সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপি ১০০ বছর অপেক্ষা করলেও গণভোট ঠেকাতে পারবে না: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:৪৯:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২০৪ Time View

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, বাংলাদেশে গণভোট হবেই—এটা এখন সময়ের দাবি ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বিএনপি যদি ১০০ বছরও অপেক্ষা করে, তাহলেও তারা গণভোট ঠেকাতে পারবে না। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের এই আন্দোলনকে কেউ থামাতে পারবে না।”

বুধবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে স্বাস্থ্য পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের যৌথ মঞ্চের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাসীরুদ্দীন বলেন, “আমি আশা করি জামায়াতসহ আট দল তাদের দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরবে। গণভোটের প্রশ্নে জনগণের ঐক্য তৈরি হয়েছে, এটা আর কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। জনগণের রায়ই চূড়ান্ত হবে, গণভোটের মাধ্যমে দেশ দিকনির্দেশনা পাবে।”

তিনি বিএনপিকে সমালোচনা করে বলেন, “বিএনপি এখন চাঁদাবাজি আর মামলাবাজিতেই ব্যস্ত। শোনা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগের মামলা নাকি তুলে নেওয়া হচ্ছে। বাস্তবে এক বছরে টাকার বিনিময়ে বহু মামলা তুলে নেওয়া হয়েছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সেটারই স্বীকৃতি দিয়েছেন। এক বছরের পুরো সফলতা বিএনপির চাঁদাবাজি আর মামলা বানিজ্য—এটাই তাদের রাজনৈতিক অর্জন! এই সফলতা নিয়ে তারা কি জনগণের কাছে ভোট চাইবে?”

সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে এনসিপি মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, “আমরা সংস্কার চেয়েছি ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তির জন্য। কিন্তু দুঃখজনকভাবে একটি বড় দল এই প্রক্রিয়া থেকে সরে গেছে। অথচ দেশের নতুন প্রজন্ম সংস্কার চায়, জবাবদিহিমূলক রাজনীতি চায়, ভোটাধিকার ফিরিয়ে চায়। জনগণের এই চাওয়াকে অবজ্ঞা করলে তা ভবিষ্যতে বড় সংকটে রূপ নেবে।”

বিএনপিকে উদ্দেশ করে নাসীরুদ্দীন বলেন, “জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া জনগণের পালস বুঝতে পারতেন, তাই তারা জনগণের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান বিএনপি নেতৃত্ব জনগণের অনুভূতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাই আমি আহ্বান জানাই—ইগো ছেড়ে, ব্যক্তিগত স্বার্থ বাদ দিয়ে সংস্কারের পথে আসুন। সংস্কারের মাধ্যমেই নতুন রাজনীতির সূচনা সম্ভব।”

সরকারের প্রতি তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বর্তমান রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সংকট হলো সরকার ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব। ইউনূস সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একক পথে চলছে। পুলিশ দিয়ে শিক্ষকদের, চিকিৎসকদের, নার্সদের পিটিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি আরও নিচে নেমেছে। এখন সবাই প্রশ্ন করছে—এই রাষ্ট্রব্যবস্থায় সংস্কার প্রয়োজন আছে, নাকি নেই? ফ্যাসিবাদী প্রশাসনিক কাঠামো দিয়ে কোনো দেশ এগোতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সরকারের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত—যারা এতদিন বঞ্চিত, তাদের অধিকার নিশ্চিত করা। সরকারের আসনে বসা মানে জনগণের দাবিকে সম্মান জানানো, জনগণের কণ্ঠস্বর শোনা। তাই আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই—দেশের স্বাস্থ্য খাতে একটি সুষ্ঠু ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো গড়ে তুলুন, যেখানে চিকিৎসক, নার্স ও রোগী সবাই নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থায় থাকতে পারেন।”

শেষে তিনি বলেন, “আগামীকাল নাকি আওয়ামী লীগের লকডাউন ডাকা হয়েছে। কিন্তু জনগণ ভয় পায় না। আগামীকাল সব দল মাঠে থাকবে, কারণ এটা জনগণের মাঠ। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ঠেকাতে হাসনাত আবদুল্লাহ একাই যথেষ্ট—কারণ জনগণ এখন জেগে উঠেছে, আর কেউ এই জাগরণ থামাতে পারবে না।”

নাসীরুদ্দীনের এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে, তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন ধারার—সংস্কার, গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের—পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর মতে, গণভোট শুধু একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, এটি জনগণের আত্মপ্রকাশ ও রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনের সূচনা।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বিএনপি ১০০ বছর অপেক্ষা করলেও গণভোট ঠেকাতে পারবে না: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

Update Time : ০৬:৪৯:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, বাংলাদেশে গণভোট হবেই—এটা এখন সময়ের দাবি ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বিএনপি যদি ১০০ বছরও অপেক্ষা করে, তাহলেও তারা গণভোট ঠেকাতে পারবে না। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের এই আন্দোলনকে কেউ থামাতে পারবে না।”

বুধবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে স্বাস্থ্য পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের যৌথ মঞ্চের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাসীরুদ্দীন বলেন, “আমি আশা করি জামায়াতসহ আট দল তাদের দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরবে। গণভোটের প্রশ্নে জনগণের ঐক্য তৈরি হয়েছে, এটা আর কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। জনগণের রায়ই চূড়ান্ত হবে, গণভোটের মাধ্যমে দেশ দিকনির্দেশনা পাবে।”

তিনি বিএনপিকে সমালোচনা করে বলেন, “বিএনপি এখন চাঁদাবাজি আর মামলাবাজিতেই ব্যস্ত। শোনা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগের মামলা নাকি তুলে নেওয়া হচ্ছে। বাস্তবে এক বছরে টাকার বিনিময়ে বহু মামলা তুলে নেওয়া হয়েছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সেটারই স্বীকৃতি দিয়েছেন। এক বছরের পুরো সফলতা বিএনপির চাঁদাবাজি আর মামলা বানিজ্য—এটাই তাদের রাজনৈতিক অর্জন! এই সফলতা নিয়ে তারা কি জনগণের কাছে ভোট চাইবে?”

সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে এনসিপি মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, “আমরা সংস্কার চেয়েছি ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তির জন্য। কিন্তু দুঃখজনকভাবে একটি বড় দল এই প্রক্রিয়া থেকে সরে গেছে। অথচ দেশের নতুন প্রজন্ম সংস্কার চায়, জবাবদিহিমূলক রাজনীতি চায়, ভোটাধিকার ফিরিয়ে চায়। জনগণের এই চাওয়াকে অবজ্ঞা করলে তা ভবিষ্যতে বড় সংকটে রূপ নেবে।”

বিএনপিকে উদ্দেশ করে নাসীরুদ্দীন বলেন, “জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া জনগণের পালস বুঝতে পারতেন, তাই তারা জনগণের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান বিএনপি নেতৃত্ব জনগণের অনুভূতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাই আমি আহ্বান জানাই—ইগো ছেড়ে, ব্যক্তিগত স্বার্থ বাদ দিয়ে সংস্কারের পথে আসুন। সংস্কারের মাধ্যমেই নতুন রাজনীতির সূচনা সম্ভব।”

সরকারের প্রতি তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বর্তমান রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সংকট হলো সরকার ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব। ইউনূস সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একক পথে চলছে। পুলিশ দিয়ে শিক্ষকদের, চিকিৎসকদের, নার্সদের পিটিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি আরও নিচে নেমেছে। এখন সবাই প্রশ্ন করছে—এই রাষ্ট্রব্যবস্থায় সংস্কার প্রয়োজন আছে, নাকি নেই? ফ্যাসিবাদী প্রশাসনিক কাঠামো দিয়ে কোনো দেশ এগোতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সরকারের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত—যারা এতদিন বঞ্চিত, তাদের অধিকার নিশ্চিত করা। সরকারের আসনে বসা মানে জনগণের দাবিকে সম্মান জানানো, জনগণের কণ্ঠস্বর শোনা। তাই আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই—দেশের স্বাস্থ্য খাতে একটি সুষ্ঠু ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো গড়ে তুলুন, যেখানে চিকিৎসক, নার্স ও রোগী সবাই নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থায় থাকতে পারেন।”

শেষে তিনি বলেন, “আগামীকাল নাকি আওয়ামী লীগের লকডাউন ডাকা হয়েছে। কিন্তু জনগণ ভয় পায় না। আগামীকাল সব দল মাঠে থাকবে, কারণ এটা জনগণের মাঠ। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ঠেকাতে হাসনাত আবদুল্লাহ একাই যথেষ্ট—কারণ জনগণ এখন জেগে উঠেছে, আর কেউ এই জাগরণ থামাতে পারবে না।”

নাসীরুদ্দীনের এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে, তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন ধারার—সংস্কার, গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের—পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর মতে, গণভোট শুধু একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, এটি জনগণের আত্মপ্রকাশ ও রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনের সূচনা।