহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

জোটবিরোধী স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন, এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, ফরিদুল হক, মো. ফারহাদ আলম ভূঁইয়া ও ইমন সৈয়দ; কেন্দ্রীয় সংগঠক আরমান হোসাইন; যুগ্ম আহ্বায়ক অর্পিতা শ্যামা দেব; নুসরাত তাবাসসুম; খালেদ সাইফুল্লাহসহ কেন্দ্র ও অঞ্চলভিত্তিক একাধিক দায়িত্বশীল নেতা।