আগামী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস রচিত হবে: জামায়াত আমির
- Update Time : ০৪:৩১:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
- / ১১৫ Time View

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন যুগের সূচনা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়েই হবে—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (২২ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঝালকাঠির নেছারাবাদ মাহফিল ময়দানে বাংলাদেশ হিযবুল্লাহ জমিয়াতুল মুছলিহীন আয়োজিত জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। হাজারো ধর্মপ্রাণ মানুষে ঠাসা বিশাল মাঠে দিনব্যাপী এই সম্মেলনটি ছিল ইসলামী রাজনৈতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশ।
জামায়াত আমির বলেন, “আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক। আমরা আশা করি, এটি হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সম্পূর্ণ অংশগ্রহণমূলক। জনগণের ভোটেই আসল জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবে। কোনো ধরনের পেশিশক্তি, কেন্দ্র দখল বা ভয়-ভীতির রাজনীতি আর চলবে না। কেউ যদি ভোট কাটার চেষ্টা করে, তবে জনগণ তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করবে। এ কারণেই বলছি—এই নির্বাচনই রচনা করবে নতুন বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক ইতিহাস।”
তিনি আরও বলেন, “যদি আবারও বিগত দিনের মতো ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং বা কেন্দ্র দখলের অপচেষ্টা করা হয়, তাহলে তার জবাব মাঠেই দেওয়া হবে। সব ধরনের জুলুম, স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদী আচরণ এবং জাতিকে বিভক্ত করার নীলনকশার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। কারও রক্তচক্ষুকে ভয় না পেয়ে—ইসলামের পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে, জনগণের পক্ষে—সব ইসলামী শক্তিকে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে।”
প্রতিনিধি সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ইসলামী রাজনৈতিক শক্তিগুলো যদি ঐক্যবদ্ধ হতে পারে, এবং আগামী নির্বাচনে সম্মিলিতভাবে ভোটের বাক্স রক্ষা করতে পারে, তবে দেশে নতুন রাজনৈতিক ইতিহাস সৃষ্টি হবে। ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী জনগণ পরিবর্তন চাইছে, আর সেই পরিবর্তনের দায়িত্ব নিতে হবে আমাদের।”
এছাড়াও বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিদ আজাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ আরও অনেকে। বক্তারা বলেন, ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যই আগামীর রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি। জনগণই ঠিক করবে দেশ কোন পথে এগোবে, আর জনগণের বড় একটি অংশ ইসলামী আদর্শে আস্থা রাখে—সেই শক্তিকেই সংগঠিত করতে হবে।
নেছারাবাদী হুজুর মাওলানা খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই প্রতিনিধি সম্মেলনে উপচে পড়া মুসল্লির উপস্থিতিতে নেছারাবাদ দরবার শরীফের বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলের দ্বিতীয় দিনের আয়োজনে রাজনৈতিক উচ্ছ্বাস ও ঐক্যের আবহ সৃষ্টি হয়।
















