প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি-জামায়াতের কড়া সমালোচনা: ‘জাতির আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি’
- Update Time : ০৭:১৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৬১ Time View

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-এর গেজেট প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় গেজেটটি জারি করে, যাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের স্বাক্ষর রয়েছে। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া।
এর আগে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন অনুমোদন করা হয়, এবং পরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিষয়টি ঘোষণা করেন। তার এই ভাষণ ও ঘোষণার পরপরই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি — বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বিএনপির অভিযোগ: “প্রধান উপদেষ্টা নিজের সনদই লঙ্ঘন করেছেন”
বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অধ্যাপক ইউনূস নিজের সই করা জুলাই জাতীয় সনদের মূল চেতনা থেকে সরে গেছেন এবং তা কার্যত লঙ্ঘন করেছেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব ইতোমধ্যেই প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (PR) ভিত্তিক জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় নিষ্পন্ন হয়েছিল। সেখানে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েও একটি গৃহীত অবস্থান ছিল। এখন প্রধান উপদেষ্টা সেটি নতুন করে আরোপ করতে চাচ্ছেন— যা পূর্ববর্তী ঐকমত্যের পরিপন্থী।”
তিনি আরও বলেন, “‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ নামে যে নতুন বডি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, সেটি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচ্য বিষয়ই ছিল না। এটি সম্পূর্ণ নতুন ধারণা, যার কোনো সাংবিধানিক বা রাজনৈতিক পূর্বনজির নেই।”
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের ওপর বিএনপির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পরে জানানো হবে। দলের স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক বৃহস্পতিবার রাতেই আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ঘোষণার প্রেক্ষিতে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হবে।
জামায়াতের সমালোচনা: “একই দিনে ভোট ও গণভোট— এটি জনগণের প্রত্যাশা নয়”
অন্যদিকে, বাংলাদেশ
তিনি বলেন, “একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের আয়োজন করলে যদি কোনো কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত হয় বা কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, তাহলে গণভোটের ব্যালট ও ফলাফল কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে? প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই।”
জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, “আমরা বহুদিন ধরে বলে আসছি— গণভোটের মাধ্যমে জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে। তাই সেটি অবশ্যই আলাদা দিনে, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ পরিবেশে হতে হবে। প্রধান উপদেষ্টার একযোগে নির্বাচন ও গণভোটের ঘোষণা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: নতুন বিতর্কের সূচনা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের পর বিএনপি ও জামায়াতের এই প্রতিক্রিয়া আসন্ন রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে গণভোট ও নির্বাচনের সময়সূচি একত্রে ঘোষণার ফলে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে অবিশ্বাসের আবহ বাড়বে।
একজন জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, “অধ্যাপক ইউনূসের প্রস্তাব রাজনৈতিকভাবে বাস্তবসম্মত হলেও, বিরোধী দলগুলো এটিকে ‘কৌশলগত চাপ’ হিসেবে দেখছে। এখন প্রশ্ন হলো, সরকার পক্ষ এই সমালোচনার জবাব কূটনৈতিকভাবে দেয় কি না, নাকি কঠোর অবস্থান নেয়।”
রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবার নজর বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক এবং জামায়াতের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক অবস্থানের দিকে। পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই দুই দলের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে— গণভোট ও নির্বাচনের আগাম রাজনৈতিক দৃশ্যপট কোন পথে এগোবে।
















