সময়: বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের চাল সিঙ্গাপুরের সরবরাহকারীর মাধ্যমে আমদানি করবে সরকার

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৪:৪৮:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১১৭ Time View

দেশের বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে সরকার নতুন করে নন-বাসমতি চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এবার সরাসরি নয়—সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভারত থেকে চাল আনা হবে। সোমবার (২৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “চালের দাম কিছুটা স্থিতিশীল হলেও আবার বাড়তি চাপ দেখা যাচ্ছে। বাজার যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্য সুলভ থাকে, সেজন্য আমরা নন-বাসমতি চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মূল্য প্রতিযোগিতামূলক হওয়ায় এবং সরবরাহ নিশ্চয়তা বিবেচনায় ভারতই সবচেয়ে উপযোগী উৎস।”

সরবরাহকারী সিঙ্গাপুরের—এ তথ্য জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “আমরা কোন দেশ থেকে আনব বা আনব না—এটা বলে দিই না। ভারত, থাইল্যান্ড বা মিয়ানমার—সব দেশই আমাদের সম্ভাব্য উৎস। আমরা দেখেছি মান, সময়মতো সরবরাহ এবং সর্বোপরি দাম—এই তিন মানদণ্ডে ভারতীয় চালই সবচেয়ে উপযোগী। তাই সিঙ্গাপুরের কোম্পানির মাধ্যমে ভারত থেকে চাল আসবে।”

বাজেট পুনর্গঠন এবং নির্বাচনী ব্যয় চাপে নতুন হিসাব-নিকাশ

এসময় তিনি আরও জানান, ডিসেম্বরের মধ্যেই সংশোধিত বাজেট চূড়ান্ত করতে চায় সরকার। বিশেষ করে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় অতিরিক্ত ব্যয় নিশ্চিতভাবেই বাড়বে।

তার ভাষায়, “গণভোট এবং নির্বাচনের জন্য অতিরিক্ত লোকবল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি প্রয়োজন। বাজেট পুনরায় পর্যালোচনা চলছে। অন্যান্য মন্ত্রণালয়কে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়েছে—কত খরচ লাগবে তা দ্রুত জানাতে। ডিসেম্বরেই সংশোধিত বাজেট পর্যালোচনা শেষ করতে চাই। জানুয়ারিতে আমরা নতুন সরকারের জন্য বাজেট প্রস্তুত করে রাখব। নির্বাচনের বাজেট আপাতত খোলা আছে।”

তিনি আরও বলেন, “তফসিল ঘোষণার পর নতুন কোনো বড় ব্যয় আসবে না। তবে জরুরি বা কন্টিনজেন্সি খাতে কিছু খরচ হতে পারে—যেটা নির্বাচনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।”

গণভোট

নির্বাচন একই দিনে—চ্যালেঞ্জ হলেও ‘সম্ভব’

গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই দিনে করা নিয়ে চ্যালেঞ্জ আছে স্বীকার করে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “চ্যালেঞ্জ আছে, তবে এটা গ্রহণ করতে হবে। এক দিনে নির্বাচন করলে লজিস্টিক্স, রিটার্নিং অফিসার, ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ অনেক দায়িত্ব একবারেই সম্পন্ন করা যায়। দুই দিন হলে দায়িত্ব বণ্টন দ্বিগুণ কঠিন হয়ে যায়।”

তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, “অনেক দেশেই রেফারেন্ডাম ও ভোট একসঙ্গে হয়। এতে কোনো সমস্যা হয় না। আমাদেরও এক দিনেই করতে কোনো বাধা নেই। বরং এটি সহজ ও কার্যকর হবে।”

অন্যান্য ক্রয় সিদ্ধান্ত

এদিন বৈঠকে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ক্রয় অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে—

  • সার আমদানি,
  • পরিশোধিত তেল ক্রয়,
  • এবং তিনটি নতুন সড়ক নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন।

সরকারের মতে, এসব সিদ্ধান্ত দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানির সরবরাহ বজায় রাখা এবং সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ভারতের চাল সিঙ্গাপুরের সরবরাহকারীর মাধ্যমে আমদানি করবে সরকার

Update Time : ০৪:৪৮:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

দেশের বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে সরকার নতুন করে নন-বাসমতি চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এবার সরাসরি নয়—সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভারত থেকে চাল আনা হবে। সোমবার (২৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “চালের দাম কিছুটা স্থিতিশীল হলেও আবার বাড়তি চাপ দেখা যাচ্ছে। বাজার যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্য সুলভ থাকে, সেজন্য আমরা নন-বাসমতি চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মূল্য প্রতিযোগিতামূলক হওয়ায় এবং সরবরাহ নিশ্চয়তা বিবেচনায় ভারতই সবচেয়ে উপযোগী উৎস।”

সরবরাহকারী সিঙ্গাপুরের—এ তথ্য জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “আমরা কোন দেশ থেকে আনব বা আনব না—এটা বলে দিই না। ভারত, থাইল্যান্ড বা মিয়ানমার—সব দেশই আমাদের সম্ভাব্য উৎস। আমরা দেখেছি মান, সময়মতো সরবরাহ এবং সর্বোপরি দাম—এই তিন মানদণ্ডে ভারতীয় চালই সবচেয়ে উপযোগী। তাই সিঙ্গাপুরের কোম্পানির মাধ্যমে ভারত থেকে চাল আসবে।”

বাজেট পুনর্গঠন এবং নির্বাচনী ব্যয় চাপে নতুন হিসাব-নিকাশ

এসময় তিনি আরও জানান, ডিসেম্বরের মধ্যেই সংশোধিত বাজেট চূড়ান্ত করতে চায় সরকার। বিশেষ করে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় অতিরিক্ত ব্যয় নিশ্চিতভাবেই বাড়বে।

তার ভাষায়, “গণভোট এবং নির্বাচনের জন্য অতিরিক্ত লোকবল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি প্রয়োজন। বাজেট পুনরায় পর্যালোচনা চলছে। অন্যান্য মন্ত্রণালয়কে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়েছে—কত খরচ লাগবে তা দ্রুত জানাতে। ডিসেম্বরেই সংশোধিত বাজেট পর্যালোচনা শেষ করতে চাই। জানুয়ারিতে আমরা নতুন সরকারের জন্য বাজেট প্রস্তুত করে রাখব। নির্বাচনের বাজেট আপাতত খোলা আছে।”

তিনি আরও বলেন, “তফসিল ঘোষণার পর নতুন কোনো বড় ব্যয় আসবে না। তবে জরুরি বা কন্টিনজেন্সি খাতে কিছু খরচ হতে পারে—যেটা নির্বাচনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।”

গণভোট

নির্বাচন একই দিনে—চ্যালেঞ্জ হলেও ‘সম্ভব’

গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই দিনে করা নিয়ে চ্যালেঞ্জ আছে স্বীকার করে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “চ্যালেঞ্জ আছে, তবে এটা গ্রহণ করতে হবে। এক দিনে নির্বাচন করলে লজিস্টিক্স, রিটার্নিং অফিসার, ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ অনেক দায়িত্ব একবারেই সম্পন্ন করা যায়। দুই দিন হলে দায়িত্ব বণ্টন দ্বিগুণ কঠিন হয়ে যায়।”

তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, “অনেক দেশেই রেফারেন্ডাম ও ভোট একসঙ্গে হয়। এতে কোনো সমস্যা হয় না। আমাদেরও এক দিনেই করতে কোনো বাধা নেই। বরং এটি সহজ ও কার্যকর হবে।”

অন্যান্য ক্রয় সিদ্ধান্ত

এদিন বৈঠকে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ক্রয় অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে—

  • সার আমদানি,
  • পরিশোধিত তেল ক্রয়,
  • এবং তিনটি নতুন সড়ক নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন।

সরকারের মতে, এসব সিদ্ধান্ত দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানির সরবরাহ বজায় রাখা এবং সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।