সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধান উপদেষ্টাকে সাধুবাদ, তবে একদিনে নির্বাচন–গণভোটে আপত্তি জামায়াতের

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৬৭ Time View
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ তাহের। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে প্রধান উপদেষ্টার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট আয়োজনের সরকারি সিদ্ধান্তকে তারা ‘সংস্কারকে গুরুত্বহীন করার ফাঁদ’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) ঢাকার মগবাজারে আল–ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ তাহের অভিযোগ করেন, সরকার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার বিষয়ে তেমন মনোযোগী নয়। বরং প্রশাসনে রদবদলের মাধ্যমে বিশেষ দলের অনুগত কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দলীয়করণের চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তিনি।

তাহের বলেন, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হলে স্বাভাবিকভাবেই জাতীয় নির্বাচন বেশি গুরুত্ব পাবে, আর গণভোটের গুরুত্ব কমে যাবে। এতে ভোটার উপস্থিতি কমতে পারে এবং যারা সংস্কারের বিরোধিতা করেন, তারা সুযোগ পেতে পারেন তা ব্যাহত করার। তিনি এটিকে পরিকল্পিত বা অপ্রত্যাশিত—উভয়ভাবেই একটি ‘ফাঁদ’ বলে উল্লেখ করেন এবং মনে করেন, এতে সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য প্রায় গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, সরকার সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে গ্রহণ করেনি। বরং একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আপস করে সুপারিশ পরিবর্তন করা হয়েছে, যা জনগণের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে। এছাড়া গণভোটের প্রশ্নগুলো চার ভাগে ভাগ করায় ভোটারদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া কঠিন হয়ে উঠেছে, যা তাহেরের ভাষায় বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ accommodate করার জন্য করা হয়েছে।

তবে তিনি প্রধান উপদেষ্টার দৃঢ়তাকে প্রশংসা করে বলেন, বিএনপি আদেশের মাধ্যমে সনদের সাংবিধানিক ভিত্তি দেওয়ার পক্ষে না থাকলেও প্রধান উপদেষ্টা যে দৃঢ়তার সঙ্গে আদেশ জারি করেছেন, তা প্রশংসাযোগ্য।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব শেখ ফজলে বারী মাসউদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির ইউসুফ আশরাফ ও সাখাওয়াত হোসাইন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার, খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব কাজী নিজামুল হক।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রধান উপদেষ্টাকে সাধুবাদ, তবে একদিনে নির্বাচন–গণভোটে আপত্তি জামায়াতের

Update Time : ১১:০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ তাহের। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে প্রধান উপদেষ্টার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট আয়োজনের সরকারি সিদ্ধান্তকে তারা ‘সংস্কারকে গুরুত্বহীন করার ফাঁদ’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) ঢাকার মগবাজারে আল–ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ তাহের অভিযোগ করেন, সরকার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার বিষয়ে তেমন মনোযোগী নয়। বরং প্রশাসনে রদবদলের মাধ্যমে বিশেষ দলের অনুগত কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দলীয়করণের চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তিনি।

তাহের বলেন, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হলে স্বাভাবিকভাবেই জাতীয় নির্বাচন বেশি গুরুত্ব পাবে, আর গণভোটের গুরুত্ব কমে যাবে। এতে ভোটার উপস্থিতি কমতে পারে এবং যারা সংস্কারের বিরোধিতা করেন, তারা সুযোগ পেতে পারেন তা ব্যাহত করার। তিনি এটিকে পরিকল্পিত বা অপ্রত্যাশিত—উভয়ভাবেই একটি ‘ফাঁদ’ বলে উল্লেখ করেন এবং মনে করেন, এতে সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য প্রায় গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, সরকার সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে গ্রহণ করেনি। বরং একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আপস করে সুপারিশ পরিবর্তন করা হয়েছে, যা জনগণের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে। এছাড়া গণভোটের প্রশ্নগুলো চার ভাগে ভাগ করায় ভোটারদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া কঠিন হয়ে উঠেছে, যা তাহেরের ভাষায় বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ accommodate করার জন্য করা হয়েছে।

তবে তিনি প্রধান উপদেষ্টার দৃঢ়তাকে প্রশংসা করে বলেন, বিএনপি আদেশের মাধ্যমে সনদের সাংবিধানিক ভিত্তি দেওয়ার পক্ষে না থাকলেও প্রধান উপদেষ্টা যে দৃঢ়তার সঙ্গে আদেশ জারি করেছেন, তা প্রশংসাযোগ্য।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব শেখ ফজলে বারী মাসউদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির ইউসুফ আশরাফ ও সাখাওয়াত হোসাইন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার, খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব কাজী নিজামুল হক।