সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাদিকে গুলি: মূল অভিযুক্ত ফয়সালের স্ত্রী, শ্যালক ও বান্ধবী আটক

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:৫৯:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১৫৩ Time View

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানোর ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতির অংশ হিসেবে আরও তিনজনকে আটক করেছে র‌্যাব। আটককৃতরা হলেন এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের স্ত্রী সামিয়া, তার বান্ধবী মারিয়া এবং শ্যালক শিপু।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

তিনি জানান, ওসমান হাদি হত্যাচেষ্টা মামলার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের স্বাক্ষরযুক্ত বিপুল পরিমাণ চেকবই, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব আলামত অপরাধের অর্থায়ন, পলাতক অবস্থায় যোগাযোগ এবং হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকতে পারে। আটক তিনজনকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে এই ঘটনায় সরাসরি গুলি চালানো ব্যক্তি ও তার সহযোগীকে শনাক্ত করার তথ্য জানায় পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম জানান, হামলায় জড়িত দুই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা হলেন ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর শেখ। পুলিশের ভাষ্যমতে, ঘটনার সময় মোটরসাইকেলের পেছনের আসনে বসে থাকা ফয়সাল করিম মাসুদ গুলি চালান এবং আলমগীর শেখ মোটরসাইকেল চালকের দায়িত্বে ছিলেন।

পুলিশ আরও জানায়, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই মোটরসাইকেল এবং জব্দকৃত আলামত ঘটনাটির পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও পলাতক সহযোগীদের চিহ্নিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, রাজধানীর ব্যস্ত এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে শরিফ ওসমান হাদির ওপর এই সশস্ত্র হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না—তা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

হাদিকে গুলি: মূল অভিযুক্ত ফয়সালের স্ত্রী, শ্যালক ও বান্ধবী আটক

Update Time : ১০:৫৯:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানোর ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতির অংশ হিসেবে আরও তিনজনকে আটক করেছে র‌্যাব। আটককৃতরা হলেন এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের স্ত্রী সামিয়া, তার বান্ধবী মারিয়া এবং শ্যালক শিপু।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

তিনি জানান, ওসমান হাদি হত্যাচেষ্টা মামলার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের স্বাক্ষরযুক্ত বিপুল পরিমাণ চেকবই, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব আলামত অপরাধের অর্থায়ন, পলাতক অবস্থায় যোগাযোগ এবং হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকতে পারে। আটক তিনজনকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে এই ঘটনায় সরাসরি গুলি চালানো ব্যক্তি ও তার সহযোগীকে শনাক্ত করার তথ্য জানায় পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম জানান, হামলায় জড়িত দুই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা হলেন ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর শেখ। পুলিশের ভাষ্যমতে, ঘটনার সময় মোটরসাইকেলের পেছনের আসনে বসে থাকা ফয়সাল করিম মাসুদ গুলি চালান এবং আলমগীর শেখ মোটরসাইকেল চালকের দায়িত্বে ছিলেন।

পুলিশ আরও জানায়, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই মোটরসাইকেল এবং জব্দকৃত আলামত ঘটনাটির পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও পলাতক সহযোগীদের চিহ্নিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, রাজধানীর ব্যস্ত এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে শরিফ ওসমান হাদির ওপর এই সশস্ত্র হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না—তা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।