সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই ১৯৭১ সালে আমাদের সহযোগিতা করেছিল ভারত: মিয়া গোলাম পরওয়ার

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৯:১২:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১৫২ Time View

 

পাকিস্তানের কাছে ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই ভারত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে সহযোগিতা করেছিল—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ভারতের ওই সহযোগিতা নিছক মানবিক বা স্বাধীনতাকামী জনগণের প্রতি সহানুভূতিবশত ছিল না; বরং এর পেছনে ছিল কৌশলগত ও প্রতিশোধমূলক রাজনৈতিক উদ্দেশ্য।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত একটি ম্যারাথন শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “ভারত আমাদের স্বাধীনতার জন্য নয়, বরং পাকিস্তানের সঙ্গে ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে লজ্জাজনক পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে ১৯৭১ সালে আমাদের সহযোগিতা করেছিল। স্বাধীনতার পর তারা বাংলাদেশের পূর্ণ সার্বভৌমত্বকে সম্মান না করে আওয়ামী-বাকশালীদের মাধ্যমে দেশকে একটি করদ রাজ্যে পরিণত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়েছে। তবে আগস্ট বিপ্লবের মাধ্যমে সেই আধিপত্যবাদী পরিকল্পনার অবসান ঘটেছে।”

তিনি আরও বলেন, “১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনী বাংলাদেশের জনগণের ওপর চালানো দীর্ঘ নয় মাসের জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পর প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আধিপত্যবাদী মানসিকতা এবং তাদের দেশীয় দোসরদের কারণে আমরা বিজয়ের পূর্ণ সুফল ভোগ করতে পারিনি। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে স্বাধীনতাকে সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত করাও সম্ভব হয়নি।”

পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সবচেয়ে বেদনাদায়ক ও প্রশ্নবিদ্ধ বিষয় হলো—পাকিস্তানি বাহিনী সেদিন আমাদের মুক্তিযোদ্ধা বা বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীর কাছে নয়, বরং ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা জগজিৎ সিং আরোরার কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। কেন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন না, সে প্রশ্নের আজও জাতি কোনো সন্তোষজনক উত্তর পায়নি।”

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও দাবি করেন, “এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে ভারত ১৬ ডিসেম্বরকে নিজেদের বিজয় দিবস হিসেবে প্রচার ও পালন করে থাকে। এটি বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতাকামী জনগণের আত্মত্যাগের প্রতি চরম অবমাননার শামিল।”

সমাবেশে তিনি বলেন, “আজকের বিজয় দিবসে আমাদের শপথ নিতে হবে—কোনো বিদেশি আধিপত্য, দমন-পীড়ন কিংবা দেশীয় স্বৈরাচারের কাছে আর কখনো মাথা নত করব না। একটি সত্যিকারের স্বাধীন, ন্যায়ভিত্তিক ও ইসলামী মূল্যবোধসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়াই হবে আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য।”

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সভাপতিত্বে এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ফখরুদ্দীন মানিকের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, মোবারক হোসাইনসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই ১৯৭১ সালে আমাদের সহযোগিতা করেছিল ভারত: মিয়া গোলাম পরওয়ার

Update Time : ০৯:১২:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

 

পাকিস্তানের কাছে ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই ভারত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে সহযোগিতা করেছিল—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ভারতের ওই সহযোগিতা নিছক মানবিক বা স্বাধীনতাকামী জনগণের প্রতি সহানুভূতিবশত ছিল না; বরং এর পেছনে ছিল কৌশলগত ও প্রতিশোধমূলক রাজনৈতিক উদ্দেশ্য।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত একটি ম্যারাথন শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “ভারত আমাদের স্বাধীনতার জন্য নয়, বরং পাকিস্তানের সঙ্গে ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে লজ্জাজনক পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে ১৯৭১ সালে আমাদের সহযোগিতা করেছিল। স্বাধীনতার পর তারা বাংলাদেশের পূর্ণ সার্বভৌমত্বকে সম্মান না করে আওয়ামী-বাকশালীদের মাধ্যমে দেশকে একটি করদ রাজ্যে পরিণত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়েছে। তবে আগস্ট বিপ্লবের মাধ্যমে সেই আধিপত্যবাদী পরিকল্পনার অবসান ঘটেছে।”

তিনি আরও বলেন, “১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনী বাংলাদেশের জনগণের ওপর চালানো দীর্ঘ নয় মাসের জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পর প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আধিপত্যবাদী মানসিকতা এবং তাদের দেশীয় দোসরদের কারণে আমরা বিজয়ের পূর্ণ সুফল ভোগ করতে পারিনি। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে স্বাধীনতাকে সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত করাও সম্ভব হয়নি।”

পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সবচেয়ে বেদনাদায়ক ও প্রশ্নবিদ্ধ বিষয় হলো—পাকিস্তানি বাহিনী সেদিন আমাদের মুক্তিযোদ্ধা বা বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীর কাছে নয়, বরং ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা জগজিৎ সিং আরোরার কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। কেন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন না, সে প্রশ্নের আজও জাতি কোনো সন্তোষজনক উত্তর পায়নি।”

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও দাবি করেন, “এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে ভারত ১৬ ডিসেম্বরকে নিজেদের বিজয় দিবস হিসেবে প্রচার ও পালন করে থাকে। এটি বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতাকামী জনগণের আত্মত্যাগের প্রতি চরম অবমাননার শামিল।”

সমাবেশে তিনি বলেন, “আজকের বিজয় দিবসে আমাদের শপথ নিতে হবে—কোনো বিদেশি আধিপত্য, দমন-পীড়ন কিংবা দেশীয় স্বৈরাচারের কাছে আর কখনো মাথা নত করব না। একটি সত্যিকারের স্বাধীন, ন্যায়ভিত্তিক ও ইসলামী মূল্যবোধসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়াই হবে আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য।”

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সভাপতিত্বে এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ফখরুদ্দীন মানিকের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, মোবারক হোসাইনসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা।