নির্বাচন–গণভোট একসঙ্গে আয়োজনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান সমমনা আট দলের
- Update Time : ০৭:৩৭:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
- / ২০২ Time View

জুলাই জাতীয় সনদ জারি করায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন সমমনা আটটি দল। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের ঘোষণাকে তারা “অযৌক্তিক, অগণতান্ত্রিক ও বিভ্রান্তিকর” বলে মন্তব্য করেছে। দলগুলোর দাবি, জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গণভোটকে নির্বাচনের সঙ্গে গলিয়ে দেওয়া জনমতের সঠিক প্রতিফলনকে বাধাগ্রস্ত করবে।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আট দলের সমন্বয় বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।
“গণভোটই জাতির মুক্তির চাবিকাঠি” — তাহের
বৈঠক শেষে বক্তব্যে তাহের বলেন,
“জুলাই সনদ জারির মাধ্যমে জাতির কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক সংস্কারের পথে একটি বড় অগ্রগতি হয়েছে। এজন্য প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু একই সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি—এই সনদের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে গণভোটকে নির্বাচন থেকে আলাদা রাখা প্রয়োজন।”
তার মতে, গণভোট ও নির্বাচন একই দিনে করার সিদ্ধান্ত জনমনে গুরুতর বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে এবং সংস্কার প্রক্রিয়াকে দুর্বল করবে।
“আমরা এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানাই এবং অনতিবিলম্বে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি,” তিনি যোগ করেন।
“জাতির প্রত্যাশা পূরণ হয়নি”
সৈয়দ তাহের বলেন, প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে সংস্কার, নির্বাচনপদ্ধতি এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা দূর হওয়ার আশা করেছিল সমমনা দলগুলো।
“কিন্তু ভাষণ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়—জাতির মুক্তির যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি। বরং গণভোট নির্বাচন একসঙ্গে করার ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে,” বলেন তিনি।

গণভোট আগে না হলে জনগণ সঠিক
জামায়াতের এই শীর্ষনেতা আরও বলেন,
“গণভোট আগে অনুষ্ঠিত হলে জনগণ স্পষ্টভাবে জানাতে পারবে কোন সংস্কার গ্রহণযোগ্য, কোনটি নয়। জনগণ যদি সনদকে অনুমোদন দেয়, তবে সেই ভিত্তিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর অনুমোদন না মিললে পূর্বের কাঠামো অনুযায়ী নির্বাচন হতে পারে। কিন্তু একদিনে দুটো আয়োজন করলে জনগণের স্বাধীন মতামতের সুযোগ সংকুচিত হবে।”
“ঠুনকো যুক্তি দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা”
সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তাহের প্রধান উপদেষ্টার যুক্তিগুলোকে “ঠুনকো ও অগ্রহণযোগ্য” বলে আখ্যায়িত করেন।
তার ভাষায়—
“তিনি দুটি যুক্তি দিয়েছেন—ব্যয় সাশ্রয় ও প্রশাসনিক সুবিধা। জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে এই ধরনের অর্থনৈতিক যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের রাজনৈতিক স্থিতি, জনগণের মতামত এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে—ব্যয় নয়।”
আগামীকাল বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া, কর্মসূচি অব্যাহত
তিনি জানান, শুক্রবার আট দলের পক্ষ থেকে আরও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। পাশাপাশি নির্বাচন-পূর্ব গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে দেশজুড়ে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ, সমাবেশ ও গণসংযোগ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
“গণভোট ছাড়া নির্বাচন হলে, জনগণ তার ফলকে বৈধতা দেবে না,”—বলেন তাহের।
















