সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ ফ্যাসিস্ট হাসিনার

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০২:২৪:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১৭৫ Time View

 

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, যিনি বর্তমানে দিল্লিতে আছেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সংকটকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আইএএনএস জানিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইমেইলের মাধ্যমে বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা সম্পর্কে শুনে আমি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। আমি প্রার্থনা করি তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলা হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে মোট ৫৪ বছরের মধ্যে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা মোট ৩০ বছরের বেশি সময় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে এবং তিনি ভারতে পালিয়ে যান। এই নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়ার পুরোপুরি মুক্তি এবং পূর্বের দুর্নীতি মামলার দায় থেকে খালাস দেয়া হয়।

তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং মৃত্যুদণ্ডের রায় আসে। এছাড়া প্লট দুর্নীতির অভিযোগে আরও দুটো মামলায় তার সাজা হয়। অন্যদিকে, ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলার ঘটনায় শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার দায় বিএনপি সরকারের ওপর চাপানো হয়।

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি:
৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্‌যন্ত্রের জটিলতা, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস এবং কিডনির মতো বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছেন। গত ২৩ নভেম্বর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে তার ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর থেকে তিনি সিসিইউতে ভর্তি আছেন এবং বিএনপি নেতারা তার অবস্থা সংকটজনক বলে জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের শাসনামলে ২০১৮ সালে খালেদা জিয়াকে দুর্নীতি মামলায় সাজা দেওয়া হয় এবং কারাগারে পাঠানো হয়। দুই বছর পর মহামারীর সময় শর্তসাপেক্ষে তাকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়। ওই সময় তার দল ও পরিবার বিদেশে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার চেষ্টা করলেও সরকার অনুমতি দেয়নি।

এই বার্তায় দেখা যায় যে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা সত্ত্বেও শেখ হাসিনা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সংকটকে গুরুত্ব দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরল একটি ঘটনা হিসেবে ধরা হচ্ছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ ফ্যাসিস্ট হাসিনার

Update Time : ০২:২৪:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

 

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, যিনি বর্তমানে দিল্লিতে আছেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সংকটকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আইএএনএস জানিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইমেইলের মাধ্যমে বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা সম্পর্কে শুনে আমি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। আমি প্রার্থনা করি তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলা হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে মোট ৫৪ বছরের মধ্যে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা মোট ৩০ বছরের বেশি সময় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে এবং তিনি ভারতে পালিয়ে যান। এই নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়ার পুরোপুরি মুক্তি এবং পূর্বের দুর্নীতি মামলার দায় থেকে খালাস দেয়া হয়।

তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং মৃত্যুদণ্ডের রায় আসে। এছাড়া প্লট দুর্নীতির অভিযোগে আরও দুটো মামলায় তার সাজা হয়। অন্যদিকে, ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলার ঘটনায় শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার দায় বিএনপি সরকারের ওপর চাপানো হয়।

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি:
৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্‌যন্ত্রের জটিলতা, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস এবং কিডনির মতো বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছেন। গত ২৩ নভেম্বর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে তার ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর থেকে তিনি সিসিইউতে ভর্তি আছেন এবং বিএনপি নেতারা তার অবস্থা সংকটজনক বলে জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের শাসনামলে ২০১৮ সালে খালেদা জিয়াকে দুর্নীতি মামলায় সাজা দেওয়া হয় এবং কারাগারে পাঠানো হয়। দুই বছর পর মহামারীর সময় শর্তসাপেক্ষে তাকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়। ওই সময় তার দল ও পরিবার বিদেশে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার চেষ্টা করলেও সরকার অনুমতি দেয়নি।

এই বার্তায় দেখা যায় যে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা সত্ত্বেও শেখ হাসিনা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সংকটকে গুরুত্ব দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরল একটি ঘটনা হিসেবে ধরা হচ্ছে।