সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রতিবাদে সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশের ডাক ইনকিলাব মঞ্চের

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:৩৫:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১৬১ Time View
সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশের ডাক ইনকিলাব মঞ্চের । ছবি: সংগৃহীত

 

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও সংগঠক শরিফ ওসমান হাদির ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনার প্রতিবাদে সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির কথা জানান সংগঠনটির সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে সোমবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ভারতপন্থী বা দেশবিরোধী অবস্থান গ্রহণকারী কোনো ব্যক্তি বা দলকে এই সমাবেশে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

আব্দুল্লাহ আল জাবের আরও জানান, গুরুতর আহত শরিফ ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা হয়েছে। এই অর্থের জোগান এসেছে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী ও হাদির পরিবারের পক্ষ থেকে—যারা প্রায় অর্ধকোটি টাকা ধার করে এই ব্যবস্থা করেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো আর্থিক বা লজিস্টিক সহায়তা তারা গ্রহণ করেননি। তবে চিকিৎসকদের মতামতের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, পরিবার বা রাষ্ট্র চাইলে দ্রুত তাকে বিদেশে স্থানান্তর করা সম্ভব।

সংবাদ সম্মেলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব। তার ভাষায়, শরিফ ওসমান হাদি দীর্ঘদিন ধরেই প্রাণনাশের হুমকির কথা প্রকাশ্যে জানিয়ে আসছিলেন এবং এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও তাকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি। হামলার পর যেসব সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে, সেগুলোও ইনকিলাব মঞ্চ নিজ উদ্যোগে শনাক্ত করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

সোমবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিতব্য এই সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন বলে জানানো হয়।

উল্লেখ্য, এর আগেই শনিবার শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে সম্মিলিত কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি–এনসিপি। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। ওই বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকটে গণতন্ত্র ও নিরাপত্তা রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।

শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকে কেন্দ্র করে ক্রমেই রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে ইনকিলাব মঞ্চের ডাকা সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশ দেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রতিবাদে সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশের ডাক ইনকিলাব মঞ্চের

Update Time : ১০:৩৫:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশের ডাক ইনকিলাব মঞ্চের । ছবি: সংগৃহীত

 

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও সংগঠক শরিফ ওসমান হাদির ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনার প্রতিবাদে সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির কথা জানান সংগঠনটির সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে সোমবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ভারতপন্থী বা দেশবিরোধী অবস্থান গ্রহণকারী কোনো ব্যক্তি বা দলকে এই সমাবেশে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

আব্দুল্লাহ আল জাবের আরও জানান, গুরুতর আহত শরিফ ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা হয়েছে। এই অর্থের জোগান এসেছে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী ও হাদির পরিবারের পক্ষ থেকে—যারা প্রায় অর্ধকোটি টাকা ধার করে এই ব্যবস্থা করেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো আর্থিক বা লজিস্টিক সহায়তা তারা গ্রহণ করেননি। তবে চিকিৎসকদের মতামতের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, পরিবার বা রাষ্ট্র চাইলে দ্রুত তাকে বিদেশে স্থানান্তর করা সম্ভব।

সংবাদ সম্মেলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব। তার ভাষায়, শরিফ ওসমান হাদি দীর্ঘদিন ধরেই প্রাণনাশের হুমকির কথা প্রকাশ্যে জানিয়ে আসছিলেন এবং এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও তাকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি। হামলার পর যেসব সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে, সেগুলোও ইনকিলাব মঞ্চ নিজ উদ্যোগে শনাক্ত করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

সোমবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিতব্য এই সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন বলে জানানো হয়।

উল্লেখ্য, এর আগেই শনিবার শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে সম্মিলিত কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি–এনসিপি। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। ওই বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকটে গণতন্ত্র ও নিরাপত্তা রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।

শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকে কেন্দ্র করে ক্রমেই রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে ইনকিলাব মঞ্চের ডাকা সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশ দেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।