এনসিপি থেকে পদত্যাগ তাসনিম জারা ও খালেদ সাইফুল্লাহর, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা
- Update Time : ১০:১৩:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১৪০ Time View

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা এবং তার স্বামী, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ। পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন।
শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে দলটির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান তাসনিম জারা। পরে তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে ঘোষণা দেন—ঢাকা-৯ আসন থেকে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন।
এদিকে খালেদ সাইফুল্লাহ গণমাধ্যমকে জানান, ব্যক্তিগত কারণেই তিনি এনসিপি থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনিও আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করবেন।

এনসিপির অভ্যন্তরে জোট রাজনীতি নিয়ে অসন্তোষ দীর্ঘদিন ধরেই ছিল। বিশেষ করে জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে জোটের বিষয়ে দলের জ্যেষ্ঠ নারী নেতাদের বড় একটি অংশ আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, জ্যেষ্ঠ সদস্যসচিব নাহিদ সারোয়ার নিভা, যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনুভা জাবীন, যুগ্ম সদস্যসচিব নুসরাত তাবাসসুমসহ একাধিক নেতা দলীয় ফোরামে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
শনিবার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে তাসনিম জারা বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের প্ল্যাটফর্ম থেকে সংসদে গিয়ে ঢাকা-৯ আসনের মানুষ ও দেশের সেবা করার স্বপ্ন ছিল তার। তবে বাস্তব প্রেক্ষাপটে তিনি কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ার অঙ্গীকার রক্ষায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানান।
উল্লেখ্য, আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তাসনিম জারা গণচাঁদার মাধ্যমে ৪৭ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছিলেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেতে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর প্রয়োজন হওয়ায় তিনি ফেসবুক পোস্টে স্বাক্ষরের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি যারা তাকে নির্বাচনী চাঁদা দিয়েছিলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।
এনসিপি সূত্রের দাবি, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট করায় অসন্তুষ্ট হয়েই তাসনিম জারা দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর আগে ঢাকা-৯ আসনে তাকে জোটের প্রার্থী করার আলোচনা চলছিল। জারা পদত্যাগ করায় ওই আসনে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে হুমায়রা নূরের নাম আলোচনায় এসেছে। তবে জামায়াত এই আসন ছাড়বে কিনা—সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
















