সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লন্ডনে ৪০ শতাংশ বাংলাদেশি–পাকিস্তানি কর্মহীন, বেকারত্ব সংকটে অভিবাসী সমাজ

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:৩৭:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১৬৮ Time View

বর্তমানে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে বসবাসরত বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি নাগরিকদের প্রায় ৪০ শতাংশই কর্মহীন অবস্থায় রয়েছেন। অন্য যেকোনো জাতিগোষ্ঠীর তুলনায় এই বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি, যা দেশটির শ্রমবাজারে গভীর বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান কার্যালয়ের (ওএনএস) সর্বশেষ তথ্যে এ তথ্য উঠে এসেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি বছর প্রায় ১৫ লাখ ২০ হাজার শিশু বড়দিন কাটিয়েছে এমন পরিবারে, যেখানে কোনো উপার্জনকারী নেই।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সংখ্যা গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। সাম্প্রতিক সময়ে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা দেড় লাখেরও বেশি বেড়েছে, যা ব্রিটেনের অর্থনৈতিক সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করলে যুক্তরাজ্যের কর্মসংস্থান পরিস্থিতিতে চরম জাতিগত বৈষম্য লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে ভৌগোলিক দিক থেকে লন্ডন এখন বেকারত্ব সংকটের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেই কর্মহীনতার হার তুলনামূলকভাবে বেশি।

এদিকে ব্রিটিশ সরকারের সদ্য ঘোষিত ‘ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স’ হার বৃদ্ধি এবং ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর সিদ্ধান্তের ফলে বহু প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নিয়োগ বন্ধ রেখেছে। কোথাও কোথাও শুরু হয়েছে কর্মী ছাঁটাইও। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আগামী বছরও এই পরিস্থিতির বড় কোনো উন্নতির সম্ভাবনা নেই।

বিশ্লেষকদের ধারণা, উচ্চ সুদের হার ও ভোক্তা আস্থার ঘাটতির কারণে ২০২৬ সালে ব্রিটেনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে প্রায় ১ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে অভিবাসী শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর ওপর।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লন্ডনে ৪০ শতাংশ বাংলাদেশি–পাকিস্তানি কর্মহীন, বেকারত্ব সংকটে অভিবাসী সমাজ

Update Time : ১০:৩৭:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

বর্তমানে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে বসবাসরত বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি নাগরিকদের প্রায় ৪০ শতাংশই কর্মহীন অবস্থায় রয়েছেন। অন্য যেকোনো জাতিগোষ্ঠীর তুলনায় এই বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি, যা দেশটির শ্রমবাজারে গভীর বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান কার্যালয়ের (ওএনএস) সর্বশেষ তথ্যে এ তথ্য উঠে এসেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি বছর প্রায় ১৫ লাখ ২০ হাজার শিশু বড়দিন কাটিয়েছে এমন পরিবারে, যেখানে কোনো উপার্জনকারী নেই।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সংখ্যা গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। সাম্প্রতিক সময়ে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা দেড় লাখেরও বেশি বেড়েছে, যা ব্রিটেনের অর্থনৈতিক সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করলে যুক্তরাজ্যের কর্মসংস্থান পরিস্থিতিতে চরম জাতিগত বৈষম্য লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে ভৌগোলিক দিক থেকে লন্ডন এখন বেকারত্ব সংকটের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেই কর্মহীনতার হার তুলনামূলকভাবে বেশি।

এদিকে ব্রিটিশ সরকারের সদ্য ঘোষিত ‘ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স’ হার বৃদ্ধি এবং ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর সিদ্ধান্তের ফলে বহু প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নিয়োগ বন্ধ রেখেছে। কোথাও কোথাও শুরু হয়েছে কর্মী ছাঁটাইও। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আগামী বছরও এই পরিস্থিতির বড় কোনো উন্নতির সম্ভাবনা নেই।

বিশ্লেষকদের ধারণা, উচ্চ সুদের হার ও ভোক্তা আস্থার ঘাটতির কারণে ২০২৬ সালে ব্রিটেনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে প্রায় ১ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে অভিবাসী শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর ওপর।