সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন নিয়ে কোনো টালবাহানা নয়,ফেব্রুয়ারিতেই ভোট চায় জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ১১:২৭:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১৬৪ Time View

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হোক—এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেশের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয়।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) ফজর নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘হাদির খুনিরা কার্যত বাংলাদেশেরই শত্রু। কারণ, হাদি সবসময় দেশের পক্ষে কথা বলতেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে ছিলেন। তিনি আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির কথা বলতেন এবং অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাদি কোটি তরুণের মনে দ্রোহ ও প্রতিবাদের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন—এই দেশ, এই জাতির দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে। কোনো কালো চিলকে আর আমাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে দেওয়া যাবে না। জীবন দেওয়া যায়, কিন্তু অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা যায় না—এই চেতনার কারণেই তিনি অনেকের কাছে ভয়ংকর হয়ে উঠেছিলেন।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘হাদি কখনো কারও প্রতি অন্যায় করেননি, কারও ওপর জুলুম চালাননি। বরং তিনি সবসময় ইনসাফের কথা বলেছেন। এমনকি নিজের শত্রুর প্রতিও যেন অবিচার না হয়—এমন অবস্থান নিয়েছিলেন। মানুষের অন্তরে যে ভালোবাসার জায়গা তিনি তৈরি করেছিলেন, সেটাই হয়তো কিছু মহলের কাছে অসহনীয় হয়ে উঠেছিল। সেই কারণেই ষড়যন্ত্র করে তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি মন্তব্য করেন, বিপ্লবীদের হত্যা করে বিপ্লবের চেতনাকে দমন করা যায় না; বরং সেই চেতনা আরও বিস্তৃত হয়।

হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের পর সরকার এখন পর্যন্ত যা করেছে, তাতে জনগণ সন্তুষ্ট নয়। দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। যদি খুনিরা পার পেয়ে যায়, তাহলে এই দেশে কারও জীবনই নিরাপদ থাকবে না।’

নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে চাই—নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হোক। এ লক্ষ্যে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নির্বাচনটি যেন সুষ্ঠু হয়, মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় এবং প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন ঘটে। এর বাইরে অন্য কোনো চিন্তা করা হলে তা জাতির জন্য ক্ষতিকর হবে।’

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের উদ্দেশ্যে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গেলে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। গুলিটি তার মাথায় লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

পরদিন ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে হাদির মরদেহ বহনকারী ফ্লাইটটি রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। ২০ ডিসেম্বর দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতিতে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ এলাকায় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে শহীদ হাদিকে দাফন করা হয়।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নির্বাচন নিয়ে কোনো টালবাহানা নয়,ফেব্রুয়ারিতেই ভোট চায় জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান

Update Time : ১১:২৭:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হোক—এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেশের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয়।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) ফজর নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘হাদির খুনিরা কার্যত বাংলাদেশেরই শত্রু। কারণ, হাদি সবসময় দেশের পক্ষে কথা বলতেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে ছিলেন। তিনি আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির কথা বলতেন এবং অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাদি কোটি তরুণের মনে দ্রোহ ও প্রতিবাদের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন—এই দেশ, এই জাতির দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে। কোনো কালো চিলকে আর আমাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে দেওয়া যাবে না। জীবন দেওয়া যায়, কিন্তু অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা যায় না—এই চেতনার কারণেই তিনি অনেকের কাছে ভয়ংকর হয়ে উঠেছিলেন।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘হাদি কখনো কারও প্রতি অন্যায় করেননি, কারও ওপর জুলুম চালাননি। বরং তিনি সবসময় ইনসাফের কথা বলেছেন। এমনকি নিজের শত্রুর প্রতিও যেন অবিচার না হয়—এমন অবস্থান নিয়েছিলেন। মানুষের অন্তরে যে ভালোবাসার জায়গা তিনি তৈরি করেছিলেন, সেটাই হয়তো কিছু মহলের কাছে অসহনীয় হয়ে উঠেছিল। সেই কারণেই ষড়যন্ত্র করে তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি মন্তব্য করেন, বিপ্লবীদের হত্যা করে বিপ্লবের চেতনাকে দমন করা যায় না; বরং সেই চেতনা আরও বিস্তৃত হয়।

হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের পর সরকার এখন পর্যন্ত যা করেছে, তাতে জনগণ সন্তুষ্ট নয়। দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। যদি খুনিরা পার পেয়ে যায়, তাহলে এই দেশে কারও জীবনই নিরাপদ থাকবে না।’

নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে চাই—নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হোক। এ লক্ষ্যে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নির্বাচনটি যেন সুষ্ঠু হয়, মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় এবং প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন ঘটে। এর বাইরে অন্য কোনো চিন্তা করা হলে তা জাতির জন্য ক্ষতিকর হবে।’

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের উদ্দেশ্যে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গেলে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। গুলিটি তার মাথায় লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

পরদিন ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে হাদির মরদেহ বহনকারী ফ্লাইটটি রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। ২০ ডিসেম্বর দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতিতে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ এলাকায় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে শহীদ হাদিকে দাফন করা হয়।