এক দিনেই বিএনপির ১০ লাখ ভোট কমে গেছে: ব্যারিস্টার ফুয়াদ
- Update Time : ০৯:৪৫:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১১৯ Time View

বাবুগঞ্জের সাম্প্রতিক ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক ব্যর্থতা’ ও ‘দলীয় অস্থিরতার প্রতিফলন’ হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপির উদ্দেশে সমালোচনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি দাবি করেন, বরিশালের বাবুগঞ্জে যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি এক দিনের মধ্যেই বিএনপির অন্তত ১০ লাখ সম্ভাব্য ভোটকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে। তার ভাষায়, “আপনাদের দলের একাংশের আচরণ এখন প্রতিদিন হাজার হাজার ভোট কমিয়ে দিচ্ছে। দল যদি এদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তাহলে আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে আরও বড় সংকটে পড়তে হবে।”
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘মীরগঞ্জ সেতু উদ্বোধন-পরবর্তী হেনস্তা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, বরিশাল অঞ্চলের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তিনি এবং তার দল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দাবিদাওয়া ও প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করে আসছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “বরিশালের মানুষের বহুদিনের দাবি ছিল ছয় লেন সড়ক এবং মীরগঞ্জ সেতু। সরকার শুরুতে প্রকল্পগুলো বাতিল করলেও আমরা আন্দোলন করেছি, উপদেষ্টাদের সঙ্গে নিয়মিত তদবির করেছি। চাপ সৃষ্টি করে রিজেক্ট হওয়া প্রকল্পগুলোকে আবার রেগুলার করে এনেছি। তার ধারাবাহিকতায় দেড় হাজার কোটি টাকা বাজেট থেকে মীরগঞ্জ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সম্ভব হয়েছে এবং চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসব কাজ পেয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সেতুর কাজ শুরু করার আগেই বিভিন্ন মহল থেকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। ইট, বালু, পাথর ও শ্রমিক সরবরাহে স্থানীয় প্রভাবশালীরা নিজেদের লোক বসানোর চেষ্টা করছেন, যা বিদেশি কোম্পানিটি উৎকণ্ঠার চোখে দেখছে। ব্যারিস্টার ফুয়াদের ভাষায়, “আমি কোম্পানির লোকদের সঙ্গে বসার অনুরোধ পেলেও নিরাপত্তা ইস্যুর কারণে তা করিনি। উন্নয়ন কাজ নিয়ে কথা বললেই যদি হামলা হতে হয়, তাহলে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।”
তিনি আরও জানান, সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পর এলাকায় ফেরার পথে একটি পক্ষ তাঁর ওপর হামলার চেষ্টা করে। যদিও এই হামলা তার সহকর্মীদের শরীরে লাগে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি কাউকে নাম ধরে বলিনি, কোনো দলকে অভিযুক্ত করিনি। শুধু উন্নয়নের স্বার্থে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা চেয়েছি। কিন্তু সেটিকেই কেন্দ্র করে যেভাবে আমাকে হেনস্তার চেষ্টা করা হলো, তা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য গভীর উদ্বেগজনক।”
ব্যারিস্টার ফুয়াদ অভিযোগ করেন, গত দুই মাস ধরে তার ক্যাম্পেইনে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বাধার ঘটনা নিয়মিত ঘটে চলেছে। থানায় অভিযোগ করতে গেলেও মামলা নেওয়া হয় না। তিনি বলেন, “এগুলো তো আমরা অতীতে আওয়ামী লীগের সময় দেখেছি। প্রশাসনের কিছু অংশ যেন ভেবে বসেছে—ক্ষমতায় যে দল থাকবে তার দাসত্বই করবে। রাষ্ট্র এভাবে চলতে পারে না। আমরা রাষ্ট্রের মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে লড়াই করছি।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ ছাড়া অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব নয়। “যেখানে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন আছে, সেখানে সুষ্ঠু নির্বাচন কখনই সম্ভব নয়। এটি শুধু বরিশালের ঘটনার প্রতিফলন নয়—দেশজুড়েই একই চিত্র দেখা যাচ্ছে,” বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির বরিশাল জেলা ও মহানগরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে বরিশাল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এবং স্থানীয় পরিস্থিতি নিয়ে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।
















