অস্ট্রেলিয়ার এমপিদের সমর্থনে আবেগাপ্লুত তারেক রহমান
- Update Time : ০৭:৩৩:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৫৭ Time View

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রার্থীদের নিরাপত্তা এবং সার্বিক নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার কয়েকজন সংসদ সদস্য। বিশেষ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় এনে তারা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে এমন আলোচনা ও উদ্বেগ প্রকাশ বিরল—যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের বাড়তি নজরদারির ইঙ্গিত দেয়।
এমন সময়ে অস্ট্রেলিয়ান এমপিদের এই স্পষ্ট বক্তব্য ও নৈতিক সমর্থন পেয়ে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত হয়েছেন তারেক রহমান। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তিনি তাঁর ভেরিফায়েড পেজে এক স্ট্যাটাসে অস্ট্রেলিয়ান আইনপ্রণেতাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন—
“আমি সহ অসংখ্য বাংলাদেশি অস্ট্রেলিয়ান সংসদ সদস্যদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই, যারা বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং একটি অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার বিষয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন। তাদের এই সুচিন্তিত হস্তক্ষেপ শুধু রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রতিফলন নয়—এটি একই সঙ্গে সর্বজনীন গণতান্ত্রিক নীতি, মানবমর্যাদা এবং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের প্রতি গভীর অঙ্গীকারও প্রকাশ করে।”
রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপট তুলে ধরলেন তারেক রহমান
তারেক রহমান তাঁর পোস্টে বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি লেখেন—
“বাংলাদেশের নানা অঞ্চলে আজ সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তা এবং একটি শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এই উদ্বেগগুলো এসেছে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে—যারা স্থিতিশীলতা, ন্যায়বিচার এবং স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিজেদের ভবিষ্যত নির্ধারণের সুযোগ চায়।”
তারেক রহমান আরও উল্লেখ করেন, অস্ট্রেলিয়ান এমপিদের আহ্বান—যাতে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক প্রার্থী, রাজনৈতিক কর্মী ও ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়—এটি বাংলাদেশের জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঙ্গেই সঙ্গতিপূর্ণ। তাঁর ভাষায়, “গণতন্ত্র তখনই প্রতিষ্ঠিত হয় যখন নির্বাচন হয় অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বচ্ছ, ভয়মুক্ত এবং সহিংসতামুক্ত।”
প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি
পোস্টে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকাও উল্লেখ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তাঁর মতে—
“অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশি প্রবাসীরা বরাবরই অত্যন্ত আন্তরিকতা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বাংলাদেশের বাস্তব অবস্থা সেখানে তুলে ধরেছেন। অস্ট্রেলিয়ান সমাজে তাদের অবদান এবং মাতৃভূমির প্রতি তাদের টান আমাদের দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। তাদের কারণে বাংলাদেশের মানুষ কী চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে—তা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।”
বাংলাদেশ–অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের গুরুত্ব বাড়ছে
তারেক রহমান বলেন—
“অস্ট্রেলিয়া এবং বাংলাদেশ পারস্পরিক সম্মান, সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর দাঁড়িয়ে সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে অস্ট্রেলিয়ান প্রতিনিধিদের একাত্মতা আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়—গণতন্ত্রের পক্ষে বৈশ্বিক অঙ্গীকার কখনো এক দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।”
তিনি আরও বলেন—
“যখন বিশ্ব সম্প্রদায় একত্রিত হয়, তখন তারা শান্তি, ন্যায়বিচার ও অগ্রগতির আদর্শ রক্ষায় একে অপরকে শক্তি জোগায়। এই সমর্থন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।”
পোস্টের শেষে তিনি একটি ফটোকার্ডও শেয়ার করেন, যেখানে অস্ট্রেলিয়ান এমপিদের বিবৃতি ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

















