সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় কাদের মোল্লার চিঠি শেয়ার করলেন ডাকসু এজিএস

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৪:৫৫:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৬৩ Time View
সংগৃহীত ছবি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন, যা দেশের রাজনীতি, সামাজিক পরিমণ্ডল ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রায় ঘোষণার পরপরই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেন। এরই মধ্যে বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) এজিএস মহিউদ্দিন খানের শেয়ার করা একটি চিঠি, যা তিনি ফেসবুকে ‘অবিচার থেকে বিচার’ শিরোনামে প্রকাশ করেন।

চিঠিটি যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কাদের মোল্লার হাতে লেখা বলে দাবি করা হয়েছে। কাদের মোল্লাকে ২০১৩ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন।

মহিউদ্দিন খানের শেয়ার করা সেই চিঠিতে কাদের মোল্লাকে লেখা হয়েছে—

প্রিয় রনি,
যদি কখনো সময় পাও এবং তোমার ইচ্ছা হয় তবে আমার ফাঁসির পর একবার হলেও বলো বা লিখো— কাদের মোল্লা আর কসাই কাদের এক ব্যক্তি নয়।
আমার আত্মা কিয়ামত পর্যন্ত কাঁদবে আর ‘কসাই কাদের’ তখন কিয়ামত পর্যন্ত হাসবে।
কাদের মোল্লা।”

চিঠির এই বিষয়বস্তু প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার ঝড় বইতে শুরু করেছে। অনেকেই এটিকে বর্তমান রায়ের প্রেক্ষাপটে প্রতীকী রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। বিশেষত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে যেভাবে জনমত বিভক্ত হয়েছে, এই চিঠি আবারও অতীতের যুদ্ধাপরাধ বিতর্ককে সামনে টেনে এনেছে।

ডাকসু এজিএস মহিউদ্দিন খান নিজের বক্তব্যে উল্লেখ করেন,
“এই চিঠি আমার কাছে ইতিহাসের এক অংশ। অন্যায়ভাবে বিচার বা অবিচারের কথাগুলো রাষ্ট্রকে ভাবতে শিখতে হবে।”

তবে তার এই পোস্ট ঘিরে সমালোচনা ও পাল্টা মতও দেখা গেছে। অনেক শিক্ষার্থী মনে করছেন, “যুদ্ধাপরাধীর চিঠি” প্রচার করা উদ্দেশ্যমূলক রাজনৈতিক ইঙ্গিত বহন করতে পারে এবং তা বিশ্ববিদ্যালয় আবহে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করতে পারে।

রায়ের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করছে বিশ্লেষকরা। আগামী কয়েকদিন এই ইস্যু জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় কাদের মোল্লার চিঠি শেয়ার করলেন ডাকসু এজিএস

Update Time : ০৪:৫৫:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
সংগৃহীত ছবি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন, যা দেশের রাজনীতি, সামাজিক পরিমণ্ডল ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রায় ঘোষণার পরপরই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেন। এরই মধ্যে বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) এজিএস মহিউদ্দিন খানের শেয়ার করা একটি চিঠি, যা তিনি ফেসবুকে ‘অবিচার থেকে বিচার’ শিরোনামে প্রকাশ করেন।

চিঠিটি যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কাদের মোল্লার হাতে লেখা বলে দাবি করা হয়েছে। কাদের মোল্লাকে ২০১৩ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন।

মহিউদ্দিন খানের শেয়ার করা সেই চিঠিতে কাদের মোল্লাকে লেখা হয়েছে—

প্রিয় রনি,
যদি কখনো সময় পাও এবং তোমার ইচ্ছা হয় তবে আমার ফাঁসির পর একবার হলেও বলো বা লিখো— কাদের মোল্লা আর কসাই কাদের এক ব্যক্তি নয়।
আমার আত্মা কিয়ামত পর্যন্ত কাঁদবে আর ‘কসাই কাদের’ তখন কিয়ামত পর্যন্ত হাসবে।
কাদের মোল্লা।”

চিঠির এই বিষয়বস্তু প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার ঝড় বইতে শুরু করেছে। অনেকেই এটিকে বর্তমান রায়ের প্রেক্ষাপটে প্রতীকী রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। বিশেষত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে যেভাবে জনমত বিভক্ত হয়েছে, এই চিঠি আবারও অতীতের যুদ্ধাপরাধ বিতর্ককে সামনে টেনে এনেছে।

ডাকসু এজিএস মহিউদ্দিন খান নিজের বক্তব্যে উল্লেখ করেন,
“এই চিঠি আমার কাছে ইতিহাসের এক অংশ। অন্যায়ভাবে বিচার বা অবিচারের কথাগুলো রাষ্ট্রকে ভাবতে শিখতে হবে।”

তবে তার এই পোস্ট ঘিরে সমালোচনা ও পাল্টা মতও দেখা গেছে। অনেক শিক্ষার্থী মনে করছেন, “যুদ্ধাপরাধীর চিঠি” প্রচার করা উদ্দেশ্যমূলক রাজনৈতিক ইঙ্গিত বহন করতে পারে এবং তা বিশ্ববিদ্যালয় আবহে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করতে পারে।

রায়ের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করছে বিশ্লেষকরা। আগামী কয়েকদিন এই ইস্যু জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।