সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একই দিনে নির্বাচন ও গণভোটে সম্মতি

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৯:৫৩:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১২৯ Time View

দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও চলমান দাবিদাওয়ার প্রেক্ষাপটে জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে নির্বাচনের আগে গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসা জামায়াতসহ ইসলামী সমমনা আটটি দল। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাতে লিয়াজোঁ কমিটির এক জরুরি বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়, যা বর্তমানে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়—পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে আয়োজিত এ বৈঠকে আট দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ আলোচনার পর দেশের বৃহত্তর স্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে শরিক দল খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমাদ আব্দুল কাদের বলেন, গণভোট যেন দেশের জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ‘হ্যাঁ’ ভোট পায়, সে জন্য ডিসেম্বরে মাসজুড়ে বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক প্রচারণা চালাবে আট দলের কর্মী ও সংগঠনগুলো। তিনি জানান, “আমরা বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে আমাদের মূল রাজনৈতিক দাবি—লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, ফ্যাসিস্ট অপরাধীদের বিচার, এবং ফ্যাসিবাদের সহযোগী রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা—এই দাবিগুলো বহাল থাকবে এবং আমরা এ বিষয়ে আপস করবো না।”

সভায় লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ ছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবির পক্ষে ইসলামী সমমনা দলগুলো ইতোমধ্যে দেশের আট বিভাগে বড় ধরনের সমাবেশ করেছে। এসব সমাবেশে গণভোট আয়োজনকে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন বলে দাবি করা হয় এবং ডিসেম্বরজুড়ে দেশব্যাপী প্রচার-প্রচারণা আরও জোরদারের ঘোষণা দেওয়া হয়।

আট দলের এই নতুন অবস্থান দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বিশেষত একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনে সম্মতি রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে নতুন দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

একই দিনে নির্বাচন ও গণভোটে সম্মতি

Update Time : ০৯:৫৩:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও চলমান দাবিদাওয়ার প্রেক্ষাপটে জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে নির্বাচনের আগে গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসা জামায়াতসহ ইসলামী সমমনা আটটি দল। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাতে লিয়াজোঁ কমিটির এক জরুরি বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়, যা বর্তমানে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়—পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে আয়োজিত এ বৈঠকে আট দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ আলোচনার পর দেশের বৃহত্তর স্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে শরিক দল খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমাদ আব্দুল কাদের বলেন, গণভোট যেন দেশের জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ‘হ্যাঁ’ ভোট পায়, সে জন্য ডিসেম্বরে মাসজুড়ে বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক প্রচারণা চালাবে আট দলের কর্মী ও সংগঠনগুলো। তিনি জানান, “আমরা বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে আমাদের মূল রাজনৈতিক দাবি—লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, ফ্যাসিস্ট অপরাধীদের বিচার, এবং ফ্যাসিবাদের সহযোগী রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা—এই দাবিগুলো বহাল থাকবে এবং আমরা এ বিষয়ে আপস করবো না।”

সভায় লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ ছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবির পক্ষে ইসলামী সমমনা দলগুলো ইতোমধ্যে দেশের আট বিভাগে বড় ধরনের সমাবেশ করেছে। এসব সমাবেশে গণভোট আয়োজনকে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন বলে দাবি করা হয় এবং ডিসেম্বরজুড়ে দেশব্যাপী প্রচার-প্রচারণা আরও জোরদারের ঘোষণা দেওয়া হয়।

আট দলের এই নতুন অবস্থান দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বিশেষত একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনে সম্মতি রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে নতুন দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।