ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের তীব্র প্রতিবাদ, সরকারকে পুরো দায় নিতে হবে—মির্জা ফখরুল; কিন্তু হাদি হত্যার দায় কে নেবে?
- Update Time : ১১:৩১:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১৫৯ Time View

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে যে শোক, ক্ষোভ ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তারই ধারাবাহিকতায় রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলার প্রেক্ষাপটে শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি বিবৃতি দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি এসব ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সরকারের ওপর সরাসরি দায় চাপান। তবে একই সঙ্গে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—হাদি হত্যার দায় কে নেবে?
তবে মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্যের পরই সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আরেকটি প্রশ্ন জোরালোভাবে উঠেছে—ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের দায় সরকার নেবে বলা হলেও, শরিফ ওসমান হাদির হত্যার দায় কে নেবে? কে পরিকল্পনা করেছে এই হত্যাকাণ্ড, কারা এর পেছনে ছিল, এবং কেন এখনো দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই—এই প্রশ্নগুলো জনমনে ক্রমেই আরও তীব্র হচ্ছে।
ফেসবুক পোস্টে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। এই দেশের প্রতিটি নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। তিনি লেখেন, ‘হাদির মৃত্যুতে শোকাহত জাতি যখন সৃষ্টিকর্তার কাছে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছে, ঠিক সেই মুহূর্তে ডেইলি স্টার, প্রথম আলোসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং বরেণ্য সাংবাদিক নূরুল কবিরসহ আরও অনেকের ওপর হীন ও ন্যক্কারজনক হামলা সংঘটিত হয়েছে।’
এই ঘটনাগুলোকে ‘সন্ত্রাস’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের সংকটময় মুহূর্তকে যারা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে পরিণত করে, তারা কখনোই জনগণের বন্ধু হতে পারে না। তাঁর ভাষায়, ‘দেশের সঙ্কটকে কাজে লাগানোর জন্য যারা অপেক্ষা করে, তারাই এই দেশের প্রকৃত শত্রু। তারা অপেক্ষা করে সুযোগের। আজ জাতির দুঃখভারাক্রান্ত মুহূর্তকে তারা পরিকল্পিতভাবে সহিংসতায় রূপ দিয়েছে।’
মির্জা ফখরুল তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, শরিফ ওসমান হাদি একজন নির্বাচনী প্রার্থী ছিলেন, যিনি জনগণের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে কথা বলেছেন। ‘নির্বাচন হবে, এবং বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে—ইনশাআল্লাহ,’ বলেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, হাদির আততায়ী যেমন বিচারের আওতায় আসবে, তেমনি প্রতিটি মব সন্ত্রাসের ঘটনাকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। তাঁর মতে, প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে সংঘটিত মব সন্ত্রাস জাতিকে গভীরভাবে বিভক্ত করেছে।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের পতনের পর নতুন বাস্তবতায় সরকারের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত ছিল জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে বলেও তাঁর ইঙ্গিত। তিনি সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান এবং সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেন।
তবে মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্যের পরই সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আরেকটি প্রশ্ন জোরালোভাবে উঠেছে—ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের দায় সরকার নেবে বলা হলেও, শরিফ ওসমান হাদির হত্যার দায় কে নেবে? কে পরিকল্পনা করেছে এই হত্যাকাণ্ড, কারা এর পেছনে ছিল, এবং কেন এখনো দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই—এই প্রশ্নগুলো জনমনে ক্রমেই আরও তীব্র হচ্ছে।
অনেকের মতে, হাদির হত্যার সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে শুধু সহিংসতার নিন্দা কিংবা দায় চাপানোর রাজনীতি জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে পারবে না। বরং বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও ক্ষোভ জন্ম দেবে, যা নতুন করে অস্থিরতা ডেকে আনতে পারে। তাই এই মুহূর্তে রাষ্ট্রের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—সহিংসতা দমন, অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং একই সঙ্গে একটি বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে আর কোনো হাদি প্রাণ হারাবেন না।
















