সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগ তিন দফায় ক্ষমতায় এসে দেশকে রক্তে ভাসিয়েছে, কাড়ি কাড়ি লাশ উপহার দিয়েছে: জামায়াত আমির

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০২:০৯:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১৬২ Time View

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করে বলেছেন, আওয়ামী লীগ তিন দফায় রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে দেশকে ছোপ ছোপ রক্ত আর কাড়ি কাড়ি লাশ উপহার দিয়েছে। স্বাধীনতার পর যে স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে জনগণ নতুন বাংলাদেশের দিকে তাকিয়েছিল, আওয়ামী লীগের শাসনামলে তার কোনো বাস্তবায়ন হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত ‘যুব ম্যারাথন’-এর উদ্বোধনপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশে একনায়কতন্ত্র কায়েম হয়েছিল। এর পরিণতি জাতি স্বচক্ষে দেখেছে। মানুষ ভেবেছিল, আওয়ামী লীগ সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, তারা তিন দফায় ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে রক্তাক্ত করেছে, কাড়ি কাড়ি লাশ উপহার দিয়েছে।”

আওয়ামী লীগের শাসনকাল তুলে ধরে তিনি বলেন, “১৯৭২–৭৫, ১৯৯৬ এবং ২০০৯—এই তিন দফায় তাদের শাসনামলে দেশের এমন কোনো জনপদ নেই, যেখানে তাদের হাতে মানুষ নির্যাতিত হয়নি বা প্রাণ হারায়নি। এমন কোনো এলাকা নেই, যেখানে মা-বোনদের ইজ্জত লুণ্ঠিত হয়নি। একটি প্রতীকে ভোট দেওয়ার অপরাধে নোয়াখালীতে এক মাকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে।”

১৯৯৬ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে আওয়ামী লীগের অবস্থান স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, “ক্ষমতায় আসার আগে তারা জনগণের সামনে হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়েছিল। বলেছিল—অতীতে যে অন্যায় ও জুলুম হয়েছে, তার জন্য বিনা শর্তে ক্ষমা চাই। একবার সুযোগ দিলে তারা ভালো হয়ে গেছে। হাতে তসবি, মাথায় ঘোমটা—মানুষ ভেবেছিল তাদের মানসিকতার পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতার মসনদে বসেই তারা আসল চেহারা দেখিয়েছে।”

মুক্তিযুদ্ধের প্রাক ও পরবর্তী প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “১৯৭১ সালে ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক-জনতা এক বুক আশা আর চোখভরা স্বপ্ন নিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। মানুষ ভেবেছিল, স্বাধীন দেশে বৈষম্য থাকবে না, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু স্বাধীনতার পর ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী সেই আশা পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “স্বাধীনতার পর সেনাবাহিনী, আধাসামরিক বাহিনী ও পুলিশ থাকার পরও রক্ষীবাহিনী গঠন করা হয়েছিল। তাদের হাতে মানুষ নির্যাতিত হয়েছে, মা-বোনদের ইজ্জত লুণ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে শত শত মানুষের লাশ মাঠে-ঘাটে পড়ে ছিল, দাফনের ব্যবস্থাও ছিল না। সোনার বাংলা গড়ার স্লোগান দিয়ে দেশকে শ্মশানে পরিণত করা হয়েছিল।”

যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “অতীতের সব বস্তাপচা রাজনীতিকে পায়ের নিচে ফেলতে হবে। বাংলাদেশে এখন নতুন রাজনীতি দরকার—যে রাজনীতি হবে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ, দখলদারি ও মামলাবাজির বিরুদ্ধে।”

তিনি বলেন, “আমরা শুধু একটি দলের বিজয় চাই না, চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। এই বিজয়ের পথে যারা বাধা হয়ে দাঁড়াবে, যুবকরাই তাদের প্রতিহত করবে।”

নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা কোনো আনুকূল্য চাই না। কিন্তু কমিশন যদি কারও প্রতি সামান্য আনুকূল্যও দেখায়, তা বরদাস্ত করা হবে না। সংবিধান ও শপথ অনুযায়ী একটি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জাতিকে উপহার দেওয়ার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনেরই পালন করতে হবে।”

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আওয়ামী লীগ তিন দফায় ক্ষমতায় এসে দেশকে রক্তে ভাসিয়েছে, কাড়ি কাড়ি লাশ উপহার দিয়েছে: জামায়াত আমির

Update Time : ০২:০৯:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করে বলেছেন, আওয়ামী লীগ তিন দফায় রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে দেশকে ছোপ ছোপ রক্ত আর কাড়ি কাড়ি লাশ উপহার দিয়েছে। স্বাধীনতার পর যে স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে জনগণ নতুন বাংলাদেশের দিকে তাকিয়েছিল, আওয়ামী লীগের শাসনামলে তার কোনো বাস্তবায়ন হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত ‘যুব ম্যারাথন’-এর উদ্বোধনপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশে একনায়কতন্ত্র কায়েম হয়েছিল। এর পরিণতি জাতি স্বচক্ষে দেখেছে। মানুষ ভেবেছিল, আওয়ামী লীগ সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, তারা তিন দফায় ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে রক্তাক্ত করেছে, কাড়ি কাড়ি লাশ উপহার দিয়েছে।”

আওয়ামী লীগের শাসনকাল তুলে ধরে তিনি বলেন, “১৯৭২–৭৫, ১৯৯৬ এবং ২০০৯—এই তিন দফায় তাদের শাসনামলে দেশের এমন কোনো জনপদ নেই, যেখানে তাদের হাতে মানুষ নির্যাতিত হয়নি বা প্রাণ হারায়নি। এমন কোনো এলাকা নেই, যেখানে মা-বোনদের ইজ্জত লুণ্ঠিত হয়নি। একটি প্রতীকে ভোট দেওয়ার অপরাধে নোয়াখালীতে এক মাকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে।”

১৯৯৬ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে আওয়ামী লীগের অবস্থান স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, “ক্ষমতায় আসার আগে তারা জনগণের সামনে হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়েছিল। বলেছিল—অতীতে যে অন্যায় ও জুলুম হয়েছে, তার জন্য বিনা শর্তে ক্ষমা চাই। একবার সুযোগ দিলে তারা ভালো হয়ে গেছে। হাতে তসবি, মাথায় ঘোমটা—মানুষ ভেবেছিল তাদের মানসিকতার পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতার মসনদে বসেই তারা আসল চেহারা দেখিয়েছে।”

মুক্তিযুদ্ধের প্রাক ও পরবর্তী প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “১৯৭১ সালে ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক-জনতা এক বুক আশা আর চোখভরা স্বপ্ন নিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। মানুষ ভেবেছিল, স্বাধীন দেশে বৈষম্য থাকবে না, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু স্বাধীনতার পর ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী সেই আশা পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “স্বাধীনতার পর সেনাবাহিনী, আধাসামরিক বাহিনী ও পুলিশ থাকার পরও রক্ষীবাহিনী গঠন করা হয়েছিল। তাদের হাতে মানুষ নির্যাতিত হয়েছে, মা-বোনদের ইজ্জত লুণ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে শত শত মানুষের লাশ মাঠে-ঘাটে পড়ে ছিল, দাফনের ব্যবস্থাও ছিল না। সোনার বাংলা গড়ার স্লোগান দিয়ে দেশকে শ্মশানে পরিণত করা হয়েছিল।”

যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “অতীতের সব বস্তাপচা রাজনীতিকে পায়ের নিচে ফেলতে হবে। বাংলাদেশে এখন নতুন রাজনীতি দরকার—যে রাজনীতি হবে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ, দখলদারি ও মামলাবাজির বিরুদ্ধে।”

তিনি বলেন, “আমরা শুধু একটি দলের বিজয় চাই না, চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। এই বিজয়ের পথে যারা বাধা হয়ে দাঁড়াবে, যুবকরাই তাদের প্রতিহত করবে।”

নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা কোনো আনুকূল্য চাই না। কিন্তু কমিশন যদি কারও প্রতি সামান্য আনুকূল্যও দেখায়, তা বরদাস্ত করা হবে না। সংবিধান ও শপথ অনুযায়ী একটি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জাতিকে উপহার দেওয়ার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনেরই পালন করতে হবে।”