সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াতের সঙ্গে জোটের পথে এনসিপি, ভাঙনের মুখে গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৭:৫০:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১৪৪ Time View

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠিত গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটে ভাঙন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনকে নিয়ে গঠিত এই জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। নীতিগত সিদ্ধান্তে সমন্বয়হীনতা, আন্দোলনের কর্মসূচির অভাব এবং নেতৃত্ব সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা না হওয়াকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

জোটসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এনসিপি বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন সমঝোতা জোট গঠনের বিষয়ে আলোচনা করছে। এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, তবে জোটের আরেক শরিক এবি পার্টি এতে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। ফলে জোটের ভেতরে দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করে এবং শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিপির একাধিক নেতা জানান, জামায়াতের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে ৫০টি আসন নিয়ে দরকষাকষি চলছে। আলোচনার একপর্যায়ে জামায়াত এনসিপিসহ শরিকদের জন্য ২০ থেকে ২৫টি আসন ছাড় দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে দুই দলের মধ্যে একাধিক বৈঠক হলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সূত্রগুলোর দাবি, এনসিপি ও এবি পার্টির অভিন্ন অবস্থানের কারণে এনসিপি–জামায়াত জোট গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে

এ বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতা ও জোট গঠনের আলোচনা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তিনি জানান, “২০ থেকে ২৫ আসনের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। আলোচনার ফলাফল জানতে আরও দুই দিন সময় লাগতে পারে।”

এদিকে সম্ভাব্য জামায়াত–এনসিপি জোট নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। তাঁদের মতে, জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির জোট হলে তরুণদের রাজনীতির ভবিষ্যৎ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, “তারুণ্যের রাজনীতির কবর রচিত হতে যাচ্ছে। এনসিপি শেষ পর্যন্ত জামায়াতের সঙ্গেই সরাসরি জোট বাঁধছে। গুটিকয় নেতার স্বার্থে সাধারণ মানুষের ও কর্মীদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে জলাঞ্জলি দেওয়া হচ্ছে। এই জোট ঘোষণা হলে এনসিপি কার্যত জামায়াতের রাজনৈতিক ছায়াতেই বিলীন হয়ে যাবে।”

অন্যদিকে জোট থেকে সরে যাওয়ার বিষয়ে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম বলেন, “আমরা জামায়াত ও বিএনপির বাইরে একটি স্বাধীন সংস্কারমুখী রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে চেয়েছিলাম। সেই লক্ষ্যেই এনসিপি ও এবি পার্টির সঙ্গে জোটে যাই। কিন্তু এখন শোনা যাচ্ছে এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতায় যাচ্ছে, যা আমাদের রাজনৈতিক দর্শনের সম্পূর্ণ বিপরীত।”

তিনি আরও বলেন, “চাইলে আমরা শুরু থেকেই বিএনপির সঙ্গে জোট করতে পারতাম। কিন্তু আমরা এমন একটি রাজনৈতিক বলয় চেয়েছি, যা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে গিয়ে মানুষের কথা বলবে। যারা এই পথে আমাদের সঙ্গে থাকবে, তাদের নিয়েই আমরা এগিয়ে যাব। প্রয়োজনে একাই হাঁটব।”

এদিকে জামায়াতের একটি সূত্র জানিয়েছে, এনসিপির সঙ্গে এখনো আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হয়নি, তবে দুই দলের মধ্যে জোট গঠনের আলোচনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জামায়াতের সঙ্গে জোটের পথে এনসিপি, ভাঙনের মুখে গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট

Update Time : ০৭:৫০:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠিত গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটে ভাঙন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনকে নিয়ে গঠিত এই জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। নীতিগত সিদ্ধান্তে সমন্বয়হীনতা, আন্দোলনের কর্মসূচির অভাব এবং নেতৃত্ব সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা না হওয়াকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

জোটসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এনসিপি বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন সমঝোতা জোট গঠনের বিষয়ে আলোচনা করছে। এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, তবে জোটের আরেক শরিক এবি পার্টি এতে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। ফলে জোটের ভেতরে দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করে এবং শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিপির একাধিক নেতা জানান, জামায়াতের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে ৫০টি আসন নিয়ে দরকষাকষি চলছে। আলোচনার একপর্যায়ে জামায়াত এনসিপিসহ শরিকদের জন্য ২০ থেকে ২৫টি আসন ছাড় দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে দুই দলের মধ্যে একাধিক বৈঠক হলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সূত্রগুলোর দাবি, এনসিপি ও এবি পার্টির অভিন্ন অবস্থানের কারণে এনসিপি–জামায়াত জোট গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে

এ বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতা ও জোট গঠনের আলোচনা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তিনি জানান, “২০ থেকে ২৫ আসনের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। আলোচনার ফলাফল জানতে আরও দুই দিন সময় লাগতে পারে।”

এদিকে সম্ভাব্য জামায়াত–এনসিপি জোট নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। তাঁদের মতে, জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির জোট হলে তরুণদের রাজনীতির ভবিষ্যৎ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, “তারুণ্যের রাজনীতির কবর রচিত হতে যাচ্ছে। এনসিপি শেষ পর্যন্ত জামায়াতের সঙ্গেই সরাসরি জোট বাঁধছে। গুটিকয় নেতার স্বার্থে সাধারণ মানুষের ও কর্মীদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে জলাঞ্জলি দেওয়া হচ্ছে। এই জোট ঘোষণা হলে এনসিপি কার্যত জামায়াতের রাজনৈতিক ছায়াতেই বিলীন হয়ে যাবে।”

অন্যদিকে জোট থেকে সরে যাওয়ার বিষয়ে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম বলেন, “আমরা জামায়াত ও বিএনপির বাইরে একটি স্বাধীন সংস্কারমুখী রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে চেয়েছিলাম। সেই লক্ষ্যেই এনসিপি ও এবি পার্টির সঙ্গে জোটে যাই। কিন্তু এখন শোনা যাচ্ছে এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতায় যাচ্ছে, যা আমাদের রাজনৈতিক দর্শনের সম্পূর্ণ বিপরীত।”

তিনি আরও বলেন, “চাইলে আমরা শুরু থেকেই বিএনপির সঙ্গে জোট করতে পারতাম। কিন্তু আমরা এমন একটি রাজনৈতিক বলয় চেয়েছি, যা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে গিয়ে মানুষের কথা বলবে। যারা এই পথে আমাদের সঙ্গে থাকবে, তাদের নিয়েই আমরা এগিয়ে যাব। প্রয়োজনে একাই হাঁটব।”

এদিকে জামায়াতের একটি সূত্র জানিয়েছে, এনসিপির সঙ্গে এখনো আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হয়নি, তবে দুই দলের মধ্যে জোট গঠনের আলোচনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।