সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রুমিন ফারহানা: খুব শিগগিরই দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে মনে হয় না

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:১৭:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১৮৪ Time View
বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা

 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে আলোচনার ঝড় চলছে, তা আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলেন বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রুমিন ফারহানা। একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সাম্প্রতিক টকশোতে তিনি মন্তব্য করেন—যারা বাংলাদেশে একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ দেখতে চান না, তাদের কাছে ‘সবচেয়ে বড় বাধা’ হয়ে দাঁড়িয়েছেন তারেক রহমান।

তার ভাষায়, তারেক রহমানকে শুধু বিএনপির শীর্ষ নেতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করলে ভুল হবে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যৎ যে মধ্যপন্থার ধারায় টিকে আছে, তার অস্তিত্ব এখন অনেকটাই নির্ভর করছে তারেক রহমান রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকতে পারবেন কি না তার ওপর। তাই তার দেশে ফেরা বা রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এখন আর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক গতিপথ, ভবিষ্যৎ ক্ষমতার ভারসাম্য এবং সাধারণ মানুষের ভাগ্যের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, যেকোনো নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। যদি একজন রাজনীতিবিদ মনে করেন যে দেশে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়, তাহলে এর সম্পূর্ণ দায় সরকারকেই নিতে হবে। এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সরকারের ওপর দায়িত্বজ্ঞানহীনতার অভিযোগও পরোক্ষে তুলে ধরেন।

এসময় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তার প্রশ্ন—সরকার কি সত্যিই একটি গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দিকে এগোতে চায়? তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশন ও সরকারের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য মানুষের অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে তুলছে। আগে ঘোষণা হয়েছিল ডিসেম্বরের শুরুতেই নির্বাচনের তফসিল প্রকাশ করা হবে। পরে আবার জানানো হলো এটি ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে আসতে পারে। ফেব্রুয়ারি মাসে আদৌ নির্বাচন হবে কি না—এ প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মুখেও ঘুরছে ঘুরছে।

রুমিন বলেন, সাধারণত নির্বাচনের আগে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। দলীয় অফিসগুলোতে কর্মীদের ভিড়, মাঠে-ময়দানে নেতাদের তৎপরতা, সম্ভাব্য প্রার্থীদের নানা প্রচার—এসবই নির্বাচনী পরিবেশের অংশ। কিন্তু এবার সেই স্বাভাবিক আবহ কোথাও দেখা যাচ্ছে না; বরং সর্বত্র এক ধরনের অস্বাভাবিক স্থবিরতা। কয়েক সপ্তাহ আগেও এনসিপি জোটের বক্তব্য, জামায়াতের হুঁশিয়ারি অথবা বিএনপির মনোনয়নকে ঘিরে আলোচনা—এসব কারণে রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল বেশ উত্তপ্ত। কিন্তু এখন সবকিছুই যেন একেবারে নিস্তব্ধ।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই এখন প্রকাশ্যেই বলছেন যে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। তার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণও একই—দেশে খুব শিগগিরই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে মনে হয় না। বরং পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, অদূর ভবিষ্যতে কোনো বড় রাজনৈতিক সমঝোতা বা পুনর্বিন্যাস না হলে নির্বাচন আরও পিছিয়ে যেতে পারে।

রুমিন ফারহানার এসব মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার বক্তব্য শুধু বিএনপির অবস্থানকেই প্রতিফলিত করেনি, বরং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, নির্বাচন নিয়ে সংশয় এবং ক্ষমতার বলয়ের অদৃশ্য চাপে সাধারণ মানুষের উদ্বেগও তুলে ধরেছে।

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রুমিন ফারহানা: খুব শিগগিরই দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে মনে হয় না

Update Time : ০৬:১৭:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা

 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে আলোচনার ঝড় চলছে, তা আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলেন বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রুমিন ফারহানা। একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সাম্প্রতিক টকশোতে তিনি মন্তব্য করেন—যারা বাংলাদেশে একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ দেখতে চান না, তাদের কাছে ‘সবচেয়ে বড় বাধা’ হয়ে দাঁড়িয়েছেন তারেক রহমান।

তার ভাষায়, তারেক রহমানকে শুধু বিএনপির শীর্ষ নেতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করলে ভুল হবে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যৎ যে মধ্যপন্থার ধারায় টিকে আছে, তার অস্তিত্ব এখন অনেকটাই নির্ভর করছে তারেক রহমান রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকতে পারবেন কি না তার ওপর। তাই তার দেশে ফেরা বা রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এখন আর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক গতিপথ, ভবিষ্যৎ ক্ষমতার ভারসাম্য এবং সাধারণ মানুষের ভাগ্যের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, যেকোনো নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। যদি একজন রাজনীতিবিদ মনে করেন যে দেশে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়, তাহলে এর সম্পূর্ণ দায় সরকারকেই নিতে হবে। এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সরকারের ওপর দায়িত্বজ্ঞানহীনতার অভিযোগও পরোক্ষে তুলে ধরেন।

এসময় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তার প্রশ্ন—সরকার কি সত্যিই একটি গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দিকে এগোতে চায়? তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশন ও সরকারের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য মানুষের অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে তুলছে। আগে ঘোষণা হয়েছিল ডিসেম্বরের শুরুতেই নির্বাচনের তফসিল প্রকাশ করা হবে। পরে আবার জানানো হলো এটি ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে আসতে পারে। ফেব্রুয়ারি মাসে আদৌ নির্বাচন হবে কি না—এ প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মুখেও ঘুরছে ঘুরছে।

রুমিন বলেন, সাধারণত নির্বাচনের আগে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। দলীয় অফিসগুলোতে কর্মীদের ভিড়, মাঠে-ময়দানে নেতাদের তৎপরতা, সম্ভাব্য প্রার্থীদের নানা প্রচার—এসবই নির্বাচনী পরিবেশের অংশ। কিন্তু এবার সেই স্বাভাবিক আবহ কোথাও দেখা যাচ্ছে না; বরং সর্বত্র এক ধরনের অস্বাভাবিক স্থবিরতা। কয়েক সপ্তাহ আগেও এনসিপি জোটের বক্তব্য, জামায়াতের হুঁশিয়ারি অথবা বিএনপির মনোনয়নকে ঘিরে আলোচনা—এসব কারণে রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল বেশ উত্তপ্ত। কিন্তু এখন সবকিছুই যেন একেবারে নিস্তব্ধ।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই এখন প্রকাশ্যেই বলছেন যে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। তার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণও একই—দেশে খুব শিগগিরই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে মনে হয় না। বরং পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, অদূর ভবিষ্যতে কোনো বড় রাজনৈতিক সমঝোতা বা পুনর্বিন্যাস না হলে নির্বাচন আরও পিছিয়ে যেতে পারে।

রুমিন ফারহানার এসব মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার বক্তব্য শুধু বিএনপির অবস্থানকেই প্রতিফলিত করেনি, বরং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, নির্বাচন নিয়ে সংশয় এবং ক্ষমতার বলয়ের অদৃশ্য চাপে সাধারণ মানুষের উদ্বেগও তুলে ধরেছে।