তারেক রহমানের ৬১তম জন্মদিন আজ
- Update Time : ০৯:৩৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
- / ১১২ Time View

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৬১তম জন্মদিন আজ বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর)। ১৯৬৫ সালের এই দিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারে। দেশের অন্যতম রাজনৈতিক বংশের জ্যেষ্ঠ সন্তান হিসেবে জন্ম নেওয়া তারেক রহমান সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত ‘তারেক জিয়া’ নামে—যেখানে ‘জিয়া’ এসেছে তার পিতা জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক উত্তরাধিকার থেকে।
অল্প বয়সেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি
তারেক রহমানের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় বগুড়ায়, বাবার গড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির মাঠ পর্যায়ে। যুব বয়সেই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। মাত্র ২২ বছর বয়সে ১৯৮৮ সালে তিনি বগুড়া জেলার গাবতলী থানা বিএনপির নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হন। এটি ছিল তাঁর আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক জীবনের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদ।
২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দলের অন্যতম প্রধান নির্বাচনি কৌশলবিদ হিসেবে অংশ নেন। সেই সময় তাঁর জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, বিশেষ করে তরুণ সমাজ ও দলীয় কর্মীদের মধ্যে।
১/১১ সরকার, গ্রেপ্তার ও নির্যাতন
২০০৭ সালের জানুয়ারির সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। কারাগারে তাকে নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলে বিএনপি ও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর শারীরিক অবস্থা নাজুক হওয়ায় ২০০৮ সালে তাকে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে পাঠানো হয়, যা কার্যত তাঁর দীর্ঘ নির্বাসন জীবনের সূচনা করে।
সেখান থেকেই তিনি বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে পরিচালনা করে আসছেন।
দলের শীর্ষ নেতৃত্বে উত্তরণ
২০১৬ সালের ১৯ মার্চ, বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে তারেক রহমান সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হলে দলের কার্যত নেতৃত্বের দায়িত্ব পড়ে তাঁর কাঁধে। তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দেশব্যাপী দলের রাজনৈতিক কর্মকৌশল, আন্দোলন এবং সাংগঠনিক পুনর্গঠন তত্ত্বাবধান করে আসছেন।
মিথ্যা মামলা ও রাজনৈতিক প্রতিশোধের অভিযোগ
২০০৭ সালের পর থেকে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে একের পর এক মামলা দেওয়া হয়। মোট ৮৪টি মামলা তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়। এর কিছু মামলায় সরকারি প্রভাবে তাকে দণ্ডপ্রাপ্তও দেখানো হয়েছিল।
তবে ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আদালত তাঁর বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগকে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে বাতিল করে। তিনি সব মামলায় খালাস পান এবং বর্তমানে তাঁর নামে কোনো মামলা বিচারাধীন নেই।
এই সময়টিতে কার্যত তিনি বাংলাদেশের বিরোধী রাজনীতির মুখপাত্রে পরিণত হন—দলের ভেতরে বাইরে একক নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হন।
নির্বাচন সামনে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন প্রস্তুতি
২০২৪ পরবর্তী রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের মধ্যে বিএনপি আবারও জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটি পুনর্গঠনের পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করছে তারেক রহমানের নির্দেশনায়।
জন্মদিনে কোনো উৎসব নয়, দলীয় নির্দেশনা কঠোর
তারেক রহমানের জন্মদিনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশনা হলো—
কোনো কেক কাটা, পোস্টার–ব্যানার লাগানো, আলোচনা সভা বা উৎসব নয়।
দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সব ইউনিটকে এই নির্দেশনা কঠোরভাবে মানার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দলের যুক্তি—দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, চলমান আন্দোলন এবং শহীদ জিয়া পরিবারের কষ্টের সময় বিবেচনায় জন্মদিনে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা বা উৎসব দল উপযুক্ত মনে করছে না।
















