সময়: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রেলের সেবায় উন্নতি নেই, লোকসানও কমছে না

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৯:২৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৩২৩ Time View

বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালন ব্যয় বছরে ক্রমাগত বাড়ছে, কিন্তু সেবার মানে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রেল পরিচালনায় বছরে ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হচ্ছে। এই বিপুল অর্থের বড় অংশ ব্যয় হয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, অনবোর্ড সেবা, ইঞ্জিন ও কোচের মেরামত-রক্ষণাবেক্ষণ এবং যন্ত্রাংশ আমদানির পেছনে। তবুও যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন লক্ষ্যে করা এই ব্যয় কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারছে না—এমন অভিযোগই যাত্রী ও বিশেষজ্ঞদের।

রেলওয়ের যাত্রীসেবা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ অপরিবর্তিত—টিকিটের কালোবাজারি, ট্রেনের সময়সূচি লঙ্ঘন, স্টেশন ও ট্রেনে অপরিচ্ছন্নতা, খাবারের অতিরিক্ত দাম, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি, এমনকি চলন্ত ট্রেনে ইঞ্জিন বা বগি বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাও এখন নিয়মিত। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এলেও যাত্রীসেবার মানে তেমন উন্নতি হয়নি, বরং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেলের মোট আয় কমেছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, মহামারির পর প্রথমবার ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেলের আয় নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে—মোট আয় ছিল ১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ১৫ শতাংশ কম। যদিও চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে কিছুটা আয় বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩২ কোটি টাকায়, কিন্তু এতে রেলের লোকসানের বোঝা কমছে না। এ বছর লোকসান ১ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

সাধারণ যাত্রীদের প্রত্যাশা সহজ—সহজে টিকিট পাওয়া, সময়মতো ট্রেন ছাড়ার নিশ্চয়তা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, এবং নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছানো। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। জনপ্রিয় রুটগুলোর টিকিট কালোবাজারিদের দখলে চলে যায়, ফলে অনেক যাত্রী অতিরিক্ত দামে টিকিট কিনতে বাধ্য হয়। ট্রেনে উঠলেই শুরু হয় নতুন দুর্ভোগ—গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে থাকা আসনবিহীন ও টিকিটবিহীন যাত্রী, নোংরা টয়লেট, অপরিষ্কার কোচ, অনিয়মিত সময়সূচি ও যান্ত্রিক ত্রুটি।

ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রামাগার নেই; প্লাটফর্মেই অধিকাংশকে অপেক্ষা করতে হয়। ফ্যান থাকলেও সেগুলো সচল থাকে না, টয়লেটগুলো অপরিষ্কার ও অপর্যাপ্ত। এমনকি বিনামূল্যে সুপেয় পানির ব্যবস্থাতেও পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি রয়েছে। যাত্রীরা নিয়মিত চুরি-ছিনতাইয়ের ঝুঁকিতেও থাকেন। রাজধানীর প্রধান স্টেশনের এই অবস্থা হলে, জেলা পর্যায়ের স্টেশনগুলোতে পরিস্থিতি আরও করুণ।

কমলাপুরের স্টেশনমাস্টার আনোয়ার হোসেন বলেন, “পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ, পরিচ্ছন্ন রেলওয়ে”—এই স্লোগানে আমরা কাজ করছি। তবে যাত্রীরা নিজেরাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে সচেতন না হলে শতভাগ সফল হওয়া সম্ভব নয়।”

বুয়েটের পরিবহন ও ট্রাফিক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. সামছুল হক মনে করেন, রেল খাতে বিপুল বিনিয়োগ হলেও এর সুফল যাত্রীসেবায় প্রতিফলিত হয়নি। তিনি বলেন, “বিগত এক দশকে রেলে হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছে। এখন এই বিনিয়োগের সুফল দেখানোর কথা ছিল, কিন্তু তা হয়নি। রেল প্রশাসনের দুর্বলতা এবং রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতিই এর মূল কারণ।”

সাম্প্রতিক সময়ে ট্রেন লাইনচ্যুতি ও বগি বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি রেল মন্ত্রণালয়ও স্বীকার করেছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, “রেলের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম এখনো মানসম্মত নয়। আমরা একটি বিশেষ আলোচনামূলক কর্মসূচি শুরু করেছি, যাতে এ সমস্যা নিরসনে টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া যায়।”

তিনি আরও বলেন, “যাত্রীসেবা দিতে ইঞ্জিন ও কোচ প্রয়োজন, কিন্তু তা পর্যাপ্ত নেই। নতুন কোচ পেতে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগে। আশা করছি, আগামী ডিসেম্বরে নতুন ইঞ্জিন-কোচ পাওয়া গেলে সেবায় কিছুটা উন্নতি হবে।”

তবে তিনি দাবি করেন, “রেলের আয়-ব্যয়ের অনুপাত বা অপারেটিং রেশিও কিছুটা কমানো গেছে। আগে ১ টাকা আয়ের বিপরীতে ব্যয় হতো প্রায় ২ টাকা ৪০ পয়সা, এখন তা ১ টাকা ৮০-৯০ পয়সায় নেমে এসেছে।”

২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেলের পরিচালন ব্যয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৪ হাজার ২২৯ কোটি টাকা, যার বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা। তবে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলে ইতিমধ্যেই স্বীকার করেছেন রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন। তিনি বলেন, “লোকোমোটিভ সংকট ও আমদানি কার্যক্রম কমে যাওয়ায় আয় কমছে।”

যদিও রেলের আয় কিছুটা বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তবুও রেলের সার্বিক চিত্রে পরিবর্তন আসছে না। পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিনিয়োগ থাকা সত্ত্বেও সেবার মানে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই—যা প্রমাণ করে, রেলের সমস্যা শুধু অর্থ নয়, বরং সুশাসনেরও।

রেলের সেবায় উন্নতি নেই, লোকসানও কমছে না

বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালন ব্যয় বছরে ক্রমাগত বাড়ছে, কিন্তু সেবার মানে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রেল পরিচালনায় বছরে ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হচ্ছে। এই বিপুল অর্থের বড় অংশ ব্যয় হয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, অনবোর্ড সেবা, ইঞ্জিন ও কোচের মেরামত-রক্ষণাবেক্ষণ এবং যন্ত্রাংশ আমদানির পেছনে। তবুও যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন লক্ষ্যে করা এই ব্যয় কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারছে না—এমন অভিযোগই যাত্রী ও বিশেষজ্ঞদের।

রেলওয়ের যাত্রীসেবা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ অপরিবর্তিত—টিকিটের কালোবাজারি, ট্রেনের সময়সূচি লঙ্ঘন, স্টেশন ও ট্রেনে অপরিচ্ছন্নতা, খাবারের অতিরিক্ত দাম, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি, এমনকি চলন্ত ট্রেনে ইঞ্জিন বা বগি বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাও এখন নিয়মিত। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এলেও যাত্রীসেবার মানে তেমন উন্নতি হয়নি, বরং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেলের মোট আয় কমেছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, মহামারির পর প্রথমবার ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেলের আয় নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে—মোট আয় ছিল ১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ১৫ শতাংশ কম। যদিও চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে কিছুটা আয় বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩২ কোটি টাকায়, কিন্তু এতে রেলের লোকসানের বোঝা কমছে না। এ বছর লোকসান ১ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

সাধারণ যাত্রীদের প্রত্যাশা সহজ—সহজে টিকিট পাওয়া, সময়মতো ট্রেন ছাড়ার নিশ্চয়তা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, এবং নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছানো। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। জনপ্রিয় রুটগুলোর টিকিট কালোবাজারিদের দখলে চলে যায়, ফলে অনেক যাত্রী অতিরিক্ত দামে টিকিট কিনতে বাধ্য হয়। ট্রেনে উঠলেই শুরু হয় নতুন দুর্ভোগ—গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে থাকা আসনবিহীন ও টিকিটবিহীন যাত্রী, নোংরা টয়লেট, অপরিষ্কার কোচ, অনিয়মিত সময়সূচি ও যান্ত্রিক ত্রুটি।

ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রামাগার নেই; প্লাটফর্মেই অধিকাংশকে অপেক্ষা করতে হয়। ফ্যান থাকলেও সেগুলো সচল থাকে না, টয়লেটগুলো অপরিষ্কার ও অপর্যাপ্ত। এমনকি বিনামূল্যে সুপেয় পানির ব্যবস্থাতেও পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি রয়েছে। যাত্রীরা নিয়মিত চুরি-ছিনতাইয়ের ঝুঁকিতেও থাকেন। রাজধানীর প্রধান স্টেশনের এই অবস্থা হলে, জেলা পর্যায়ের স্টেশনগুলোতে পরিস্থিতি আরও করুণ।

কমলাপুরের স্টেশনমাস্টার আনোয়ার হোসেন বলেন, “পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ, পরিচ্ছন্ন রেলওয়ে”—এই স্লোগানে আমরা কাজ করছি। তবে যাত্রীরা নিজেরাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে সচেতন না হলে শতভাগ সফল হওয়া সম্ভব নয়।”

বুয়েটের পরিবহন ও ট্রাফিক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. সামছুল হক মনে করেন, রেল খাতে বিপুল বিনিয়োগ হলেও এর সুফল যাত্রীসেবায় প্রতিফলিত হয়নি। তিনি বলেন, “বিগত এক দশকে রেলে হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছে। এখন এই বিনিয়োগের সুফল দেখানোর কথা ছিল, কিন্তু তা হয়নি। রেল প্রশাসনের দুর্বলতা এবং রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতিই এর মূল কারণ।”

সাম্প্রতিক সময়ে ট্রেন লাইনচ্যুতি ও বগি বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি রেল মন্ত্রণালয়ও স্বীকার করেছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, “রেলের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম এখনো মানসম্মত নয়। আমরা একটি বিশেষ আলোচনামূলক কর্মসূচি শুরু করেছি, যাতে এ সমস্যা নিরসনে টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া যায়।”

তিনি আরও বলেন, “যাত্রীসেবা দিতে ইঞ্জিন ও কোচ প্রয়োজন, কিন্তু তা পর্যাপ্ত নেই। নতুন কোচ পেতে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগে। আশা করছি, আগামী ডিসেম্বরে নতুন ইঞ্জিন-কোচ পাওয়া গেলে সেবায় কিছুটা উন্নতি হবে।”

তবে তিনি দাবি করেন, “রেলের আয়-ব্যয়ের অনুপাত বা অপারেটিং রেশিও কিছুটা কমানো গেছে। আগে ১ টাকা আয়ের বিপরীতে ব্যয় হতো প্রায় ২ টাকা ৪০ পয়সা, এখন তা ১ টাকা ৮০-৯০ পয়সায় নেমে এসেছে।”

২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেলের পরিচালন ব্যয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৪ হাজার ২২৯ কোটি টাকা, যার বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা। তবে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলে ইতিমধ্যেই স্বীকার করেছেন রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন। তিনি বলেন, “লোকোমোটিভ সংকট ও আমদানি কার্যক্রম কমে যাওয়ায় আয় কমছে।”

যদিও রেলের আয় কিছুটা বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তবুও রেলের সার্বিক চিত্রে পরিবর্তন আসছে না। পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিনিয়োগ থাকা সত্ত্বেও সেবার মানে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই—যা প্রমাণ করে, রেলের সমস্যা শুধু অর্থ নয়, বরং সুশাসনেরও।

সুত্রঃবনিক বার্তা

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রেলের সেবায় উন্নতি নেই, লোকসানও কমছে না

Update Time : ০৯:২৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালন ব্যয় বছরে ক্রমাগত বাড়ছে, কিন্তু সেবার মানে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রেল পরিচালনায় বছরে ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হচ্ছে। এই বিপুল অর্থের বড় অংশ ব্যয় হয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, অনবোর্ড সেবা, ইঞ্জিন ও কোচের মেরামত-রক্ষণাবেক্ষণ এবং যন্ত্রাংশ আমদানির পেছনে। তবুও যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন লক্ষ্যে করা এই ব্যয় কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারছে না—এমন অভিযোগই যাত্রী ও বিশেষজ্ঞদের।

রেলওয়ের যাত্রীসেবা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ অপরিবর্তিত—টিকিটের কালোবাজারি, ট্রেনের সময়সূচি লঙ্ঘন, স্টেশন ও ট্রেনে অপরিচ্ছন্নতা, খাবারের অতিরিক্ত দাম, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি, এমনকি চলন্ত ট্রেনে ইঞ্জিন বা বগি বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাও এখন নিয়মিত। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এলেও যাত্রীসেবার মানে তেমন উন্নতি হয়নি, বরং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেলের মোট আয় কমেছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, মহামারির পর প্রথমবার ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেলের আয় নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে—মোট আয় ছিল ১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ১৫ শতাংশ কম। যদিও চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে কিছুটা আয় বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩২ কোটি টাকায়, কিন্তু এতে রেলের লোকসানের বোঝা কমছে না। এ বছর লোকসান ১ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

সাধারণ যাত্রীদের প্রত্যাশা সহজ—সহজে টিকিট পাওয়া, সময়মতো ট্রেন ছাড়ার নিশ্চয়তা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, এবং নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছানো। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। জনপ্রিয় রুটগুলোর টিকিট কালোবাজারিদের দখলে চলে যায়, ফলে অনেক যাত্রী অতিরিক্ত দামে টিকিট কিনতে বাধ্য হয়। ট্রেনে উঠলেই শুরু হয় নতুন দুর্ভোগ—গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে থাকা আসনবিহীন ও টিকিটবিহীন যাত্রী, নোংরা টয়লেট, অপরিষ্কার কোচ, অনিয়মিত সময়সূচি ও যান্ত্রিক ত্রুটি।

ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রামাগার নেই; প্লাটফর্মেই অধিকাংশকে অপেক্ষা করতে হয়। ফ্যান থাকলেও সেগুলো সচল থাকে না, টয়লেটগুলো অপরিষ্কার ও অপর্যাপ্ত। এমনকি বিনামূল্যে সুপেয় পানির ব্যবস্থাতেও পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি রয়েছে। যাত্রীরা নিয়মিত চুরি-ছিনতাইয়ের ঝুঁকিতেও থাকেন। রাজধানীর প্রধান স্টেশনের এই অবস্থা হলে, জেলা পর্যায়ের স্টেশনগুলোতে পরিস্থিতি আরও করুণ।

কমলাপুরের স্টেশনমাস্টার আনোয়ার হোসেন বলেন, “পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ, পরিচ্ছন্ন রেলওয়ে”—এই স্লোগানে আমরা কাজ করছি। তবে যাত্রীরা নিজেরাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে সচেতন না হলে শতভাগ সফল হওয়া সম্ভব নয়।”

বুয়েটের পরিবহন ও ট্রাফিক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. সামছুল হক মনে করেন, রেল খাতে বিপুল বিনিয়োগ হলেও এর সুফল যাত্রীসেবায় প্রতিফলিত হয়নি। তিনি বলেন, “বিগত এক দশকে রেলে হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছে। এখন এই বিনিয়োগের সুফল দেখানোর কথা ছিল, কিন্তু তা হয়নি। রেল প্রশাসনের দুর্বলতা এবং রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতিই এর মূল কারণ।”

সাম্প্রতিক সময়ে ট্রেন লাইনচ্যুতি ও বগি বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি রেল মন্ত্রণালয়ও স্বীকার করেছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, “রেলের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম এখনো মানসম্মত নয়। আমরা একটি বিশেষ আলোচনামূলক কর্মসূচি শুরু করেছি, যাতে এ সমস্যা নিরসনে টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া যায়।”

তিনি আরও বলেন, “যাত্রীসেবা দিতে ইঞ্জিন ও কোচ প্রয়োজন, কিন্তু তা পর্যাপ্ত নেই। নতুন কোচ পেতে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগে। আশা করছি, আগামী ডিসেম্বরে নতুন ইঞ্জিন-কোচ পাওয়া গেলে সেবায় কিছুটা উন্নতি হবে।”

তবে তিনি দাবি করেন, “রেলের আয়-ব্যয়ের অনুপাত বা অপারেটিং রেশিও কিছুটা কমানো গেছে। আগে ১ টাকা আয়ের বিপরীতে ব্যয় হতো প্রায় ২ টাকা ৪০ পয়সা, এখন তা ১ টাকা ৮০-৯০ পয়সায় নেমে এসেছে।”

২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেলের পরিচালন ব্যয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৪ হাজার ২২৯ কোটি টাকা, যার বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা। তবে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলে ইতিমধ্যেই স্বীকার করেছেন রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন। তিনি বলেন, “লোকোমোটিভ সংকট ও আমদানি কার্যক্রম কমে যাওয়ায় আয় কমছে।”

যদিও রেলের আয় কিছুটা বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তবুও রেলের সার্বিক চিত্রে পরিবর্তন আসছে না। পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিনিয়োগ থাকা সত্ত্বেও সেবার মানে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই—যা প্রমাণ করে, রেলের সমস্যা শুধু অর্থ নয়, বরং সুশাসনেরও।

রেলের সেবায় উন্নতি নেই, লোকসানও কমছে না

বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালন ব্যয় বছরে ক্রমাগত বাড়ছে, কিন্তু সেবার মানে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রেল পরিচালনায় বছরে ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হচ্ছে। এই বিপুল অর্থের বড় অংশ ব্যয় হয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, অনবোর্ড সেবা, ইঞ্জিন ও কোচের মেরামত-রক্ষণাবেক্ষণ এবং যন্ত্রাংশ আমদানির পেছনে। তবুও যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন লক্ষ্যে করা এই ব্যয় কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারছে না—এমন অভিযোগই যাত্রী ও বিশেষজ্ঞদের।

রেলওয়ের যাত্রীসেবা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ অপরিবর্তিত—টিকিটের কালোবাজারি, ট্রেনের সময়সূচি লঙ্ঘন, স্টেশন ও ট্রেনে অপরিচ্ছন্নতা, খাবারের অতিরিক্ত দাম, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি, এমনকি চলন্ত ট্রেনে ইঞ্জিন বা বগি বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাও এখন নিয়মিত। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এলেও যাত্রীসেবার মানে তেমন উন্নতি হয়নি, বরং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেলের মোট আয় কমেছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, মহামারির পর প্রথমবার ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেলের আয় নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে—মোট আয় ছিল ১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ১৫ শতাংশ কম। যদিও চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে কিছুটা আয় বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩২ কোটি টাকায়, কিন্তু এতে রেলের লোকসানের বোঝা কমছে না। এ বছর লোকসান ১ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

সাধারণ যাত্রীদের প্রত্যাশা সহজ—সহজে টিকিট পাওয়া, সময়মতো ট্রেন ছাড়ার নিশ্চয়তা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, এবং নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছানো। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। জনপ্রিয় রুটগুলোর টিকিট কালোবাজারিদের দখলে চলে যায়, ফলে অনেক যাত্রী অতিরিক্ত দামে টিকিট কিনতে বাধ্য হয়। ট্রেনে উঠলেই শুরু হয় নতুন দুর্ভোগ—গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে থাকা আসনবিহীন ও টিকিটবিহীন যাত্রী, নোংরা টয়লেট, অপরিষ্কার কোচ, অনিয়মিত সময়সূচি ও যান্ত্রিক ত্রুটি।

ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রামাগার নেই; প্লাটফর্মেই অধিকাংশকে অপেক্ষা করতে হয়। ফ্যান থাকলেও সেগুলো সচল থাকে না, টয়লেটগুলো অপরিষ্কার ও অপর্যাপ্ত। এমনকি বিনামূল্যে সুপেয় পানির ব্যবস্থাতেও পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি রয়েছে। যাত্রীরা নিয়মিত চুরি-ছিনতাইয়ের ঝুঁকিতেও থাকেন। রাজধানীর প্রধান স্টেশনের এই অবস্থা হলে, জেলা পর্যায়ের স্টেশনগুলোতে পরিস্থিতি আরও করুণ।

কমলাপুরের স্টেশনমাস্টার আনোয়ার হোসেন বলেন, “পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ, পরিচ্ছন্ন রেলওয়ে”—এই স্লোগানে আমরা কাজ করছি। তবে যাত্রীরা নিজেরাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে সচেতন না হলে শতভাগ সফল হওয়া সম্ভব নয়।”

বুয়েটের পরিবহন ও ট্রাফিক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. সামছুল হক মনে করেন, রেল খাতে বিপুল বিনিয়োগ হলেও এর সুফল যাত্রীসেবায় প্রতিফলিত হয়নি। তিনি বলেন, “বিগত এক দশকে রেলে হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছে। এখন এই বিনিয়োগের সুফল দেখানোর কথা ছিল, কিন্তু তা হয়নি। রেল প্রশাসনের দুর্বলতা এবং রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতিই এর মূল কারণ।”

সাম্প্রতিক সময়ে ট্রেন লাইনচ্যুতি ও বগি বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি রেল মন্ত্রণালয়ও স্বীকার করেছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, “রেলের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম এখনো মানসম্মত নয়। আমরা একটি বিশেষ আলোচনামূলক কর্মসূচি শুরু করেছি, যাতে এ সমস্যা নিরসনে টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া যায়।”

তিনি আরও বলেন, “যাত্রীসেবা দিতে ইঞ্জিন ও কোচ প্রয়োজন, কিন্তু তা পর্যাপ্ত নেই। নতুন কোচ পেতে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগে। আশা করছি, আগামী ডিসেম্বরে নতুন ইঞ্জিন-কোচ পাওয়া গেলে সেবায় কিছুটা উন্নতি হবে।”

তবে তিনি দাবি করেন, “রেলের আয়-ব্যয়ের অনুপাত বা অপারেটিং রেশিও কিছুটা কমানো গেছে। আগে ১ টাকা আয়ের বিপরীতে ব্যয় হতো প্রায় ২ টাকা ৪০ পয়সা, এখন তা ১ টাকা ৮০-৯০ পয়সায় নেমে এসেছে।”

২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেলের পরিচালন ব্যয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৪ হাজার ২২৯ কোটি টাকা, যার বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা। তবে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলে ইতিমধ্যেই স্বীকার করেছেন রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন। তিনি বলেন, “লোকোমোটিভ সংকট ও আমদানি কার্যক্রম কমে যাওয়ায় আয় কমছে।”

যদিও রেলের আয় কিছুটা বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তবুও রেলের সার্বিক চিত্রে পরিবর্তন আসছে না। পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিনিয়োগ থাকা সত্ত্বেও সেবার মানে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই—যা প্রমাণ করে, রেলের সমস্যা শুধু অর্থ নয়, বরং সুশাসনেরও।

সুত্রঃবনিক বার্তা