সময়: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: পরিবারসহ ইকবালের বিদেশযাত্রা বন্ধ

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৪:৪৬:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৪২ Time View

প্রিমিয়ার ব্যাংকের বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাত, দুর্নীতি ও বিদেশে অর্থ পাচারের জটিল ও বহুমাত্রিক অভিযোগে ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এইচ বি এম ইকবাল এবং তার পরিবারের সদস্যদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চলমান অনুসন্ধানের ভিত্তিতে আদালত এই সিদ্ধান্ত দেয়— যা সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতে আলোচিত অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) দুদকের আবেদনের পর ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ এই নির্দেশনা দেন। ইকবালের পাশাপাশি তার ছেলে, ভাই, বোনসহ মোট ১৯ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন জানান, দুদকের উপপরিচালক মো. হোসাইন শরিফ নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন। দুদকের পক্ষে আইনজীবী ইশতিয়াক আহমেদ শুনানিতে অংশ নেন এবং আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

নিষেধাজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন— এইচ বি এম ইকবালের ছেলে মোহাম্মদ ইমরান ইকবাল, ভাই মঈন ইকবাল, বোন নওরীন ইকবাল, আরিফ আলম ও ফৌজিয়া রেকজা বানু। একইসঙ্গে প্রিমিয়ার ব্যাংকের বর্তমান ও সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আছেন— বর্তমান এমডি আবু জাফর; সাবেক এমডিরা: খন্দকার ফজলে রশিদ, কাজী আবদুল মজিদ, এম শাহ আলম সারোয়ার, নিয়াজ হাবীব, মাসিহুল হক চৌধুরী, এ কে এম মাজেদুর রহমান, ড. এম রিয়াজুল করিম; অতিরিক্ত এমডিরা: সৈয়দ নওশের আলী, শহীদ হোসেন মল্লিক, শাহেদ সেকান্দার, শামসুদ্দিন চৌধুরী ও ফরিদা ইয়াসমিন। পাশাপাশি ব্যাংকের গুলশান শাখার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এ এম ওমর খসরুও নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছেন।

দুদকের আবেদনে বিস্ময়কর সব অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী—
• ইকবাল ও তার পরিবারের সদস্যরা যোগসাজশে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও বিভিন্ন শাখার ভাড়া বাবদ ১,৪৩৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
• স্টেশনারি খাতে ব্যয় দেখিয়ে আরও ১,৯৫০ কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে।
• বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ বিতরণের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে ৪,৮১৮

কোটি টাকা
• ভুয়া এফডিআর খুলে অতিরিক্ত মুনাফা দেখিয়ে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
• ব্যাংক ফাউন্ডেশন, বিপিএল ও টিভি বিজ্ঞাপন খাতে ব্যয়ের নামে বিপুল অর্থ লুটপাট ও বিদেশে পাচারের তথ্য মিলেছে।
• মোট অভিযোগ অনুযায়ী প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা পাচারের প্রমাণ মিলেছে।

দুদক জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে অভিযোগ–সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন— এমন তথ্য পাওয়া গেছে। তারা বিদেশে পালিয়ে গেলে চলমান অনুসন্ধান গুরুতরভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা ছাড়া বিকল্প ছিল না।

এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাংকিং খাত, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং দেশের আর্থিক সুশাসন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগে দেশের শীর্ষ ব্যাংক কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার তথ্য আর্থিক খাতে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং তদন্ত কোনদিকে এগোয়— তা এখন নজর কাড়ছে সবার।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

২০ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: পরিবারসহ ইকবালের বিদেশযাত্রা বন্ধ

Update Time : ০৪:৪৬:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

প্রিমিয়ার ব্যাংকের বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাত, দুর্নীতি ও বিদেশে অর্থ পাচারের জটিল ও বহুমাত্রিক অভিযোগে ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এইচ বি এম ইকবাল এবং তার পরিবারের সদস্যদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চলমান অনুসন্ধানের ভিত্তিতে আদালত এই সিদ্ধান্ত দেয়— যা সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতে আলোচিত অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) দুদকের আবেদনের পর ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ এই নির্দেশনা দেন। ইকবালের পাশাপাশি তার ছেলে, ভাই, বোনসহ মোট ১৯ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন জানান, দুদকের উপপরিচালক মো. হোসাইন শরিফ নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন। দুদকের পক্ষে আইনজীবী ইশতিয়াক আহমেদ শুনানিতে অংশ নেন এবং আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

নিষেধাজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন— এইচ বি এম ইকবালের ছেলে মোহাম্মদ ইমরান ইকবাল, ভাই মঈন ইকবাল, বোন নওরীন ইকবাল, আরিফ আলম ও ফৌজিয়া রেকজা বানু। একইসঙ্গে প্রিমিয়ার ব্যাংকের বর্তমান ও সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আছেন— বর্তমান এমডি আবু জাফর; সাবেক এমডিরা: খন্দকার ফজলে রশিদ, কাজী আবদুল মজিদ, এম শাহ আলম সারোয়ার, নিয়াজ হাবীব, মাসিহুল হক চৌধুরী, এ কে এম মাজেদুর রহমান, ড. এম রিয়াজুল করিম; অতিরিক্ত এমডিরা: সৈয়দ নওশের আলী, শহীদ হোসেন মল্লিক, শাহেদ সেকান্দার, শামসুদ্দিন চৌধুরী ও ফরিদা ইয়াসমিন। পাশাপাশি ব্যাংকের গুলশান শাখার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এ এম ওমর খসরুও নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছেন।

দুদকের আবেদনে বিস্ময়কর সব অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী—
• ইকবাল ও তার পরিবারের সদস্যরা যোগসাজশে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও বিভিন্ন শাখার ভাড়া বাবদ ১,৪৩৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
• স্টেশনারি খাতে ব্যয় দেখিয়ে আরও ১,৯৫০ কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে।
• বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ বিতরণের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে ৪,৮১৮

কোটি টাকা
• ভুয়া এফডিআর খুলে অতিরিক্ত মুনাফা দেখিয়ে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
• ব্যাংক ফাউন্ডেশন, বিপিএল ও টিভি বিজ্ঞাপন খাতে ব্যয়ের নামে বিপুল অর্থ লুটপাট ও বিদেশে পাচারের তথ্য মিলেছে।
• মোট অভিযোগ অনুযায়ী প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা পাচারের প্রমাণ মিলেছে।

দুদক জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে অভিযোগ–সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন— এমন তথ্য পাওয়া গেছে। তারা বিদেশে পালিয়ে গেলে চলমান অনুসন্ধান গুরুতরভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা ছাড়া বিকল্প ছিল না।

এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাংকিং খাত, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং দেশের আর্থিক সুশাসন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগে দেশের শীর্ষ ব্যাংক কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার তথ্য আর্থিক খাতে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং তদন্ত কোনদিকে এগোয়— তা এখন নজর কাড়ছে সবার।