কেউ যেন বাংলাদেশের ওপর দাদাগিরি করতে না আসে: ডা. শফিকুর রহমান
- Update Time : ১০:১১:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১০২ Time View

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতি, নির্বাচন কিংবা অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়ে বিদেশি বা দেশি কোনো শক্তির দাদাগিরি জনগণ মেনে নেবে না। তিনি বলেন, “আমরা ভয় করি শুধু আল্লাহ তায়ালাকে। বিশ্বের শান্তিকামী সব দেশকে আমরা সম্মান জানাই। কিন্তু কেউ যেন আমাদের ওপর কোনো দাদাগিরি করতে না আসে—এটা আমরা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিচ্ছি। বাংলাদেশ চলবে আল্লাহর নির্দেশ এবং জনগণের মতামতের ভিত্তিতে, কারো ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে নয়।”
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ইসলামী ও সমমনা আট দলের বিভাগীয় মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।
ভয় দেখিয়ে লাভ নেই, জনগণ জেগে উঠেছে: জামায়াত আমির
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজ দেশের রাস্তাঘাট, হাট-বাজার, শহর-বন্দর—সব জায়গায় সাধারণ মানুষ মুক্তি ও পরিবর্তনের অপেক্ষায় আছে। তারা ইঙ্গিত দিয়ে দিচ্ছে আগামী নির্বাচনে কাকে ভোট দেবে। তিনি অভিযোগ করেন—
“আমাদের কেউ কেউ বিভিন্ন দেশের রক্তচক্ষুর ভয় দেখায়। বলে অমুক শক্তি, তমুক শক্তি কিছু করবে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই—ইসলামী ও দেশপ্রেমিক কর্মীরা হাসিমুখে ফাঁসিও বরণ করতে পারে; তাই তাদের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই।”
তিনি আরও বলেন, যেসব রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি বিদেশি শক্তির তোষামোদে রাজনীতি করে, তারা দেশে টিকে থাকবে না।
“অন্যদের তল্পিবাহক হলে শেষ পরিণতি ভালো হয় না। আগের যারা তাবেদারি করেছে—তাদের পরিণতি দেখে শিক্ষা নিন।”
ফ্যাসিস্টরা পালিয়েছে, কিন্তু ফ্যাসিজম এখনো পুরোপুরি যায়নি
জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, দেশে ফ্যাসিবাদী রাজনীতি পরিবর্তন হলেও তার প্রভাব এখনো রয়ে গেছে।
তিনি বলেন, “একদল অপরাধ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। আরেক দল সেই অপরাধের বোঝা কাঁধে নিয়ে আরও শক্ত হাতে একই কাজ করছে। কেউ চাঁদাবাজি করে জনগণের ক্ষোভের কারণ হয়েছে, আর কেউ বেপরোয়া দখলদার
তিনি দাবি করেন, বিরোধী নেতা, আলেম-ওলামা, ছাত্রশিক্ষকসহ সাধারণ মানুষের ওপর মিথ্যা মামলা, কারাবরণ, নির্যাতন ও দেশছাড়ার প্রক্রিয়া এখনো বন্ধ হয়নি।
‘পরিবর্তনের আশা ভেঙে যাচ্ছে, পুরনো রাজনীতির পুনরাবৃত্তি চলছে’
নাগরিকদের প্রত্যাশা ছিল যে আগের সরকারের অপকর্ম দেখে রাজনীতিবিদরা শিক্ষা নেবে—কিন্তু তা হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন—
“একদল দখলদার রাজনীতি করে দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করলো, আরেকদল এসে একই পথ অনুসরণ করছে। তারা সংস্কার করতে রাজি নয়। গণভোটের বিরোধিতা করে শেষে বাধ্য হয়ে একদিনে নির্বাচন করতে হয়েছে।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, এখন আবার কিছু রাজনৈতিক শক্তি নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করতে শুরু করেছে। তিনি মনে করেন, এটি ভালো লক্ষণ নয়।
আগামী নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা হলে জনগণই প্রতিরোধ করবে
জামায়াত আমির বলেন, তিনি মনে করেন দেশের জনগণ আগামী নির্বাচনে ষড়যন্ত্রকারীদের ‘লাল কার্ড’ দেখাতে প্রস্তুত।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন—
“যদি কেউ নির্বাচন ভণ্ডুল করতে চায়, জনগণই তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেবে। প্রশাসনিক ক্যু বা বাঁকা পথে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করলে জানিয়ে দিই—এই সূর্য বাংলাদেশের মাটিতে আর উঠবে না। কালো সূর্য আর ফিরবে না; এবার নতুন সূর্যের উদয় হবে।”
ইসলামী দলগুলোকে আবার ঐক্যের ডাক
জোটের বাইরে থাকা ইসলামী দলগুলোকে উদ্দেশ করে তিনি আহ্বান জানান—
“বন্ধুরা, যারা এখনো বিভ্রান্ত জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন—সেখানটা আপনাদের ঠিকানা নয়। নিজের ঘরে ফিরে আসুন। এই আঙিনাই আপনাদের আঙিনা। আমরা আপনাদের বুকে জড়িয়ে কবুল করব, স্বাগত জানাবো ইনশাআল্লাহ।”
















