তারুণ্যের নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত ম্যারাথন চলবেই: ডা. শফিকুর রহমান
- Update Time : ১১:৪১:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১৫০ Time View

তারুণ্যের শক্তিতে একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে—এমন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, যত বাধা, হুমকি কিংবা ভয়ভীতি আসুক না কেন, এই আন্দোলন থেমে থাকবে না। তরুণদের হাত ধরেই জাতির স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে, ইনশাআল্লাহ।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত যুব ম্যারাথন কর্মসূচির উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পুরোনো ও ব্যর্থ রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে আগামীর বাংলাদেশ পরিচালিত হবে নতুন ধারার রাজনীতিতে। এই রাজনীতি হবে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, খুন, ধর্ষণ, মামলাবাজি এবং দুর্নীতি-অনাচারের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামের রাজনীতি।
তিনি আরও বলেন, “তারুণ্যের নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত এই ম্যারাথন চলবেই। আমরা কোনো বাধায় থামবো না। ভয়ভীতি দেখিয়ে তরুণদের দমিয়ে রাখা যাবে না। তরুণ সমাজই হবে পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি।”
আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে আমীরে জামায়াত বলেন, কোনো ধরনের কারিগরি ষড়যন্ত্র জনগণ মেনে নেবে না। নির্বাচন কমিশনের কাছে তারা কোনো বিশেষ সুবিধা চান না, তবে কমিশন যদি কারও প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখায়, তা জনগণ বরদাস্ত করবে না। কালো টাকার শক্তিতে মানুষকে কেনার চেষ্টা করলে জনগণ সেই চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষ এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সচেতন ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত। দেশপ্রেমিক জাতিকে কালো টাকায় কেনা সম্ভব নয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের ওপর দীর্ঘদিন বৈষম্য ও জুলুম চালানোর কারণেই জনগণ বিদ্রোহে ফেটে পড়েছিল। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নির্বাচিত নেতারা জনগণকে বৈষম্যহীন শাসনের প্রতিশ্রুতি দিলেও স্বাধীনতার পর সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। বরং তারা বহুদলীয় গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, সংবাদপত্র বন্ধ করেছে, মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। রক্ষী বাহিনী গঠন করে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে, মা-বোনদের ইজ্জত লুণ্ঠন করা হয়েছে। বাকশাল কায়েম করে পরিবারতন্ত্রের শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়। এমনকি ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠরা ব্যাংক ডাকাতি ও বিদেশি দাতা সংস্থার খাদ্য ও অর্থ লুটে জড়িত ছিল। এই সাড়ে চার বছরের দুঃশাসনই মানুষকে বিদ্রোহী করে তোলে।
তিনি বলেন, যারা ৭২, ৯৬ ও ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসেছিল, তারা প্রতিবারই অতীতের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে, কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে আবারও পুরোনো রূপে ফিরে গেছে। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টন মোড়ে মানুষকে পিটিয়ে হত্যার মতো ঘটনা, ২০০৯ সালে পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরে আলেম-ওলামা হত্যাসহ গত ১৫ বছরে এমন কোনো জনপদ নেই যেখানে জুলুম হয়নি। এসব কারণেই জুলাই আন্দোলনে পুরো দেশ ফুঁসে উঠেছিল এবং তারা জনরোষের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখনো তারা পলাতক অবস্থায় থেকে চোরাগোপ্তা হামলা চালাচ্ছে। তাদের টার্গেট দেশের তরুণ ও বিপ্লবীরা। সেই ধারাবাহিকতায় জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা ওসমান হাদীর ওপর হত্যাচেষ্টা চালানো হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ওসমান হাদীর কোনো ক্ষতি হলে বিপ্লবীরা বসে থাকবে না। কয়েকজনকে শেষ করে বিপ্লব থামানো যাবে—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বরং দিন দিন বিপ্লবী তরুণের সংখ্যা আরও বাড়বে। তরুণ সমাজ সব অপশক্তি রুখে দিতে প্রস্তুত।
উদ্বোধনী সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “রাজপথে বিজয়ে—চলো একসাথে বাংলাদেশ গড়ি” এই স্লোগানে জামায়াতে ইসলামী সকলকে সঙ্গে নিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রস্তুত। তিনি বলেন, আজকের এই যুব ম্যারাথন অতীতের পচে যাওয়া রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে নতুন ধারার রাজনীতির স্পষ্ট বার্তা বহন করছে। ১৯৭১ সালে দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা হলেও প্রকৃত স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ৭১-এর চেতনা বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণেই ২০২৪ সালে জুলাই বিপ্লব নতুন চেতনায় নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে। বুলেট ও বোমাকে ভয় না করে তরুণ সমাজকে এই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে দৃঢ় শপথ নিতে হবে।
কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেনের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এ সময় কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরী উত্তর-দক্ষিণের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী সভা শেষে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুব ম্যারাথনের উদ্বোধন করেন। এই ম্যারাথনে অর্ধলক্ষের বেশি তরুণ অংশগ্রহণ করেন। ম্যারাথনটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ ও সায়েন্সল্যাব হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউতে গিয়ে শেষ হয়। পুরো আয়োজনজুড়ে তরুণদের উদ্দীপনা, শ্লোগান ও অংশগ্রহণ নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নকে আরও দৃঢ়ভাবে সামনে তুলে ধরে।
















