সময়: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে ‘দেখামাত্র গুলি’ নির্দেশ সিএমপি কমিশনারের

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৮:২৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৯৫ Time View

 

চট্টগ্রাম নগরীতে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের দমন করতে এবার কঠোর অবস্থানে গেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন—অস্ত্র হাতে দেখা গেলেই ব্রাশফায়ার করে হত্যা করতে হবে। মঙ্গলবার দুপুরে ওয়্যারলেস সেটের মাধ্যমে সিএমপির সব সদস্যকে এই নির্দেশ দেন কমিশনার, যা পরে তিনি গণমাধ্যমে নিশ্চিতও করেন।

সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা

ওয়্যারলেস বার্তায় কমিশনার হাসিব আজিজ বলেন, “অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও অপরাধীরা আবার চট্টগ্রামকে অন্ধকার জাহেলিয়াতের যুগে ফিরিয়ে নিতে চাচ্ছে। এটা আমরা কোনোভাবেই হতে দেব না। যদি প্রয়োজন হয়, এমন কয়েকজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে মেরে ফেলব, কিন্তু চট্টগ্রামকে আর অন্ধকারে ফিরতে দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে চট্টগ্রাম পরিণত হবে না। এজন্য যা যা করা প্রয়োজন, আমরা করব।” কমিশনারের এই বক্তব্যকে অনেকেই চট্টগ্রামজুড়ে সন্ত্রাস দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা হিসেবে দেখছেন।

শটগান নয়, এসএমজি ব্রাশফায়ার মুডে থাকবে’

সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে ১টার মধ্যে কমিশনার ওয়্যারলেসে একাধিকবার নির্দেশনা দেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন—
“শটগান হবে না, চায়না রাইফেলও বাদ, এখন এসএমজি ব্রাশফায়ার মুডে থাকবে।”

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, টহল টিমগুলো এসএমজি ছাড়াও শিশা শটগান, দুইটি গ্যাসগান ও টিম ইনচার্জের জন্য নাইন এমএম পিস্তল সঙ্গে রাখবে। একইসঙ্গে নগরীর স্থায়ী চেকপোস্টের সংখ্যা ৭ থেকে বাড়িয়ে ১৩টি করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

আত্মরক্ষায় আইনগত অধিকার দায়ভার কমিশনারের

বেতার বার্তায় কমিশনার পুলিশ সদস্যদের মনে করিয়ে দেন, দণ্ডবিধির ৯৬ থেকে ১০৬ ধারা পর্যন্ত আত্মরক্ষার অধিকার প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের আছে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, প্রয়োজনবোধে আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালানোর পর এর দায়ভার কমিশনার নিজেই বহন করবেন।

সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রেক্ষাপট

গত

নভেম্বর চট্টগ্রামের বায়োজিদ বোস্তামী থানার চালিতাতলী এলাকায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর জনসংযোগ কর্মসূচিতে ভয়াবহ গুলির ঘটনা ঘটে। সেদিন সিএমপির তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন বাবলা নিহত হন এবং এরশাদ উল্লাহ নিজেও গুলিবিদ্ধ হন। এর পরদিন একই এলাকায় আবারও গুলির ঘটনা ঘটে, যাতে আরও একজন আহত হন। এসব ঘটনায় শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সিএমপি সূত্রে জানা গেছে, এই ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলার পরই কমিশনার কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দেন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অস্ত্রধারী দল চট্টগ্রামের জননিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে না পারে।

আগেও হয়েছিল ‘দেখামাত্র গুলি’ নির্দেশ

এর আগেও, গত ১৩ আগস্ট আওয়ামী লীগের মিছিলকে কেন্দ্র করে অভিযানে যাওয়া বন্দর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার পর কমিশনার একই ধরনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই সময়ও তিনি টহল টিমগুলোকে সতর্ক থাকতে এবং অভিযানের সময় অস্ত্রধারী কাউকে দেখামাত্র গুলি চালানোর অনুমতি দিয়েছিলেন।

তবে ঐ সময় ওয়্যারলেস বার্তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অমি দাশ নামে এক পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া বার্তা রেকর্ড ও প্রকাশের অভিযোগে মামলা করা হয়।

জনমনে আতঙ্ক, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কড়া অবস্থান

চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক গুলির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও সিএমপি বলছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। কমিশনারের নির্দেশনার ফলে নগরজুড়ে চেকপোস্টে বাড়তি তল্লাশি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নির্দেশ পুলিশের সাহসিকতা ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিলেও এমন ব্রাশফায়ার নির্দেশ মানবাধিকার আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তবে প্রশাসনিকভাবে সিএমপি কমিশনারের বার্তা স্পষ্ট—চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের আর কোনো জায়গা দেওয়া হবে না।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

চট্টগ্রামে ‘দেখামাত্র গুলি’ নির্দেশ সিএমপি কমিশনারের

Update Time : ০৮:২৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

 

চট্টগ্রাম নগরীতে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের দমন করতে এবার কঠোর অবস্থানে গেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন—অস্ত্র হাতে দেখা গেলেই ব্রাশফায়ার করে হত্যা করতে হবে। মঙ্গলবার দুপুরে ওয়্যারলেস সেটের মাধ্যমে সিএমপির সব সদস্যকে এই নির্দেশ দেন কমিশনার, যা পরে তিনি গণমাধ্যমে নিশ্চিতও করেন।

সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা

ওয়্যারলেস বার্তায় কমিশনার হাসিব আজিজ বলেন, “অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও অপরাধীরা আবার চট্টগ্রামকে অন্ধকার জাহেলিয়াতের যুগে ফিরিয়ে নিতে চাচ্ছে। এটা আমরা কোনোভাবেই হতে দেব না। যদি প্রয়োজন হয়, এমন কয়েকজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে মেরে ফেলব, কিন্তু চট্টগ্রামকে আর অন্ধকারে ফিরতে দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে চট্টগ্রাম পরিণত হবে না। এজন্য যা যা করা প্রয়োজন, আমরা করব।” কমিশনারের এই বক্তব্যকে অনেকেই চট্টগ্রামজুড়ে সন্ত্রাস দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা হিসেবে দেখছেন।

শটগান নয়, এসএমজি ব্রাশফায়ার মুডে থাকবে’

সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে ১টার মধ্যে কমিশনার ওয়্যারলেসে একাধিকবার নির্দেশনা দেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন—
“শটগান হবে না, চায়না রাইফেলও বাদ, এখন এসএমজি ব্রাশফায়ার মুডে থাকবে।”

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, টহল টিমগুলো এসএমজি ছাড়াও শিশা শটগান, দুইটি গ্যাসগান ও টিম ইনচার্জের জন্য নাইন এমএম পিস্তল সঙ্গে রাখবে। একইসঙ্গে নগরীর স্থায়ী চেকপোস্টের সংখ্যা ৭ থেকে বাড়িয়ে ১৩টি করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

আত্মরক্ষায় আইনগত অধিকার দায়ভার কমিশনারের

বেতার বার্তায় কমিশনার পুলিশ সদস্যদের মনে করিয়ে দেন, দণ্ডবিধির ৯৬ থেকে ১০৬ ধারা পর্যন্ত আত্মরক্ষার অধিকার প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের আছে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, প্রয়োজনবোধে আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালানোর পর এর দায়ভার কমিশনার নিজেই বহন করবেন।

সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রেক্ষাপট

গত

নভেম্বর চট্টগ্রামের বায়োজিদ বোস্তামী থানার চালিতাতলী এলাকায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর জনসংযোগ কর্মসূচিতে ভয়াবহ গুলির ঘটনা ঘটে। সেদিন সিএমপির তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন বাবলা নিহত হন এবং এরশাদ উল্লাহ নিজেও গুলিবিদ্ধ হন। এর পরদিন একই এলাকায় আবারও গুলির ঘটনা ঘটে, যাতে আরও একজন আহত হন। এসব ঘটনায় শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সিএমপি সূত্রে জানা গেছে, এই ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলার পরই কমিশনার কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দেন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অস্ত্রধারী দল চট্টগ্রামের জননিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে না পারে।

আগেও হয়েছিল ‘দেখামাত্র গুলি’ নির্দেশ

এর আগেও, গত ১৩ আগস্ট আওয়ামী লীগের মিছিলকে কেন্দ্র করে অভিযানে যাওয়া বন্দর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার পর কমিশনার একই ধরনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই সময়ও তিনি টহল টিমগুলোকে সতর্ক থাকতে এবং অভিযানের সময় অস্ত্রধারী কাউকে দেখামাত্র গুলি চালানোর অনুমতি দিয়েছিলেন।

তবে ঐ সময় ওয়্যারলেস বার্তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অমি দাশ নামে এক পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া বার্তা রেকর্ড ও প্রকাশের অভিযোগে মামলা করা হয়।

জনমনে আতঙ্ক, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কড়া অবস্থান

চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক গুলির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও সিএমপি বলছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। কমিশনারের নির্দেশনার ফলে নগরজুড়ে চেকপোস্টে বাড়তি তল্লাশি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নির্দেশ পুলিশের সাহসিকতা ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিলেও এমন ব্রাশফায়ার নির্দেশ মানবাধিকার আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তবে প্রশাসনিকভাবে সিএমপি কমিশনারের বার্তা স্পষ্ট—চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের আর কোনো জায়গা দেওয়া হবে না।