আওয়ামী লীগ ৫০ জন প্রার্থীকে হত্যা করার পরিকল্পনা করছে: রাশেদ খান
- Update Time : ০২:২০:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ২০১ Time View

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ একটি ভয়াবহ পরিকল্পনা নিয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ৫০ জন রাজনৈতিক প্রার্থীকে হত্যা করা হবে। তিনি বলেন, এই হত্যার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার স্বপ্ন রক্ষা করতে লড়াই করা বিপ্লবী নেতাদের ওপর হামলার প্রমাণ ইতোমধ্যেই লক্ষ্য করা গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একজন হলেন ওসমান হাদি ভাই, যিনি বলিষ্ঠ কণ্ঠে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছিলেন। রাশেদ খান জানান, ওসমান হাদির ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানো হয়েছিল, কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই ঘটনায় জড়িত আসামিদের কোনো গ্রেফতার হয়নি।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খান আরও বলেন, “আমরা দেখেছি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ঘোষণা করেছেন, যদি এই আসামিদের কেউ চিহ্নিত করতে পারে, তাহলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ, র্যাব এবং যৌথ বাহিনী তখন কোথায় ছিল?” তিনি উল্লেখ করেন, এর আগে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ ঘোষণা করা হয়েছিল। তার মতে, বর্তমান সময়ে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ২’ ঘোষণা করা উচিত, যাতে ফ্যাসিবাদের দোসররা যারা বিভিন্ন সরকারী দপ্তর, উপদেষ্টা পরিষদ ও বাহিনীতে অবস্থান করছে, তাদের শনাক্ত এবং শাস্তি দেওয়া যায়।
রাশেদ খান সরকারী অযোগ্যতা ও অদক্ষতা নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, “এই সরকারের উপদেষ্টা এবং প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং ভুল সিদ্ধান্তের কারণে রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যর্থ হয়েছে। তারা সর্বদা সংস্কারের কথা বলেছে, কিন্তু আমরা কোনো কার্যকর সংস্কার দেখতে পাইনি। আমাদের দেশে এখনো উন্নত, সমৃদ্ধ এবং জনগণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।”
তিনি স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য স্মরণ করিয়ে বলেন, “স্বাধীনতার অনেক বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে একটি নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। তখনকার মুক্তিযোদ্ধারা যেটি স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই নতুন বাংলাদেশের নির্মাণ এখনও অসম্পূর্ণ।”
রাশেদ খান আরও যোগ করেন, “আওয়ামী লীগ, যারা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে দাবি করেছে, তারা আসলে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। এভাবে তারা মূলত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নষ্ট করেছে।”
















