সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩ উপদেষ্টার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, অবিলম্বে অপসারণের দাবি

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৪:৫৮:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৭৮ Time View

জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের অভিযোগ করেছেন, সরকারের তিনজন উপদেষ্টা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে এবং ভুল পথে পরিচালিত করছে। তিনি তাদের অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানিয়ে বলেন, প্রধান উপদেষ্টার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণ একটি নিরপেক্ষ সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্যের ইঙ্গিত দিয়েছে।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) আটদলীয় জোটের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ডা. তাহের এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনের আগে বৃহস্পতিবার রাতে আট দল বৈঠক করে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের পর করণীয় নির্ধারণ করে এবং শুক্রবার সকালে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রদান করা হয়।

ডা. তাহের বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশের জন্য গভীর অন্ধকার অপেক্ষা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার একটি দলের প্রতি অনুগত এবং ওই দলকে ক্ষমতায় আনার জন্য যেকোনো নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যবহার করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণের স্বার্থে সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশ ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে পড়বে।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমির আরও বলেন, সরকার একটি দলের স্বার্থে সংস্কারে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। পুরো জাতি চেয়েছিল গণভোট আলাদা হবে, কিন্তু একটি বড় দল একসঙ্গে করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছে। কারণ কিছু ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জনমত ওই দলের বিরুদ্ধে গেছে, ফলে জনমনে নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে।

ডা. তাহের উল্লেখ করেন, সংস্কার কমিশন এক প্যাকেজে হ্যাঁ/না ভোটের সুপারিশ করেছে, কিন্তু সেটি চারটি পয়েন্টে ভাগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এতোগুলো বিষয় বিশ্লেষণ করে ভোট দেওয়া মানুষের জন্য কঠিন হবে। গণভোটে একাধিক বিষয় যুক্ত করা প্রচলিত নয়। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার অন্যায়ের মাধ্যমে একটি দলের নোট অব ডিসেন্টকে সুবিধা দিতে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ডা. তাহের বলেন, ৫৪ বছরের মধ্যে দেশে শাসকের পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু শোষণ অন্যায়ের সংস্কৃতি

রয়ে গেছে। নেতৃত্বের ব্যর্থতা এই জাতির সবচেয়ে বড় কলঙ্ক। তিনি আরও যোগ করেন, আমরা বিশ্বাস করেছিলাম ড. ইউনূস কোনো চাপের কাছে মাথা নত করবেন না। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা একটি দলের সঙ্গে সমঝোতা করে জনগণের আকাঙ্খা উপেক্ষা করেছেন।

ডা. তাহেরের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অবিলম্বে তিনজন উপদেষ্টাকে অপসারণ করা জরুরি।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

৩ উপদেষ্টার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, অবিলম্বে অপসারণের দাবি

Update Time : ০৪:৫৮:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের অভিযোগ করেছেন, সরকারের তিনজন উপদেষ্টা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে এবং ভুল পথে পরিচালিত করছে। তিনি তাদের অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানিয়ে বলেন, প্রধান উপদেষ্টার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণ একটি নিরপেক্ষ সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্যের ইঙ্গিত দিয়েছে।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) আটদলীয় জোটের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ডা. তাহের এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনের আগে বৃহস্পতিবার রাতে আট দল বৈঠক করে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের পর করণীয় নির্ধারণ করে এবং শুক্রবার সকালে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রদান করা হয়।

ডা. তাহের বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশের জন্য গভীর অন্ধকার অপেক্ষা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার একটি দলের প্রতি অনুগত এবং ওই দলকে ক্ষমতায় আনার জন্য যেকোনো নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যবহার করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণের স্বার্থে সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশ ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে পড়বে।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমির আরও বলেন, সরকার একটি দলের স্বার্থে সংস্কারে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। পুরো জাতি চেয়েছিল গণভোট আলাদা হবে, কিন্তু একটি বড় দল একসঙ্গে করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছে। কারণ কিছু ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জনমত ওই দলের বিরুদ্ধে গেছে, ফলে জনমনে নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে।

ডা. তাহের উল্লেখ করেন, সংস্কার কমিশন এক প্যাকেজে হ্যাঁ/না ভোটের সুপারিশ করেছে, কিন্তু সেটি চারটি পয়েন্টে ভাগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এতোগুলো বিষয় বিশ্লেষণ করে ভোট দেওয়া মানুষের জন্য কঠিন হবে। গণভোটে একাধিক বিষয় যুক্ত করা প্রচলিত নয়। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার অন্যায়ের মাধ্যমে একটি দলের নোট অব ডিসেন্টকে সুবিধা দিতে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ডা. তাহের বলেন, ৫৪ বছরের মধ্যে দেশে শাসকের পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু শোষণ অন্যায়ের

সংস্কৃতি রয়ে গেছে। নেতৃত্বের ব্যর্থতা এই জাতির সবচেয়ে বড় কলঙ্ক। তিনি আরও যোগ করেন, আমরা বিশ্বাস করেছিলাম ড. ইউনূস কোনো চাপের কাছে মাথা নত করবেন না। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা একটি দলের সঙ্গে সমঝোতা করে জনগণের আকাঙ্খা উপেক্ষা করেছেন।

ডা. তাহেরের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অবিলম্বে তিনজন উপদেষ্টাকে অপসারণ করা জরুরি।