সময়: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তেঁতুলিয়ায় মৌসুমের প্রথম শীতের ছোঁয়া: সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৮:৩৪:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৪৯ Time View

দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নেমে এসেছে মৌসুমের প্রথম শীতের আমেজ। ভোরের হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশায় জেগে উঠেছে উত্তরবঙ্গের প্রকৃতি। বুধবার (১২ নভেম্বর) সকাল ৬টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এ মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন।

এর আগের দিন মঙ্গলবার একই স্থানে তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা প্রায় দুই ডিগ্রি কমে গেছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে নভেম্বরের শেষ দিকে পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা আরও বাড়বে।

ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে চারপাশ

সকাল থেকে তেঁতুলিয়ার আকাশে ছড়িয়েছে ঘন কুয়াশা। মাঠ-ঘাট, গ্রামীণ জনপদ, এমনকি শহরের রাস্তাঘাটও সাদা চাদরের মতো কুয়াশায় ঢেকে গেছে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৯ শতাংশ, ফলে দৃশ্যমানতা কয়েক হাত দূরে নেমে আসে। যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হয়।

টুনিরহাট এলাকার অটোচালক ফারুক হোসেন বলেন, “সকালে কুয়াশার ঘনত্ব এত বেশি যে, হেডলাইট জ্বালালেও সামনের রাস্তা দেখা যায় না। যাত্রীও পাওয়া যাচ্ছে না।”
অন্যদিকে মোটরসাইকেল চালক রবিউল ইসলাম বলেন, “এই ঠান্ডায় সকালে বের হলে হাত-পা অবশ হয়ে আসে। মনে হয়, শীত একদম দরজায় কড়া নাড়ছে।”

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সন্ধ্যা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকবে চারপাশ। বাতাসে প্রচুর জলীয় বাষ্প থাকার কারণে দিনের বেলাতেও আংশিক কুয়াশা দেখা যেতে পারে। ফলে সূর্যের আলো পুরোপুরি ভূপৃষ্ঠে পৌঁছাতে পারছে না, যার কারণে রাতে দ্রুত ঠান্ডা পড়ে এবং সকালে ঘন কুয়াশা তৈরি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের আবহাওয়া সাধারণত শীত ও গ্রীষ্মের সন্ধিক্ষণে দেখা যায়। তবে এবার এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ জলবায়ু পরিবর্তন, যা উত্তরবঙ্গের শীতের আগমনকে আরও অকালীন করে তুলছে।

মৃদু শৈত্যপ্রবাহের

আশঙ্কা

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, “বর্তমানে তাপমাত্রা প্রতিদিনই কিছুটা করে কমছে। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এরপর ডিসেম্বরজুড়ে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও আশপাশের জেলাগুলোয় একাধিক শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

স্থানীয়রা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরেই নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে তেঁতুলিয়ায় শীতের আগমন দেখা যায়। তবে এবার তাপমাত্রা কিছুটা দ্রুত নামছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে একটি প্রবল দীর্ঘ শীত মৌসুমের।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

তেঁতুলিয়ায় মৌসুমের প্রথম শীতের ছোঁয়া: সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস

Update Time : ০৮:৩৪:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নেমে এসেছে মৌসুমের প্রথম শীতের আমেজ। ভোরের হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশায় জেগে উঠেছে উত্তরবঙ্গের প্রকৃতি। বুধবার (১২ নভেম্বর) সকাল ৬টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এ মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন।

এর আগের দিন মঙ্গলবার একই স্থানে তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা প্রায় দুই ডিগ্রি কমে গেছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে নভেম্বরের শেষ দিকে পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা আরও বাড়বে।

ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে চারপাশ

সকাল থেকে তেঁতুলিয়ার আকাশে ছড়িয়েছে ঘন কুয়াশা। মাঠ-ঘাট, গ্রামীণ জনপদ, এমনকি শহরের রাস্তাঘাটও সাদা চাদরের মতো কুয়াশায় ঢেকে গেছে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৯ শতাংশ, ফলে দৃশ্যমানতা কয়েক হাত দূরে নেমে আসে। যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হয়।

টুনিরহাট এলাকার অটোচালক ফারুক হোসেন বলেন, “সকালে কুয়াশার ঘনত্ব এত বেশি যে, হেডলাইট জ্বালালেও সামনের রাস্তা দেখা যায় না। যাত্রীও পাওয়া যাচ্ছে না।”
অন্যদিকে মোটরসাইকেল চালক রবিউল ইসলাম বলেন, “এই ঠান্ডায় সকালে বের হলে হাত-পা অবশ হয়ে আসে। মনে হয়, শীত একদম দরজায় কড়া নাড়ছে।”

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সন্ধ্যা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকবে চারপাশ। বাতাসে প্রচুর জলীয় বাষ্প থাকার কারণে দিনের বেলাতেও আংশিক কুয়াশা দেখা যেতে পারে। ফলে সূর্যের আলো পুরোপুরি ভূপৃষ্ঠে পৌঁছাতে পারছে না, যার কারণে রাতে দ্রুত ঠান্ডা পড়ে এবং সকালে ঘন কুয়াশা তৈরি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের আবহাওয়া সাধারণত শীত ও গ্রীষ্মের সন্ধিক্ষণে দেখা যায়। তবে এবার এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ জলবায়ু পরিবর্তন, যা উত্তরবঙ্গের শীতের আগমনকে আরও অকালীন করে তুলছে।

মৃদু

শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, “বর্তমানে তাপমাত্রা প্রতিদিনই কিছুটা করে কমছে। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এরপর ডিসেম্বরজুড়ে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও আশপাশের জেলাগুলোয় একাধিক শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

স্থানীয়রা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরেই নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে তেঁতুলিয়ায় শীতের আগমন দেখা যায়। তবে এবার তাপমাত্রা কিছুটা দ্রুত নামছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে একটি প্রবল দীর্ঘ শীত মৌসুমের।