হাদিকে গুলির ঘটনা নির্বাচনে বিঘ্ন সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের অংশ: তারেক রহমান
- Update Time : ০৯:৪৩:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১৬৯ Time View

ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদি ওরফে ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনাকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্রকামী শক্তিকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার অপচেষ্টা এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং এই ধরনের হামলা তারই নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরেই প্রত্যক্ষ করছে—কীভাবে একটি স্বার্থান্বেষী ও গণতন্ত্রবিরোধী চক্র শর্তের পর শর্ত জুড়ে দিয়ে, কখনো অজুহাত সৃষ্টি করে আবার কখনো সহিংসতা উসকে দিয়ে নির্বাচনের পথে বাধা সৃষ্টি করে আসছে। তিনি বলেন, বহু প্রতিকূলতা ও বাধা অতিক্রম করে দেড় দশকেরও বেশি সময় পর নির্বাচন কমিশন যখন জনগণের প্রত্যাশিত জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে, ঠিক তখনই এই ষড়যন্ত্রকারীরা নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র এখনো থেমে যায়নি। গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নেওয়া সাহসী মানুষদের টার্গেট করা হচ্ছে। ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনা সেই ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রেরই একটি অংশ। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার মনে কয়েকটি মৌলিক প্রশ্ন এসেছে, আর সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজলেই এই হামলার নেপথ্যে থাকা শক্তিগুলোর চেহারা স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যর্থ হলে কারা সবচেয়ে বেশি খুশি হবে? নির্বাচন ছাড়াই যদি এই সরকার দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে কারা রাজনৈতিকভাবে লাভবান হবে? জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত না হলে আসলে কাদের স্বার্থ রক্ষা পায়? তারেক রহমান বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই প্রশ্নগুলোর উত্তরেই হাদির ওপর হামলাকারী ও তাদের মদদদাতারা লুকিয়ে আছে। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের শত্রুরা এখানেই ওত পেতে বসে রয়েছে।
তারেক রহমান আরও বলেন, একটি পতিত ও পলাতক চক্র দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের দলীয় ও সংকীর্ণ স্বার্থে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করে এসেছে। তারা স্বাধীনতার ইতিহাসকে দলীয় ইতিহাসে রূপান্তর করার চেষ্টা করেছে। অতীতের মতো বর্তমানেও একটি পরাজিত শক্তি বিজয়ের নতুন ইতিহাস রচনার মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে, যা কখনোই সফল হবে না।
তিনি বলেন, এবারের বিজয় দিবসে বিএনপির অঙ্গীকার প্রতিশোধ নয়, বরং প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে বিজয়ের সুফল পৌঁছে দেওয়া। একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।
দলের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না হলে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র কখনো টেকসই হতে পারে না। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—যখনই গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হয়েছে। জনগণকে ক্ষমতাহীন করে রেখে কোনো রাষ্ট্রই প্রকৃত অর্থে শক্তিশালী হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। সে কারণেই বিএনপি শুরু থেকেই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে দৃঢ় ও আপসহীন অবস্থান নিয়ে এসেছে।
শেষ বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, যারা স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষকে ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখতে চায়, তারা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবেই। ১৯৭১, ১৯৭৫, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের আন্দোলন প্রমাণ করেছে—জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে বিজয় অনিবার্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময়েই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার এই আন্দোলনে তিনি নিজেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকবেন।
তারেক রহমান বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন কেবল একটি নির্বাচন নয়; এটি দেশের সার্বভৌমত্ব, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা এবং আগামী দশকের রাষ্ট্রীয় রূপান্তরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। নারী, তরুণ, কৃষক ও শ্রমিকসহ সব কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন ও লক্ষ্য।
আলোচনা সভার শেষে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে তিনি দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
















